ক’দিন যাবত আওয়ামীলীগ এর তস্কর নেতারা বেশরমের মতো সামাজিক মাধ্যমে এসে লাইভে তাদের পালানোর বানোয়াট করুণ গল্প, তাদের ত্যাগের কাহিনী জানানোর পায়তারা করছে। ‘২৪ এর অভ্যুত্থান জাতীর চোখ খুলে দিয়েছে, এখন তারা জানে এসব গল্প ৯৯% মিথ্যা।
ক্ষমতায় থাকতে জনতার সাথে এদের কোন সম্পর্কই ছিলো না। এলাকার এমপি, জনসমর্থন থাকলে এলাকার জনগণই তাদের প্রতিরক্ষা দিতো। ভোট ছাড়া রাজনীতি করে এরা একেকটা বিষবৃক্ষ হয়ে গিয়েছিলো। ত্যাগী, পরিশ্রমী, মেধাবীদের বাদ দিয়ে বসন্তের কোকিলিদের সাথে নিয়ে এরা কাউয়া লীগ বানিয়েছিলো। টাকার বিনিময়ে দলের পদ-পদবী বেচতো।
২৪ এ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দেখে এরা পালিয়েছে সিঁদেল চোরের মতো রাতের অন্ধকারে। দুর্নীতি বাটপারি করে দেশের ব্যাংক-বীমা খালি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তারা ইহকালের স্বর্গ বানিয়ে নিয়েছিলো। পরকালের বেহেশত ও হুরের আশায়, নিজের সন্তানকে হাফেজ বানাতে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছে। দলের ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ধার্মীক লেবাস ধরেছিলো।
রাজনৈতিকভাবে আবর্জনায় পরিনত এরা এখন কেঁচোর মতো মাটি খুড়ে জেগে উঠেছে। এই রাজনৈতিক আবর্জনায় ভরা দুর্নীতিবাজ চোরদের দিয়ে এই দল কখনো কি মানুষের কাছে ফিরতে পারবে? জনগণের আস্থার জায়গাটা এরা নিজেরাই ধ্বংস করে দিয়েছে।
বৃদ্ধ বয়সে জেলের ভয়, ইন্টারপোল লেলিয়ে দেবার হুমকিকে উপেক্ষা করে, একেবারে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, বলতে গেলে এক রকম ঘোষণা দিয়েই, বিদেশে চিকিৎসা শেষে, দেশের মাটিতে পা রাখলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। আর উনার চেয়ে অপেক্ষাকৃত তরুন বয়সেও দেশ থেকে পালিয়ে লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে বসে বসে যারা দেশপ্রেমের জয়গান গায়, এরা সুযোগ সন্ধানী। নিজে আর তার পরিবার কে সেইফজোনে রেখে বিলেতের মাটিতে প্রতিদিন সরকার হটানোর নামে যে তথাকথিত বিক্ষোভ করছে, তার খেশারত প্রতিদিন দেশে থাকা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দিতে হচ্ছে।
এসব ভন্ডামী বাদ দিয়ে দেশে আসেন। এখন সময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করার, দেশে এসে লক্ষ কোটি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পরিস্থিতি একসাথে মোকাবেলা করেন। তাহলে বুঝা যাবে দেশপ্রেম আর শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপনারা কতটা আপোশহীন। অন্যথায় আপনারাই আসল দালাল, বাটপার, আওয়ামীলীগের অর্জিনাল ডেভিল।
জেলের ভয়ে যদি দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকা লাগে, তাহলে আপনি কিসের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, যেখানে বঙ্গবন্ধু নিজেই তার রাজনীতির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৩ বছর জেলের অন্ধকার প্রকোষ্টে কাটিয়ে দিয়েছে, সেখানে আপনার এত ভয় কিসের? জেল-জুলুম, হামলা-মামলাতো রাজনীতিরও একটা অংশ। জেলকে ভয় করলে রাজনীতি আপনার জন্য না।
জনগণের হক মেরে সম্পদের পাহাড় গড়ে আয়েশে লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক আর হোয়াইট চ্যাপলের পঞ্চখানা রেষ্টুরেন্টে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আপনাদের দেশ উদ্ধারের এ নাটক যে ভন্ডামী, সেটা তৃণমুল কর্মীরা বুজে গেছে।
এদের জন্য পরামর্শ, আগে চোরমুক্ত কাওয়ামুক্ত লীগ বানান। তারপর কথা বলেন। নিজেদের মুখে নিজেরা কালি মেখেছেন, আর লক্ষ কোটি সৎ ও পরিশ্রমী সমর্থকদের সামান্য মুখ দেখানোর জায়গাও রাখে নাই।