• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:

জাতীয় বৃক্ষমেলায় কবিতাপাঠ, দ্বিতীয় দিন, দ্বিতীয় পর্ব || কামরুল হাসান

রিপোর্টারের নাম / ১৮৬ জন দেখেছে
আপডেট : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫

জাতীয় বৃক্ষমেলায় কবিতাপাঠের আয়োজন পরিণত হয়েছে শোকপ্রকাশের অনুষ্ঠানে। মাত্র দুদিন আগে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান কেড়ে নিয়েছে ত্রিশের অধিক শিশুর প্রাণ, আগুনে ঝলসে দিয়েছে আরও অর্ধশতাধিক ‍শিশুকে। যখন আমাদের বোধের বৃক্ষ টলায়মান, এসেছে আতঙ্কের ঋতু, যখন ফুলের মতো শিশুরা দগ্ধ, এবং প্রকৃতি রোরুদ্যমান- এমন শোকাচ্ছন্ন সময়ে বৃক্ষ ও ঋতু, পুষ্প ও প্রকৃতি নিয়ে কবিতা পড়া যায় না। কবিরা পড়লেন শোকের কবিতা, তাদের কথামালায় ঝরে পড়ল ক্ষোভের আগুন।

পরের বক্তা রিমা চিশতির কথায় এই আগুনই ফুটে উঠল। তার ক্ষোভ যেমন নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাসীনদের প্রতি, তেমনি ভর্ৎসনা আমাদের নিশ্চুপতা ও নিস্ক্রিয়তার প্রতি। তার জিজ্ঞাসা আমরা কি চুপ করে থাকব, আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? সে চাইল আমরা যেন ঘরে বসে শোকপ্রকাশ না করে বাইরে এসে জোরালো প্রতিবাদ করি। সরকারের কাছে জবাব চাই দুর্ঘটনার কারণ কী? কয়টি বিমানের ফিটনেস আছে সে তথ্য সরকার যেন আমাদের জানায়। সে সবগুলো যানবাহনের ফিটনেসের তথ্যও দাবী করল। আসলে বিমান দুর্ঘটনাটি মানুষের মনে এত বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে যে এসব দাবী এখন যৌক্তিক মনে হয়। উপরন্তু করদাতা নাগরিকদের অধিকার আছে তাদের করের টাকা কোথায়, কীভাবে এবং কেন খরচ হচ্ছে তা জানার। রিমা প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠে জানাল সে আর ‘কাতর কবিতা’ লিখতে চায় না। ‘এখন কবিতা পড়ার সময় নয়’ বলে রিমা যে কবিতাটি পড়ল সেটি ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করা এক বালকের মর্মান্তিক ঘটনাপ্রসূত।
আমি এ পর্যন্ত যে কয়টি কবিতা শুনলাম সেগুলো সম্পর্কে আমার সাধারণ অভিমত হলো ক্ষোভকে কবিতায় রূপ দেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। কবিতাগুলো নিটোলভাবে শুরু হলেও বর্ণনা আর কথোপথনের দীর্ঘ ফিরিস্তির মধ্যে পড়ে গিয়ে কাব্যিক গুণ হারায়।
আজ এ শোকসভায় পুরুষের চেয়ে নারীর উপস্থিতি জোরালো। মঞ্চেআসীন তিনজনই অবশ্য পুরুষ। ‘এখানে আমাদের কী কাজ’ ভঙ্গিমায় তারা বসে আছেন, তাদের দৈহিক ভাষা শিথিল, দাবদাহে পোড়া দিনটির উত্তপ্ত আবহাওয়া তাদের ক্লান্ত করে রেখেছে। প্রায়শই দেখি তারা ডুবে গেছেন স্মার্টফোনের চলচ্ছবিময় দুনিয়ায়। উপস্থাপক নিল হাসান একজন সুদর্শন যুবক, তিনি প্রয়োজনীয় কাজটি ঠিকই করে যাচ্ছেন। বারংবার মঞ্চে উঠছেন নাম ঘোষণার জন্য। এবার তিনি ডাকলেন আয়শা জাহান নূপুরকে। নূপুর একজন শিক্ষক, তিনি পড়ান মনিপুর স্কুলে। তার কথামালার শুরুটা ছিল ভিন্নধরণের। স্কুলে প্রতিদিন যে রিচুয়ালটি মেনে চলা হয় ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় পতাকার নিচে সমবেত হয়ে শপথ নেয়, সমস্বরে জতীয় সঙ্গীত গায়, শিক্ষক হিসেবে তিনি তা প্রত্যক্ষ করেন। কল্পনা করা কঠিন নয় সেইদিন মাইলস্টোন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় পতাকার নিচে সমবেত হয়ে সমস্বরে শপথ নিয়েছিল ‘আমি বাংলাদেশকে সেবা করব’ ; তারা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিল, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। সোনার শিশুরা দেশকে সেবা করার অনেক অনেক আগেই ঝরে পড়ল। আয়শা জাহান নূপুর পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্য একটি ইংরেজি গল্প Fire Fighter এর উল্লেখ করে বললেন, পঞ্চম শ্রেণির অগ্নিদগ্ধ শিশুরা ফায়ার ফাইটার হবার আগেই ফায়ারে ভস্মীভূত হলো! এ বেদনা আমরা কোথায় রাখি?
আমাদের আজকের আসরে সবচেয়ে সিনিয়র হলেন কবি আবদুর রাজ্জাক। কবিতামগ্ন মানুষটি কোনো কথামালার ভেতর গেলেন না, সরাসরি চলে গেলেন কবিতাপাঠে। তার কবিতা অনুসরণ করা কঠিন। যে দুটি পঙক্তি আমার শ্রবণে ধরা পড়ল সেগুলো হলো ‘নীলনদ ব্যতীত সকল নদী একদিকে ধায়’ এবং শেষ পঙক্তি ‘তোমার জন্মান্ধ চোখ শুধু আমাকে দেখে, নদী দেখে না’। চমৎকার দুটি পঙক্তিই বলে দেয় আবদুর রাজ্জাক জাতকবি। এ কবিতার সাথে অবশ্য আজকের আবহের কোনো মিল নেই। এরপরে যিনি এলেন তিনি স্বল্পপরিচিত। খায়রুল আলম একটি ছড়াজাতীয় লেখা পাঠ করলেন।
নিল হাসান এরপর আমাকে মঞ্চে আহবান জানালে আমি গতকাল সকালে দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ ফোন করে মাইলস্টোন ট্রাজেডির উপর একটি লেখা চাইবার ঘটনাটি উল্লেখ করলাম। হঠাৎ করেই তার মনে পড়েছে আমি একজন বিমান প্রকৌশলী, সুতরাং আমি পারব দুর্ঘটনাটির কারিগরি দিকের উপর আলোকপাত করে তার সাথে মানবিকতার দিকটি মিলিয়ে একটা লেখা প্রস্তুত করে দিতে। গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আমার টানা দুটি ক্লাস ছিল, সবমিলিয়ে তিনঘণ্টা। স্বয়ং সম্পাদক চেয়েছেন, আমি কী করে তাকে ফেরাই? ক্লাসের আগে ও পরে মিলে লেখাটা প্রস্তুত হলো শেষ বিকেলে যা আজ কালের কণ্ঠের উপসম্পাদকীয় পাতায় মুদ্রিত হয়েছে ‘দায়িত্ব ও মানবিকতার ঘোরতর বিপর্যয়’ শিরোনামে। আমি বলি, প্রতিটি বিমান অত্যন্ত দামী, বিধ্বস্ত হওয়া মানে দেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি। প্রতিটি পাইলট দেশের শীর্ষ তালিকার মেধাবী সন্তান। তাদের মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। কেবল আমরা দরিদ্র বলে পুরনো লক্করঝক্কর মার্কা ও বাতিল হয়ে যাওয়া বিমান দিয়ে প্রশিক্ষণ চালিয়ে মূল্যবান প্রাণ ও উড়োযান ধ্বংস করব- এটা মূর্খতা ও বিবেচনাহীনতার পরিচয়।এখন যে প্রশ্নটি বড়ো হয়ে উঠছে তা হলো- কেন একটি অতিরিক্ত জনবহুল নগরীর মাথার উপর ফাইটার বিমানের প্রশিক্ষণ চলে? কারা এসব আত্মধ্বংসী সিদ্ধান্ত দেয়?
আবদুল হালিম খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আজীবন প্রগতিশীল, বামমতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষটিও একজন শিক্ষক। তার স্ত্রীও একজন শিক্ষক। দুই কন্যা এবং এক জামাতাও শিক্ষক। বস্তত তার গোটা পরিবারই শিক্ষকতার সাথে যুক্ত। স্বভাবতই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তার কণ্ঠে গভীর সমবেদনা ঝরে পড়ল। কবি ও কথাসাহিত্যিক নূরকামরুন নাহার এসেছেন কিছুটা বিলম্বে। ফলে তাকে ডাকতেও হলো শেষের দিকে। শিশুদের করুণ মৃত্যু কান্নাভারাতুর করে তুলেছে মায়েদের। নূরকামরুন নাহারও একজন মা। তার মনে পড়ে গেল প্রথম সন্তানের জন্মের কথা, তার ভাষায় যে ‘দেবশিশু’র মুখ দেখে তিনি স্বর্গীয় সুখ পেয়েছিলেন। তখনো তিনি ছাত্রী। তরুণী মায়ের কোল জুড়ে এসেছিল শিশু। তার সেই ‍শিশুটি এখন বিদেশে উচ্চতর পড়াশোনা করছে। মাইলস্টোন ট্রাজেডির বিবরণ শুনে ও ছবি দেখে সে বিচলিত হয়ে দেশে চলে আসতে চেয়েছে। বাংলাদেশ ছেড়ে কখনো কোথাও যেতে চাননি নূরকামরুন নাহার, এমনকি চাননি তার সন্তান দেশ ছেড়ে বিদেশে থাকুক। এখন, এইসব অভাবনীয় দুর্ঘটনা, সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়া দেখে তার মনে হয়েছে সে কি তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে বলবে, ‘তুমি বিদেশেই থেকে যাও, বাবা। এদেশে এসো না?’ সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা দিয়ে শুরু করা নূরকামরুন নাহার প্রশ্ন রাখলেন, ‘আমরা কি এ পৃথিবীকে আমাদের শিশুদের জন্য বাসযোগ্য করে যেতে পারছি?’ নূরকামরুন নাহারের বক্তৃতা ছিল আবেগপূর্ণ আর তা হওয়াই স্বাভাবিক।
মঞ্চে অনেকক্ষণ ধরেই উসখুস করছেন সভাপতি কবি নাসির আহমেদ, কেননা ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘর পেরিয়েছে আর তাকে সাড়ে সাতটার ভেতর (পত্রিকা) অফিসে যেতে হবে। অথচ তখনো কবিতা পড়ার অপেক্ষায় কেউ কেউ। কাজল আক্তার তরুণ কবি। নূরকামরুন নাহারের মতো তার পরিধানেও বৃক্ষের সবুজ রঙ। আজ হঠাৎই আনন্দের সবুজ বদলে গিয়ে বেদনার কালো হয়েছে অনুষ্ঠানের রঙ। কাজল প্রথমদিনের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিল। কোনোরকম কথামালার ভেতর না গিয়ে সে সরাসরি একটি কবিতা পড়ল যে কবিতার ভেতর নদী রয়েছে। কবিতার শেষ পঙক্তি হলো ‘আমার দুকূল ভেঙে গেছে’।
জাতীয় বৃক্ষমেলায় কবিতাপাঠের আয়োজন করে ইতিহাসরচনাকারী কবি রোকেয়া ইসলাম আজকের অনুষ্ঠানের বদলে যাওয়া প্রকৃতির পটভূমি শ্রোতাদের জানালেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নগর কৃষি ফাউন্ডেশন ও এর চেয়ারম্যান ওমর হায়দারকে কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানে সহযোগী হওয়ার জন্য। বললেন, আজ সমগ্র বাংলাদেশই traumatized ; এ দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে আমাদের বহুদিন যাবে, ক্ষত শুকাবে না। আজ আমরা যে একত্রিত হয়ে শোকপ্রকাশ করতে পারছি সেটা একটা স্বস্তি। আমাদের কান্নার স্রোত ঘুরে যাক প্রতিবাদের দিকে।
আহত ও নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার দাবী তুললেন কবি রোকেয়া ইসলাম। আজ ঘুরেফিরে যে আত্মত্যাগী মহান শিক্ষকের নাম বক্তাদের মুখে ফুটল তিনি মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক মাহরীন চৌধুরী, নিজের জীবন দিয়ে যিনি কুড়িটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বক্তারা, যারা মূলত কবি ও লেখক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মনি হায়দার প্রথমেই স্মরণ করলেন আজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের জন্মদিন। যতই দিন যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের এ মহান নেতা ততই গৌরবমণ্ডিত হয়ে উঠছেন তাঁর অসামান্য আত্মত্যাগ, নির্লোভ জীবনযাপন ও প্রগাঢ় দেশপ্রেমের জন্য। মনি হায়দার বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের এ সহচরকে