যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা মিমকয়েনে বিনিয়োগ করা প্রায় ১০ লাখ মানুষ সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩৮০ কোটি (৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন) ডলার হারিয়েছেন। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ন্যানসেন এর বরাত দিয়ে এনডিটিভি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলা হয়, জুন মাসের শেষ নাগাদ মিমকয়েনের প্রতি তিনজন ক্রেতার মধ্যে দু’জনই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমন ক্রিপ্টো ওয়ালেটের সংখ্যা ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৫টি।
গত শুক্রবার টোকেন লেনদেন হয়েছে ১ দশমিক ৭৬ ডলারে যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালুর পর ৭৫ দশমিক ৩৫ ডলারের সর্বকালের সর্বোচ্চ দর থেকে ৯৭ শতাংশ কম।
এই লোকসান সত্ত্বেও মিমকয়েন থেকে ট্রাম্প নিজে আয় করেছেন প্রায় ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তার বার্ষিক আর্থিক প্রকাশনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে সব ব্যবসা মিলিয়ে ট্রাম্প প্রায় ২২০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন বলেও প্রতিবেদটিতে দাবি করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একজন ক্রিপ্টো ব্যবসায়ী নিকোলাস পিন্টো পিন্টো জানান, তিনি এই মিমকয়েনে প্রায় ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে অর্ধেক অর্থ হারিয়েছেন।
এই মিমকয়েনটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছিল যে, প্রতিবার এটি কেনাবেচা হলেই ট্রাম্প ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেন ফি হিসেবে অর্থ পেতো। পিন্টোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি জনগণের আস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই টোকেনের প্রচার চালিয়ে ট্রাম্প বহু অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি একে ‘প্রায় একটি আইনি প্রতারণা’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
তবে সমর্থকদের ঠকিয়ে ট্রাম্প মুনাফা করেছেন এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে’ পরিণত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সব পদক্ষেপ আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে গৃহীত।’ ন্যানসেনের তথ্যে আরও দেখা গেছে, প্রায় ৫০ লাখ ওয়ালেট সম্মিলিতভাবে ৪০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে।