• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:

লেখক নুর এমডি চৌধুরীর স্মৃতিময় অতীত এবং বর্তমান

রিপোর্টারের নাম / ১৫৬ জন দেখেছে
আপডেট : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নুর এমডি চৌধুরী পেশায় একজন কবি ও সাহিত্যিক। তিনি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানাধীন ঐতিহ্যবাহী গুনারীতলা গ্রামের উত্তর পাড়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম আবুল কাশেম সরকার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। মা সমর্তন ভান ছিলেন একজন গৃহিণী। কবি নুর এমডি চৌধুরী পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মাঝে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ।
বাবা একজন পরহেজগার দিনদার এবং আলেম হিতৈষী মানুষ ছিলেন। তৎকালীন সময়ে গুনারীতলায় তিনটি ইসলামিক বিদ্যাপীঠ ছিল, কওমী মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা এবং হাফেজিয়া মাদ্রাসা। একটা হাইস্কুল আর ছিল একটা প্রাইমারী স্কুল। বাবার ইচ্ছানুযায়ী দ্বীন এলেম শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ছোট ছেলে নুর এমডি চৌধুরীকে কওমী মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন।
কিন্তু তার সহপাঠী কামাল মাতাব্বরে ছোট ছেলে প্রয়াত নুর ইসলাম ভর্তি হয় আলিয়া মাদ্রাসায়। তৎকালীন সময়ে কওমী মাদ্রাসা আর আলিয়া মাদ্রাসা দু’টোই পাশাপাশি থাকায় বন্ধুর প্ররোচণায় একদিন কবি নুর এমডি চৌধুরী কাওমী মাদ্রাসায় না গিয়ে আলিয়া মাদ্রাসায় যান এবং সারাদিন ক্লাস করেন। খবরটা যথারীতি কওমী মাদ্রাসার কতৃপক্ষ বাবা আবুল কাশেম সরকারের কানে দেন।
কবি নুর এমডি চৌধুরী সারাদিন ক্লাস শেষে বিকেল বেলায় বন্ধুর সহিত হাসিখুশি মনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথি মধ্যেই বাবার সাথে দেখা। প্রথমেই ধমকের স্বরে বাবা বলেন, এই দাঁড়া। দাঁড়াতে বলা আর বন্ধু নুর ইসলামের এক দৌড়ে পালানো। এবার বাবার কড়া ধমক, এই শারামজাদা তোরে কি আমি আলিয়াতে যাইতে কইছিলাম? ভীতসন্ত্রস্ত স্বরে মাথা নাড়িয়ে, না। তোর মা’ বলছে? মাথা নাড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে, না। কে কইছে তোর বড় ভাই? একবারও কান্নায় মাথা নাড়িয়ে, না। তাহলে ক্যান গেলি আলিয়াতে?
কঞ্চি দিয়ে অমনিই অমারম পিটুনী একের পর এক। আর যাবি কোনদিন। না আর যাবোনা বলতেই বাবার আদেশ, ধর দশবার কান ধরে উঠবস কর। শাস্তিটার কথা সারাজীবন মাথায় রেখে বাবার প্রতিটি হুকুমকে দায়িত্বের সাথে পালন করে গেছেন কবি নুর এমডি চৌধুরী।
এরপর থেকে সোজা কওমী মাদ্রাসায় রীতিমতো পড়াশুন শুরু। যখন কওমীতে ক্লাস টু’তে উঠলেন বড় ভাইয়ের ইচ্ছায় এবং বাবার সম্মতিক্রমে গুনারীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে গিয়ে ভর্তি হলেন কবি নুর মোহাম্মদ। ১৯৮৫ সালে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাপন করে গুনারীতলা হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি।
এ সময় তার সহিত তার অনেক বন্ধুরাও ভর্তি হয়। জামালপুর সদর থেকে আসা গুনারীতলা বাজারের ব্যবসায়ী প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক মেম্বারের শেলক আলাল হোসেন, পূর্ব পাড়ার আবুল কাশেম সরকারের ছেলে মামুনুর রহমান, বাজারের আক্তারুজ্জামান লেবু, মহসিনা আক্তার, পূর্ব পাড়ার আজিজুল হক, শেখ ফরিদ, মেয়েদের মধ্যে হেলেনা পারভীন, উত্তর পাড়ার আব্দুল হক সরকারের মেয়ে আম্বিয়া আক্তার, মিন্টু সরকার, মুন্সী বাড়ির (প্রয়াত) আব্দুল ওয়াহাব, সামছুন নাহার লিপি, পশ্চিম পাড়ার, শিউলী আক্তার, মধ্যপাড়ার তাসলিমা কান্তা, মীরা, (সদ্য প্রয়াত) মরহুম আব্দুর রাজ্জাক, আবুল কাশেম, ডাক্তার বাড়ির ইয়াকুব আলী, প্রফেসার বাড়ির হুমায়ুন কবির, শেফালী আক্তার, পশ্চিম পাড়ার শিউলী, মধ্যপাড়ার রাজিয়া কানিপাড়ার আবুল কাশেম, লাবলু ও ফারজানা এবং আরও অনেকে।
কবি ও সাহিত্যিক নুর এমডি চৌধুরী স্কুল জীবন পার করেছেন অনেক আনন্দ আহল্লাদেই। ভলি বল খেলা ফুটবল খেলা ছিল তার প্রিয় খেলা। ভলিবল খেলাতে যিনি উদবুদ্ধ করেছিলেন তিনি তার শ্রদ্ধেয় মামাতো ভাই তৎকালীন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত সিফেন্সারদের মধ্যে ভলিবলে বাংলাদেশের সেকেন্ড প্লেলেয়ার ছিলেন তিনি। দেশ বিদেশ থেকে যিনি দেশের মাটিতে সুনাম বয়ে এনেছেন তিনিই গুনারীতলা দারোগা বাড়ির কৃতি সন্তান মোহাম্মদ আলী ফরহাদ। তিনি ছিলেন কবি নুর এমডি চৌধুরী এর ভলিবল খেলার আইডল।
যার অনুপ্রেরণা পেয়ে ফুটবলার হয়েছিলেন একজন মুরুব্বি প্রাক্তন ফুটবলার এলাকার কৃতিমানন প্রাক্তন কৃতি ফুটবলার জনাব (প্রয়াত) আলিমুজ্জামান তালুকদার। সম্পর্কে দাদা হন। তিনি যথেষ্ট উৎসাহ দিয়ে তার মনোবলকে সবসময় চাংগা রেখেছিলেন।
খেলার মাঠে যাদের সর্বাধিক সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে ডাক্তার বাড়ির জুয়েল ভাই, বাজারের আব্দুর রাজ্জাক মেম্বার, মধ্যপাড়ার জহুরুল মিলেটারী এবং আরও অনেকের।
ছাত্র জীবনে কবি নুর এমডি চৌধুরী ভালো একজন আর্টিস্ট ছিলেন যার কাছে তিনি চির কৃতজ্ঞ তিনি ( প্রয়াত) আসাদুজ্জামান আসাদ স্যার যিনি সবিশেষ গুনারীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। কবি নুর এমডি চৌধুরীর খুব সুন্দর হাতের লেখা ছিল। এর জন্য যার কাছে চির কৃতজ্ঞ তিনি জনাব সালাহউদ্দিন তালুকদার লিচু।
নুর এমডি চৌধুরী ছোট বেলা থেকেই শান্ত ভদ্র নম্র বিনয়ী আচরণের অধিকারী ছিলেন। আর এর জন্য তিনি যে সকল ব্যক্তিদের অনুসরণ করতেন অনুকরণ করতেন তাদের মধ্যে তার আপন মামাতো ভাই জনাব জাহিনুর ইসলাম জাহিন, আরেক মামাতো ভাই ফায়জুল ইসলাম লাঞ্জু, ডাক্তার বাড়ির কবীর আহম্মেদ হুমায়, উত্তর পাড়া মুন্সী বাড়ির প্রয়াত হারুন অর রশিদ অন্যতম। তিনি তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া কালীন সময়ে তিনি পাঠ্যপুস্তকের প্রতি যতটা আসক্ত ছিলেন ততটাই আসক্ত ছিলেন অন্যান্য ধর্মীয় বইগুলোতেও। বুখারী শরীফ, আবুদাউদ শরীফ, মেশকাত শরীফ, তিরমিজি শরীফ, বেহেশতের জেওর, তকদিরের বিশ্বাস বিশেষ করে বাংলা সাহিত্যের প্রতি তার অনুরাগ ছিল সেই ছেলেবেলা থেকেই। বিশিষ্ট মনিষীদের কাব্যগ্রন্থ রীতিময় পড়তেন। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সমগ্র, শরৎচন্দ্রের উপন্যাস, বিশেষ করে বংকিমচন্দ্র চট্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের প্রতি তার পরম আসক্তি ছিল।
তৎকালীন সময়ে নব্বই দশকে রেডিওতে “ছোট্ট সোনামণিদের কবিতার আসর” নামে সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ছিল তিনি নিয়মিত সেই অনুষ্ঠানটি শুনতেন এবং পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নিজের লিখা কবিতা পাঠাতেন প্রায় সময়ই সে সব কবিতা রেডিওতে প্রচার করা হতো।
কবি নুর এমডি চৌধুরী তিনি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র তখনই থেকেই ছোটগল্প লিখতে শুরু করেন। নিজ হাতে প্রায় ত্রিশ পাতার একটি ছোটগল্প লিখে বন্ধুদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। বন্ধুদের পাশাপাশি বড়দেরও মন কেড়েছিলেন গল্পটিতে।
১৯৮৯ সাল। তিনি তখন গুনারীতলা হাইস্কুলে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণীতে পদার্পন করেছেন। হঠাৎ একদিন আলিয়া মাদ্রাসার সুপার উনাকে ডেকে বললেন, তোমাকে দুই কপি ছবি দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে সুপার বলেন, প্রতি বছরই আমার মাদ্রাসার রেজাল্ট নিল যাচ্ছে। অনেক মাসের বেতন আটকা পড়েছে এবার যদি নিল যায় তবে আর মাদ্রাসাই টিকবেনা। তাই এলাকার মুরুব্বিরা তোমার বাবা সহ পরামর্শ দিয়েছেন ভালো ভালো স্টুডেন্ট নিয়ে নিজ খরচে রেজিষ্ট্রেশন করাতে বই পুস্তকও কিনে দিতে।
মাদ্রাসার অবস্থানের কথা ভেবে শিক্ষকদের বেতনের কথা চিন্তা করে পরীক্ষা দিতে সম্মত হলেন তিনি। যথারীতি ১৯৮৯ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশও নিলেন এবং কৃতিত্তের সহিত ৫৯৭ নাম্বার পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেন। এদিকে সামনের বছর তার এসএসসি পরীক্ষা। তাও আবার উচ্চতর গণিত নিয়েছেন। স্বপ্ন তার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। প্রস্তুতি চলছে বেশ ভালোও। যথারীতি এসএসসির ফরম ফিলাপ হলো। ফাইনাল পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হলো। ভালোভাবেই পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। শেষের পরীক্ষাটা ছিল উচ্চতর গণিত। তিন দিন কি চার দিনের গেপ ছিল।
পরীক্ষার আগে তিনি মুন্সি বাড়ির কৃতি ছাত্র সম্পর্কে উনার কাকা হন হারুন কাকা তার কাছে উচ্চতর গণিত প্রাইভেট পড়তেন। সে সুবাধে সাজেশন নিতে একদিন সন্ধ্যা বেলা কাকার কাছে গেলেন। সাজেশন নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছিলেন মুন্সি বাড়ির মসজিদের সামনে দিয়েই যাতায়াতের পথ। মসজিদটির চারপাশে বাড়িঘরকিছুই ছিলনা কয়েকটা কবরস্থান ছিল আর অনেকগুলো ছিল বাঁশের ঝাড়।
মসজিদের একটু সামনে আসতেই বিকট একটা শব্দ হলো তিনি চীৎকার দিয়ে উঠলেন। আশেপাশে কেউ নেই। মনে হলো তার উপর বাঁশের পুরো ঝাড়টি ভেংগে পড়ছে। জীবন মরণ সন্ধিক্ষণের ন্যায় ভয় আর সাহস দুই-ই মিলেই দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ির উঠানে গিয়ে পড়ে যাওয়া আর জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়া। ঝাড় ফোক, পানি পড়া, তেল মালিশ থেকে শুরু করে মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে অবশেষে যদিও জ্ঞান ফিরেছিল ভয়টা তার অন্তরেই গেঁথে গিয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করা হলো। না করেও কোন উপায় ছিলোনা। উচ্চতর গণিত শেষ পরীক্ষা দুঃভাগ্য যে পরীক্ষাটা মোটেও ভালো হলোনা।
বন্ধু রাজ্জাককে এসেই বলেছিলেন আমি ফেল করবো। সে খুশি হয়েছিল মনে মনে কারণ সে ৯১ এর পরীক্ষার্থী ছিলো। বলেই দিয়েছিল দুস্ত ভালোই হবে একসাথে ফের দু’জনে পরীক্ষা দিতে পারবো। ১৯৯০ এর এসএসসি রেজাল্ট হলো সবাই ফেল। স্কুল নিল। জনাব নুর এমডি চৌধুরী জানান, বিষয়টি তিনি কোন ক্রমেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি জানতেন তার রেজাল্ট খারাপ হবে কিন্তু স্কুলের পুরো রেজাল্যযেখারাপ হবে তার জন্য মেনে নেওয়াটা ছিল কষ্টের।
বাবার ভয়ে তিনি প্রায় একমাস বড় বোনের বাড়ি পলাতক ছিলেন। বাবার মন মেজাজ যখন একটু স্বাভাবিক হলো তিনি বাড়িতে এলেন। পরবর্তী পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হুলস্থুল করে পড়ালেখা শুরু করলেন। এদিকে বন্ধু মামুন কবি নুর এমডি চৌধুরীর বাবার সাথে দেখা করে বুঝালেন, দাখিলের রেজাল্ট যা আছে মোটামুটি ভালই ঐ রেজাল্ট দিয়েই কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে।
মামুনের কথা শুনে বাবা তাকে ডাকলেন। তিনি বললেন দাখিলে তো আমি আর্স থেকে পাশ করেছি কিন্তু আমিতো সাইন্স নিয়ে পড়তে চাই।
সেকালের স্টুডেন্ট। খুব সাদাসিধে মন ছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ তারা। জামালপুর জেলাটা যেমন দরিদ্রতার নীচে ছিল অবস্থান ঠিক তেমনি ছিলো শিক্ষার হারও অতি নগণ্য। বন্ধুর কথামত জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে ভর্তি ফরম তুলেন সাইন্স বিভাগ থেকে।
এডমিশন টেষ্ট এর জন্য ডাকা হলো। জনাব নুর এমডি চৌধুরীর সেদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে গিয়ে প্রথমে হেসে উঠেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে কেন জানি কেঁদেও ফেলেছিলেন। আসলে জীবনের উত্থান আর পতনের স্মৃতিগুলো এমনই হয়ে থাকে হাসির অন্তরালে কান্না।
এডমিশন টেষ্ট শুরু হয়েছে। জনাব নুর এমডি চৌধুরীকে ডাকা হলো রোমে। তিনজন স্যার বসে আছেন। প্রথম স্যার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেছ? উত্তর দিলেন, মানবিক বিভাগ থেকে স্যার। মানবিক বিভাগ থেকে পাশ করেছ এপ্লাই করেছোতো বিজ্ঞান বিভাগে এটা কি করে সম্ভব। তুমি বিভাগ লিখতে কি ভুল করেছ? না স্যার? পাশের আরেকজন স্যার অবাক হয়ে প্রশ করলেন, তাহলে? হাউ ইট পসেবল?
পাশে যিনি ছিলেন আরেক স্যার মৃদু হাসি হাসলেন বললেন, আচ্ছা বলতো পানির যোজনী কি? তিনি দিব্বি বলে দিলেন H2O ফের প্রশ্ন করলেন স্যার, যোজনী কাকে বলে? স্যার, অণু গঠনকালে কোন মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের কোন পরমাণু যুক্ত হবার সামর্থ্যকেই যোজনী বলে।
স্যারটা রীতিমতো অবকই হচ্ছেন। আচ্ছা, এবার বলোতো সুপ্ত যোজনী কাকে বলে? কোন মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর মধ্যে পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলে।
স্যার তিনজনই এবার একটু সিরিয়াস হলেন কিছুটা অবাকও। জানতে চাইলেন, খুলে বলতো ব্যাপারটা কি? কবি নুর এমডি চৌধুরী যখন সত্যটা সত্যটা খোলে বলেছিলেন স্যারগণ পরামর্শ করে যথারীতি বলে দিলেন, সরি ব্রেক অব স্ট্যাডি আমরা আসলে এলাউ করিনা। জেলা শহরের নামকরা কলেজ আশেক মাহমুদে আর এডমিশন নেওয়া হলোনা। ফিরে গেলেন গ্রামে এবং বাবার আদেশক্রমে মাদারগঞ্জ উপজেলার এ এইচ জেড় সরকারি কলেজে মানবিক শাখায় ভর্তি হলেন তিনি।
ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তিনি আশেক মাহমুদ কলেজে বিএ এডমিশন নিলেন। যথারীতি ১৯৯৪ সালে বিএ পাশ করলেন। পরে তিনি জামালপুর ল’ কলেজে ভর্তি হন। পাশাপাশি এমএ ভর্তি হন বাংলায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে।
১৯৯৭ সালে তিনি ডিইপিজেড এর ইয়াংওয়ান কোম্পানিতে সহকারী অফিসার হিসেবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ দুই যুগ দেশের নামকরা কয়েকটি কোম্পানিতে দক্ষতার সহিত কাজ করে ২০১৯ সালে সবিশেষ এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার পদে থেকে চাকুরী হতে অব্যাহতি নেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে মনোনিবেশ করেন এবং ব্যবসার পাশাপাশি লেখালেখির কাজ পুরোদমে শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাহিত্যাংগনে ব্যাপক সুপরিচিতি লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি বার্তা বাংলাদেশ ২৪ ডটকম অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক। তার যৌথ কাব্যগ্রন্থ: ভালোবাসার ভিন্ন ভিন্ন রঙ, পঙক্তি, তিনি সকালের শিরোনাম কলকাতার পত্রিকার নিয়মিত লেখক।
বর্তমানে তিনি মানবিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সংগঠনে কাজ করছেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত সংগঠন জাগো নারী ফাউন্ডেশনের বর্তমানে তিনি সেক্রেটারি জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত আছেন। তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তিনি বাংলাদেশ মানব কল্যাণ এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
ছোটবেলা থেকেই তিনি মানবিকমনা মানুষ ছিলেন। ছাত্রজীবনে মানব উন্নয়ন সহযোগিতাকল্পে সানফ্লাওয়ার ছাত্র কল্যাণ সংসদ গঠন করেন এবং তিনি ছিলেন সেই সমিতির সভাপতি। পরবর্তী জীবনে চাকরির সুবাধে দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান এবং সংগঠনে নানান জটিলতা দেখা দিলে সেই সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি জামালপুরের কবি ও কবিতা সাহিত্য সংগঠনের আইন বিষয়ক সম্পাদক। ময়মনসিংহ সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি ঐতিহ্যবাহী গুনারীতলা হাইস্কুলের ৭৫ বছর পূর্তী অনুষ্ঠানের সম্মানিত সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে অনুষ্ঠানটিকে সার্বজনীন করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রশিকার চেয়ারম্যান ও নন্দিত কথা সাহিত্যিক রোকেয়া ইসলামের হাত ধরে বাংলা একাডেমির সদস্যপদ লাভ করেন। তার লেখালেখি বিশেষ করে কবিতা লেখার প্রতি অনুরাগ খুব বেশি। বিভিন্ন সেমিনার দেশী বিদেশী সাহিত্য সম্মেলনে যোগদান তথা কবিতা পাঠ করে অসংখ্য সনদ অর্জন করেন কবি নুর এমডি চৌধুরী । তার অসংখ্য ছোটগল্প যেমন,প্রায়শ্চিত্ত, বৃদ্ধাশ্রমের জননী, হেমামালিনী, দাফন, ছাত্রধরা, মানবতার সেকাল একাল, চোর, যুদ্ধ ও জীবন ৭১, লম্বা চুলের বিডম্বনা, পোষ্ট মাস্টার ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে নানান পত্র পত্রিকায়।
তার লেখা শত কবিতার মধ্যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কবিতা সমূহ: সব ক’টা জানালা খুলে দাওনা, কান্নার চারণভূমি, জীবন চারিধার, নির্মুল হয়নি দালাল, দেয়াল, মায়া, দুঃখ। সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে কবিতা একটি বক্তৃতা দিতে হবে, একাত্তর দেখিনি চব্বিশ দেখেছি, দেশটা এক বটবৃক্ষের ছায়াতলে ইত্যাদি। এবারের ২০২৫ এর বই মেলায় থাকছে একক গল্পগুচ্ছঃ ছোট ছোট দুঃখ কথা। কবিতা সমগ্রঃ নীল শ্রাবণ। তিনি ঢাকার মিরপুর কাজিপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারে একছেলে মা ও সস্ত্রীক ১৯৯৭ সাল থেকে ঢাকায় পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ঢাকার মিরপুর কাজিপাড়ায় ফ্লাট কিনে স্থানীভাবে বসবাস করে আসছেন গুণী এই কবি নুর এমডি চৌধুরী। তার ব্যক্তিগত জীবনে সকলের কাছে তিনি দোয়া প্রত্যাশা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১