স্মরণ করে তার কথামালা শুরু করলেন। তার মনে হয়েছে আজকের এই উদ্ভিদ পরিবেষ্টিত এলাকাটি পরিণত হয়েছে শোকারণ্যে, শোকে থৈ থৈ করছে চারিদিক। ফাইটার জেটের পাইলটের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে তার মনে পড়ল বেসামরিক বিমান চালাতে গিয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করা কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের কন্যা লারার কথা; প্রথম নারী বৈমানিক কানিজ রোকসানা ফাতেমার কথা। আগামী বছরগুলোতে এ আয়োজনে শুধু কবিতাপাঠ নয়, গান যুক্ত করার একটি প্রস্তাব তিনি রাখলেন।
সবশেষে সভাপতির ভাষণ দিতে উঠলেন কবি নাসির আহমেদ। তিনি জসীমউদ্দীনের অমর কবিতা ‘কবর’ এর একটি পঙক্তি উদ্ধৃত করে বললেন, এমন কিছু শোক আছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মাইলস্টোনের ঘটনায় সে রাতে তার ঘুম আসেনি। টিভি পর্দায় দেখা ছবির ভয়াবহতা তাকে ঘুমাতে দেয়নি। তার মনে হয়েছিল ঢাকার বুকে কেয়ামত নেমে এসেছে। ছটফট করতে করতে ভোর সাড়ে চারটায় তিনি একটি কবিতা লিখে ফেলেন। উপস্থিত শ্রোতাদের তিনি সেই কবিতাটি পড়ে শোনালেন। ছান্দসিক কবি তিনি, তার কবিতায় সেই ছন্দের দোলা পেলাম যা শোককে বিধূর আর ক্ষোভকে উত্তাল করে।
প্যান্ডেল ছেড়ে আমরা, রোকেয়া ইসলামের নেতৃত্বে, প্রশিকার স্টলের দিকে এগুই। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই ততক্ষণে চলে গেছে, কেউ কেউ, যেমন সভাপতি, চলে গেলেন রাতের অফিসে (সংবাদপত্র)। আমি বিমান প্রকৌশলী জেনেই হয়তো, কিংবা এ নিয়ে নিবন্ধ লিখেছি জেনে কবি বাবুল আনোয়ার যেতে যেতে আমার সাথে যুদ্ধবিমান নিয়ে অনেক কথা বললেন। তার জ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করে, বুঝতে পারি তিনি এসব বিষয়ে আগ্রহী এবং খোঁজখবর রাখেন। আমার মনে পড়ে গেল লন্ডনের সেই বাড়িটির কথা যার প্রতিটি তলায় আমি যুদ্ধ আর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অজস্র বই, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র দেখেছিলাম। সেটা ১৯৯২ সাল। তখন লন্ডনে পিএইচডি গবেষণা করছিলেন অধ্যাপক ডা. মানজারে শামীম। তিনি ওই বাড়িতে সাবলেট থাকতেন। আর বাড়িটি ছিল একজন সাংবাদিকের (War Journalist), যার সবকিছুই যুদ্ধ নিয়ে । একজন সাংবাদিকের পড়াশোনার বহর আমাকে রীতিমতো বিস্মিত করেছিল।
আড্ড, চা-পান, ছবি তোলা চলতে থাকে। রাতও বাড়তে থাকে নিয়ম মেনে। ধীরে কমে যায় উপস্থিতির সংখ্যা। আবদুল হালিম খান ও আমি টানেলের মতো সরু বারান্দা দিয়ে হাঁটতে থাকি মেলায় এক চক্কর দেবার অভিপ্রায়ে। ক্রেতাহীন একটি সময়ে সম্ভাব্য ক্রেতা ভেবে দোকানিগণ আমাদের দোকানের দিকে টানার চেষ্টা করে। আমরা কোনো আহবানে থামি না, দেখে চলি গাছের চারা, ফুলের টব, বৃক্ষ সার, বৃক্ষ থেকে আহরিত মধুর বোতল এবং আরও কত কী! আসবাব দেখে মনে পড়ল এরাও তো বনভূমির সন্তান, বৃক্ষের আপন পেটের বিষ। হালিম খান ও আমার ছবি তুলে দেয় আকবর। যে হালিম ভাই একটু আগেই সখেদে জানিয়েছিলেন রিমা চিশতি তাকে না-বলে চলে গেছে, সেই রিমাই ফোন করেছে। তিনি ফিরে গেলেন প্রশিকার তাঁবুতে, আমি ৩৬০ ডিগ্রি পরিক্রমাটি অব্যাহত রাখি। পৃথিবী গোলাকার বলে আবার এসে পড়ি প্রশিকায় আর আবিস্কার করি অধ্যাপক দীপুকে। বেরুবার মুখে, আমাদের আপ্যায়ণ করতে সদাই সচেষ্ট চাপাই-নবাবগঞ্জের ছেলে আকবর তিন গ্লাস আমের রস নিয়ে আসে। উত্তপ্ত দেহে সে ফলরস শান্তির বারতা ঢেলে দেয়। ভাবি, গরমে চা এক নচ্ছার পানীয়, বিস্কিট অখাদ্য।
গেটের বাইরে বেরিয়ে এসি দেখি রোকেয়া ইসলাম ও নূরকামরুন নাহার স্ব স্ব বাহনে চড়ার জন্য প্রস্তুত। হালিম খান ও রিমা চলে যায় চীনমৈত্রীর দিকে, আমাকে ও নূপুরকে তার প্রশস্ত যানে তুলে নেন রোকেয়া ইসলাম, যার বাহনে সদাই কিছু ফাঁকা সিট থাকে পথ থেকে উদ্বাস্তু তোলার জন্য। আমাদের তিনজনের অভিন্ন গন্তব্য মিরপুর!
(সমাপ্ত)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১