• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

পাঁচটি নিয়ম মেনে মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করলেই আপনি পেতে পারেন অসম্ভাবনাময় সফলতা

রিপোর্টারের নাম / ১৭১ জন দেখেছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০২৫

যে পাঁচটি কারণ মেনে মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করলে একজন তেলাপিয়ার চাষী চাষে পেতে পারেন অসম্ভাবনীয় ফলন।

বিষয়গুলি কি?
বিষয়গুলি কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমরা প্রত্যেকটি খামারী এই কাজগুলো প্রতিনিয়তই করে থাকি। প্রশ্ন হচ্ছে যদি প্রতিনিয়তই করে থাকি তবে কেন আশানুরূপ সাফল্য মাছ চাষে আসেনা।
একসময় এটা আমাদেরও প্রশ্ন ছিলো। কেননা এতো ভালোমানের পোনা সরবরাহ করার পরও একই গাড়িতে তিনজন খামারির পোনা ডেলিভারি হলে একই পোনা তিনজন চাষি চাষ করার পর দেখা গেলো কেউ পেলেন বাম্পার ফলন। কেউ আশানুরূপের চেয়েও কম কেউ আবার নিরাশ হলেন মাছ চাষে।
আমাদের পর্যবেক্ষণ টীম দীর্ঘদিন রিচার্স করে দেখলেন বাম্পার ফলন পেতে ভালো জাতের পোনার যেমন বিকল্প নেই তেমনি বাম্পার ফলন পেতে একজন খামারিরও কিছু নিয়ম মানার বিকল্প নাই।
আসুন কি সেই পাঁচটি নিয়ম যা মানলেই যদি বাম্পার ফলন আসে তাহলে আর বসে আছি কেন। হ্যা প্রিয় খামারী ভাই ও বন্ধুরা:
আমরা বাংগালীরা বড়ই অলস প্রকৃতির মানুষ। আর এই অলসতার জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত মাছ চাষে সমূহ সম্ভাবনা গুলোকে পদদলিত করছি বারবার আর সীজন শেষে দেখছি শুধু ঋন আর ঋনের বোঝা।
মাছ চাষে সাফল্যের জন্য যে পাঁচটি কারণ মেনে চলা অত্যাবশকীয় আর তা হলোঃ
ক) আপনার পুকুরের গভিরতা বিশেষ করে তেলাপিয়া মাছের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ ফিট এর মধ্যে আছে কিনা নিশ্চিত করুন। বিশেষ করে নার্সারী পুকুরের চারপাশ অবশ্যই নেট দিয়ে ঘেরাও করতে হবে। চারপাশ আগাছা মুক্ত রাখা, সাপ, ব্যাঙ এর প্রভাব যেনো না ঘটে খেয়াল রাখা নার্সারী পুকুরে কোন ধরনের রাক্ষসে মাছ বিশেষ করে বোয়াল, শৈল, টাকি এই সব মাছ কোন ভাবেই না রাখা ইত্যাদি।

খ) নার্সারী পুকুর তৈরীর পূর্বে অবশ্যই পুকুর শুকিয়া মাটি চাষ দিয়ে নিবেন তারঃপর পানির পিএইচ অবশ্যই চেক দিবেন। চুন আনুপাতিক হারে ছিটাবেন পুরাতন পুকুর হলে শতকে দেড় থেকে দুই কেজি হারে চুন দিবেন। চুন দেওয়ার তিন/চার দিন পর পোনা মজুত করবেন। মজুত এর পরিমান অবশ্যই শতাংশে নার্সিং এর জন্য ২৫০০-৩০০০ পিচ কোনক্রমেই এর বেশি দেওয়া যাবেনা। আর চাষের জন্য প্রতি শতকে তেলাপিয়া দিবেন ১৮০ পিচ অন্যান্য মাছ ২০ পিচ।

