শহর বন্দী জীবন ছুটির দিন এলেই মনে হয়, আহা! একটু দূরের কোথাও যদি বেড়িয়ে আসতে পারতাম! কিন্তু সংসার জীবনের টুকিটাকি নানা কাজের ঝামেলা আর সংকীর্ণ সময়ে দূরের কোথাও যাওয়া হয়ে উঠেনা।
অথচ মন ভালো করতে সবসময় দূরের কোনো পর্যটনকেন্দ্রে ছুটতে হয় না। রবীন্দ্রনাথ যথার্থই বলেছিলেন,
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।
আমরা সবসময়ই দূরের কোথাও ঘুরে আসতে পছন্দ করি। অথচ ঢাকাবাসীদের জন্য ঢাকার বুকেই রয়েছে সবুজে ঘেরা পার্ক, ইতিহাসের সাক্ষী, জাদুঘর ও স্থাপনা আবার শহরের একটু বাইরে গেলেও মিলবে নদীর হাওয়া আর খোলা আকাশ। তাই একদিনের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন কাছের যেসব গন্তব্যে।
১. রমনা পার্ক: ঢাকার রমনা এলাকায় অবস্থিত রমনা পার্ক শহরের মধ্যেই সবুজ পরিবেশে হাঁটাহাঁটি ও কিছুটা সময় শান্তিতে কাটানোর জন্য ভালো জায়গা।
২. চন্দ্রিমা উদ্যান: শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যানের লেক, সবুজ গাছপালা ও খোলা পরিবেশ বিকেলে ঘোরার জন্য বেশ আকর্ষণীয়।
৩. হাতিরঝিল: ঢাকার রামপুরা ও তেজগাঁও এলাকার মধ্যে অবস্থিত হাতিরঝিলে লেকের পাড়ে হাঁটাহাঁটি, খোলা আকাশ ও সন্ধ্যার পরিবেশ উপভোগ করা যায়।
৪. জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান: মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে নানা ধরনের গাছপালা ও সবুজের মাঝে সময় কাটানো যায়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি ভালো একটি গন্তব্য।
৫. দিয়াবাড়ি: উত্তরার দিয়াবাড়ির খোলা পরিবেশ ও বিকেলের আবহ বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী।
৬. বলধা গার্ডেন: পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকায় অবস্থিত বলধা গার্ডেন ঐতিহাসিক একটি উদ্ভিদ উদ্যান। বিভিন্ন ধরনের গাছপালার পাশাপাশি এখানকার পুরোনো স্থাপত্যও দেখার সুযোগ রয়েছে।
৭. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতিহাসের স্মৃতি ও সবুজ পরিবেশ—দুইয়ের স্বাদ একসঙ্গে পাওয়া যায়।
৮. বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর: শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরে দেশের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে।
৯. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আলোকচিত্র, দলিল ও বিভিন্ন স্মারক দেখতে পারেন।
১০. বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর: বিজয় সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে দেশের সামরিক ইতিহাস ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে।
১১. আহসান মঞ্জিল: পুরান ঢাকার কুমারটুলিতে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল ঢাকার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। জাদুঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুরান ঢাকার পরিবেশও উপভোগ করা যায়।
১২. লালবাগ কেল্লা: পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের ইতিহাস ও স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
১৩. পানাম নগর: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত পানাম নগর পুরোনো স্থাপনা ও ইতিহাস দেখতে আগ্রহীদের জন্য দারুণ জায়গা। এর পুরোনো ভবনগুলো ভ্রমণে যোগ করে আলাদা আবহ।
১৪. বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর: সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত এই জাদুঘরে বাংলার লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কারুশিল্প সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে। পানাম নগরের সঙ্গে একই দিনে ঘুরে দেখা যায়।
১৫. মেঘনা নদীর পাড়: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে সময় কাটানো যায়। নদীর বাতাস ও বিকেলের সূর্যাস্ত ছোট ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে।