• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

মেট্রোরেলে যাতায়াতে নগরবাসীর সুবিধা

নুর এমডি চৌধুরী, বার্তা বাংলাদেশ২৪.কম / ৯ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ঢাকা শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেল এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটি যাত্রীদের দ্রুত, নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী যাতায়াতের নিশ্চয়তা দেয়। যানজটমুক্ত পরিবেশে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হয়েছে।মেট্রোরেলে যাতায়াতের প্রধান সুবিধাসমূহ:

১. সময় সাশ্রয় ও গতিসড়ক পথের তীব্র যানজট এড়িয়ে মেট্রোরেল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে (সর্বোচ্চ ১০০ কি.মি./ঘণ্টা) চলাচল করে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র ৩৮ মিনিট।

২. আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণসম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনের দরজা এবং প্ল্যাটফর্মের দরজা একই সমতলে থাকে, ফলে ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই সহজে ওঠা-নামা করা যায়। এছাড়া প্রতিটি স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

৩. নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোচনারীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য একটি আলাদা কোচ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, তবে তারা চাইলে সাধারণ কোচেও যাতায়াত করতে পারবেন।

৪. প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের সুবিধাপ্রতিবন্ধী ও প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে স্টেশনগুলোতে রয়েছে লিফট, হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রশস্ত গেট, এবং ব্রেইল পদ্ধতির সুবিধা। পাশাপাশি বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের (যেমন ২৫% পর্যন্ত ছাড়) সুবিধাও রয়েছে।

৫. আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থাএমআরটি পাস (MRT Pass) বা র‍্যাপিড পাসের (Rapid Pass) মাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য এই পাসগুলোতে ছাড় বা ক্যাশব্যাকের সুবিধাও পাওয়া যায়।

৬. পরিবেশবান্ধব পরিবহনমেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুতে চালিত হওয়ায় এটি কোনো প্রকার কালো ধোঁয়া বা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে না, যা শহরের পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মেট্রোরেলে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে。 এছাড়া, মেট্রোরেল সেবায় বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা যাত্রীদের ভাড়া স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আওতায় মেট্রোরেলের সুবিধা ও সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:ভাড়ায় প্রবীণদের ছাড়: ৬৫ বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা যেকোনো রুটের মেট্রোরেল ভাড়ায় সরাসরি ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় পাবেন। ভ্যাটমুক্ত সেবা: সাধারণ টিকিটে ১৫% ভ্যাট মওকুফ সুবিধা আরও দুই বছর বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকিটের বাড়তি দাম থেকে যাত্রীরা সুরক্ষিত থাকবেন। নতুন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ: রাজধানীতে যানজট নিরসনে পাতাল রেল প্রকল্পসহ (এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫) মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