যেদিন নার্সারী পুকুরে পোনা মজুত করবেন সেদিন টোটালি কোন খাবার দিবেননা। পরের দিন রোদের সময় খাবার দিবেন হ্যাচারি পাউডার। যা এক লাখ পোনাকে প্রতিদিন ৩-৪ কেজি করে হ্যাচারী পাউডার বাতাসের অনূকূলে দাঁড়িয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিবেন। যদি কখনও দিনভর বৃষ্টি থাকে সেদিন আর কোন খাবার দিবেননা। একসপ্তাহ পর এক কেজি হারে পাউডার বাড়িয়ে দিবেন। পনের দিন পর অবশ্যই মাছের ওজন মাপবেন এবং আপনি যে হ্যাচারী থেকে পোনা সংগ্রহ করেছেন তাদের সাথে পরামর্শক্রমে খাবারের মাত্রা নির্ধারণ করবেন।
ঘ) অবশ্যই পোনা সংরক্ষণের পূর্বে বিশেষ করে তেলাপিয়ার পোনাটা ভালো জাতের কিনা নিশ্চিত করা অত্যাবশকীয়। এবার একটু বেকায়দায় ফেলে দিলাম তাইনা। হ্যা প্রিয় খামারী ভাই ও বন্ধুরা, মহান রাব্বুল আলামিন জমিনে জোড়ায় জোড়ায় অনেকগুলো জাত পাঠিয়েছেন। জাতিগত ভাবে আমরা যেমন মানুষ জাতি। আমাদের কথাই যদি বলি, যে পরিবারের ছেলেটা বেটে অর্থাৎ লম্বায় সর্ট আমরা তার জন্য কি করি পরবর্তী জেনারেশন যাতে বেটে না হয় এর জন্য একটা লম্বাচুড়া কন্যা খোজি।
অনুরুপভাবে মাছও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। মানুষের যেমন জাত তেমনি মাছেরও অসংখ্য জাত আছে। এবার আসুন জাত আপনি কিভাবে নির্বাচন করবেন।
নিশ্চয়ই এটাও বড় কঠিন কাজ আমি অসীকার করছিনা। তবে অসাধ্যকে সাধ্যে আনতে পারেনি এমন ইতিহাসও মানুষ জাতির কাছে বিরল।
আমরা সমাজ সংসারে অর্থবিত্তে নানান রকমের মানুষরা পাশাপাশি বসবাস করে আসছি সেই যুগযুগ। এখন যদিও কিছু মেগা শপিংমল বের হয়েছে আগে কিন্তু এরকম ছিলোনা। ছোট বড় ধনী দরিদ্র সবাই একই বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রী ক্রয় করতো। প্রশাধনীর কথা যদি বলি, ধরুন ‘বাটা’ সেই যুগযুগ ধরে আমরা এর গুনগত মান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। যে কেউ চোখ বন্ধ করেই বলতে পারে বাটা, এপেক্স এরা মানে অতুলনীয়। এই সব পণ্যের দামও তুলনামূলক বেশি। ভালো জিনিসের দামটা একটু বেশি এটা আমরা সকলেই জানি সকলেই মানি।
অনুরুপ মৎস্য চাষের মত এত বড় একটা সেক্টর যাকে বলে ভাতে মাছে বাংগালী। বাংগালী ভাত না খেলেও মাছ ছাড়া যে চলেনা এ কথা অসীকার করার কোন উপায় নেই। সুতরাং আমরা যেহেতু জানি, নদী মাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ। যদিও একসময় নদী, খাল বিল ভরা মাছ আর মাছ ছিল আজ কিন্তু তার একাংশও নেই। দেশের প্রায় সকল মাছ আমরা পাচ্ছি কৃতিমভাবে চাষের মাধ্যমে।
এখন আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যারা খামারি তারা জানেন যে, মনোসেক্স তেলাপিয়ার উন্নত জাতের পোনা কোন কোন কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে। যদিও একটা বড় চক্র এই মনোসেক্স তেলাপিয়ার নাম ভাংগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খামারি ভাইদেরকে ঠকিয়ে আসছে। বলে মনোসেক্স আদতে মনোসেক্স এর ‘মও’ থাকেনা। আর আমাদের চাষি ভাইদের মধ্যেও অংসখ্য লোভী চাষি আছেন দামে কম দেখতে সাইজে বড় এমন পোনার সন্ধান পেলেও যেন ব্যকুল হয়ে যায়। অথচ এই জাতীয় পোনাগুলো বাচ্চা দিতে দিতে সমস্ত পুকুরের কানায় কানায় মাছের ঢল বহায় আদত বড় হবার কিংবা কাবার উপযোগী এ মাছ কোনদিনই হউএ উঠেনা। অথচ খাবারের যে দাম ভালো কিছু পাবার আশায় আশায় খামারিগণ দিনের পর দিন লাখ লাখ টাকার খাবার দিয়ে যাচ্ছে আর বছর শেষে মিলছে মস্তবড় ঋনের বোঝা।
আমি চাষি ভাইদের এই জায়গা থেকে এই চক্রের জাল থেকে বেরিয়ে আসতে বছরের পর বছর সতর্ক করে এসেছি। দিনের পর দিন লেখালেখি করেছি করে যাচ্ছি।
আজ আমি এমন একটা হ্যাচারির কথা বলবো। যার সাথে আমি গবেষণা মূলক ভাবে কাজ করেছি দীর্ঘ বছর। এটা এমন একটা প্রতিষ্ঠান যার সাথে দেশের প্রায় সকল জেলার বড় বড় খামারি ভাইয়েরা নিবিড় ভাবে জড়িত। নীরবে দেশে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কোটি মাছ সরবরাহ করে চলছে এই হ্যাচারী সেই ২০০৬ সাল থেকে। মৎস্য খাতে এদের অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে।
