ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
তিনি মূলত একজন প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। তিনি দুই দুইবারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, দুই দুইবারের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’-এর একজন সিনিয়র সদস্য ছিলেন।
উনার সাথে আমার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল ২০০১/২০০২ সালের দিকে। তিনি তখন স্পীকার। আমাদের গুনারীতলার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন আমাদের প্রফেসার বাড়ির সিরাজুল ইসলাম। তিনি আমার আব্বার আপন খালাতো ভাই। কাকা ছিলেন তৎকালীন সময়ে দুর্নীতি দুমন ব্যুরোর ডিপুটি ডিরেক্টর। কাকা বিয়ে করেছিলেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের পরিবারে।
বিষয়টি অবগত হয়ে আমি আমার স্ত্রীর সাভার বোর্ড স্কুলের শিক্ষিকা পদে চাকুরির জন্য একদিন আজিমপুরে কাকার বাসায় যাই। কাকা তখন বেঁচে নেই কাকী আছেন। তখন আমার চাচাতো মুফতি সফিকুল ইসলাম কাকার বাসায় থেকে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর অধিনে পড়াশোনা করে লালবাগে।
মুফতি সফিকুল ইসলাম চাচাতো ভাই কাকীর বাসায় আমাকে নিয়ে যায় এবং পরিচয় করিয়ে দেয়। আমাকে পেয়ে ছেলের মত অনেক আদর করলেন কাকী এবং সেদিনই উনারও কাজ থাকায় সুবাধে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের কাছে নিয়ে গেলেন।
এপ্লিকেশন সাথে ছিলোনা। নীলক্ষেত থেকে তারাহুরা করে কম্পিউটারে কোন রকম একটা এপ্লিকেশন রেড়ি করে কাকীর সাথের গেলাম। যথারীতি কাকী ব্যারিস্টার সাহেবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। উনার একান্ত সচিব খালেকুজ্জামান সাহেবের হাতে চাকুরির এপ্লিকেশনটা দেওয়া ছিল। ভাগ্য মন্দ হলে যা হয় এপ্লিকেশনে আমার স্ত্রীর স্বাক্ষর ছিলোনা। আর স্বাক্ষর নেই দেখে তিনি ফেরত দিলেন বললেন, স্বাক্ষর নিয়ে তারপর এসো।
পরদিন স্বাক্ষর নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি ছিলেন না। উনার একান্ত সচিব কথা বললেন, তারপর রেকোমেন্ডেড করলেন
this application recommended by the Honerable spker Jamiruddin sarkar
লিখে পক্ষে সাইন করে দিলেন একান্ত সচিব মহোদয়।
অনেক ভদ্র ও বিনয়ী তিনি। রাজনৈতিক অংগনে বর্ষিয়াণ নেতা, দেশের রত্ন আজ আমরা হারালাম। আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসীব করুন। আমিন