হ্যাচারিটির নাম বললে আপনি যদি একজন সচেতন খামারি হয়ে থাকেন নিশ্চয়ই চিনে যাবেন। একতা সুপ্রিম তেলাপিয়া হ্যাচারি। হ্যাচারীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান একজন পরহেজগার মানুষ এবং মনোসেক্স তেলাপিয়ার জগতে বলা যায় সেরা এবং প্রথম। কি ভাবছেন? বেশি বলে ফেললাম। না ভাই বেশি বলি নাই, বরং উনার সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। উনি এমন একজন টেকনিশিয়ান যিনি দীর্ঘ ১৬ বছর আমেরিকানদের সাথে থেকে ইউনাইটেড গ্রুপের একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান চীফ হিসেবে কাজ করে অবশেষে ২০০৬ সালে নিজ উদ্যোগে এককভাবে বর্তমান ২৪০ একর জায়গার উপরে নির্মান করছেন সুবিশাল সুবিস্তীর্ণ দৃশ্যপটে মনোসেক্স হ্যাচারি একতা সুপ্রিম তেলাপিয়া হ্যাচারি।
হ্যাচারির অপূর্ব বৈশিষ্ট্য হলো একদম কোয়ালিটিফুল পোনা দিবে তারা ঠিক ২৮ দিন কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫ দিন হরমোন ট্রিটমেন্ট করে পরীক্ষা পূর্বক ৯৮-১০০℅ মনোসেক্স নিশ্চিতকরণ করে উন্নত পরিবেশে একদম তাপহীন পরিবেশে নিজস্ব এসি মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেট কারে করে পোনা সরবরাহ করে থাকেন।
এই হ্যাচারির সাথে উতপ্রুত ভাবে জড়িত থেকে দেখেছি হ্যাচারিতে প্রচুর পোনা উৎপাদন হচ্ছে কিন্তু এরপরও চাহিদার কোন কমতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী তারা ডেলিভারি দিতে প্রতি বছরই হিমশিম খায়। কারণ ভালো মানের পোনার চাহিদা থাকবে এটাই স্বাভাবিক এটাই সত্যি। শুধু ভালোমানের পোনা বললে কিছু কম বলা হয় আমি যতটুকু জানি তারা কোয়ালিটির সাথে কম্পিটিশনে বিজনেস করে। কিন্ত দামেও সাশ্রয়ী।
এতে করে পোনা ক্রয়ে খামারীদের যে পরিমান টাকা সাশ্রয় হয়ে থাকে তা দিয়ে বেশদিন ফিড় খাওয়ানো যায় আর চার মাস পর যদি সেই মাছটা ৩-৪ টায় কেজিতে আসে এবং এদের গ্রেডিংটা এতোটাই সুন্দর থাকে যে মাছগুলো প্রায় দেখছি ৩-৪ টার মধ্যেই কেজি হয়।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঝ বেলাল উদ্দিন দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে তাদের আমিষের ঘাটতি পূরণে অপরিহার্য ভূমিকা বলি অনদান বলি কিংবা মহানুভবতা যাই বলিনা কেন তিনি তার উন্নত মননশীলতা প্রদর্শন করে স্বল্প মূল্যে উন্নত জাতের মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা সরবরাহ করে আসছেন। আপনি চাইলে তাদের এই নাম্বারে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানতে পারেন। 01745 44 67 55 অথবা 01942 11 10 03
ঙ) আর অবশ্যই বাজারের ভালো মানের কোম্পানীর পাউডার/ ফিড নির্বাচন করতে হবে। আমার দীর্ঘদিন এর অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি টংওয়ে খাওয়াতে পারেন। এর কার্যকারী ক্ষমতা বাজারের অন্যান্য ফিড কোম্পানির তুলনায় অপ্রতুল্য। শুরুতে এক লক্ষ পোনার জন্য তিন/চার কেজি পাওডার প্রতিদিন মিনিমাম তিন বেলা খাওয়াতে হবে। ২৫ থেকে ৩০ দিন পর ওজন দিয়ে দেখবেন কেজিতে ১০০/১২০ পিচ এসেছে কিনা। অবশ্যঅ ভালো জাতের পোনা ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই ১০০ থেকে ১২০ টায় কেজি হবে। তখন পুকুরে গুনেগুনে ট্রান্সফার করবেন এবং কোন ক্রমেই শতাংশে ১৮০ পিছ এর বেশি তেলাপিয়া দিবেননা। সাথে অন্যান্য দিতে পারবেন ২০ পিচ।
বর্তমান বাজারে অসংখ্য অসৎ মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিয়তই ফাঁদ পেতে বসে আছে যাদের নীরব প্রতারণায় স্বীকার হয়ে দেশের অসংখ্য সহজ সরল চাষী ভাইয়েরা একেবারে সর্বস্ব হারিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে কেউকেউ দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তাই আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করে বলবো, যে কোন কাজ করতে গিয়ে আপনি সে কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে আগে অবগত হউক জানুন বুঝুন তারপর স্বীদ্ধান্ত নিয়ে আস্তে আস্তে এগুন দেখবেন সফলতা নিশ্চিত আপনার দোয়ারে ঘুরছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