ভুমিকম্প সম্পর্কিত কিছু তথ্য এবং সতর্কতা || তাহমিনা শিল্পী
রিপোর্টারের নাম
/ ৫৬
জন দেখেছে
আপডেট :
রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
শেয়ার
কম মাত্রার যে ভূমিকম্পগুলো হচ্ছে, সেগুলো মূলত বিপদসংকেত। আবার আফটার শকও হতে পারে। তবে,বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীরবে সরে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ প্লেট। এবং এই প্রক্রিয়া চলমান আছে। ফলত, ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি হওয়ার মতো যে শক্তি ভূতকের মধ্যে জমা হয়ে আছে, সেই শক্তিটা বের হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি আগামীকালও হতে পারে, আবার ৫,১০, ২০ অথবা ৫০ বছর পরেও হতে পারে।
বাংলাদেশ কম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হলেও ঝুঁকির দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে কেননা, ভূমিকম্পের ‘রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে বাংলাদেশ! তারউপর আমরা নানারকম অব্যবস্থাপনায়, প্ল্যান বহির্ভূত বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করে এই ঝুঁকি আরও ভয়ংকরভাবে বাড়িয়ে দিয়েছি। উপরন্তু ভূমিকম্প এমন এক প্রাকৃতিক দূর্যোগ যার আগাম কোন আভাস নেই।
তো কী করবেন যখন ভূমিকম্প হবে? গতকালের মত হুড়মুড় করে বেরোবেন (আজ সন্ধ্যায়ও করেছে অনেকেই)। লম্ফঝম্ফ করবেন। তারপর হাত-পা,কোমর ভাঙবেন। আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাবেন। ব্যস, এইতো?
আরে ভাই বের হয়ে কোথায় দাড়াবেন? দাড়াবার মত ফাঁকা জায়গা কোথায় পাবেন? বড়জোড় বাড়ির সামনের রাস্তা, যা চওড়ায় ৬ ফিট বা ১২ ফিট। যার দুইপাশে উঁচু উঁচু দালান। তেমন জোরালো ভূমিকম্প হলে ডানের দালানটি পড়বে তার উল্টোদিকের দালানের উপর, উল্টোদিকের দালানটি পড়বে বামের দালানের উপর, আর বামেরটি পড়বে তার পাশের দালানের উপর। আর আপনি কোথায় থাকবেন বলেন তো? সম্ভবত সবগুলো দালানের নিচে। তাতে বেঁচে থাকবেন তো? বেঁচে থাকলেও কতটা সুস্থ থাকবেন?
সবকিছুই যখন সৃষ্টিকর্তার ইশারায় ঘটে। তখন যা বললাম, এসবের কোনটিই নিশ্চিত নয়, সম্ভবনা মাত্র। তবে ভয় তো আরও আছে, যেমন সিঁড়ি, বারান্দা, রেলিং, কার্নিশ বা সানসেট ভেঙে পড়ে সবার আগে। ছাদের নিশ্চয়তা নেই একেবারেই। উপরন্তু ছাদ গেলে কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয় এবং শারীরিক নানান অসুস্থতা তৈরি হয়। ঘরের ভিতরে বড়বড় আসবাব পত্র পড়ে যাবে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হতে পারে। গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে।
তাহলে উপায় কি? কী করবেন ভূমিকম্প হলে? ফেসবুক স্ক্রল করতে একটি লেখা পেলাম, শেয়ার করলাম। তখন ওই পরিস্থিতিতে কিছু করতে পারবো কি-না, আদৌ কিছু হবে কি-না জানি না। অন্ততপক্ষে একটু প্রস্তুতি ও চেষ্টা করতে পারি।
♦”দৌড়াবেন না, আশ্রয় নিন! “উপরের তলা (৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম) থাকলে মানুষ প্রায়ই সিঁড়ি ধরে নেমে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবতা নিচের তলা ভেঙে উপরের তলা পড়তে পারে। কম্পন শুরু হলে সিঁড়ি বা বারান্দায় যাওয়া বিপজ্জনক। বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না! সিঁড়িতে লোকের ভীড়, ধাক্কাধাক্কি, অন্ধকার – ৯০% মানুষ সিঁড়িতেই মারা যায় বা আহত হয়। Think Fast!
Drop–Cover–Hold On: বেডরুমে থাকলে খাটের নিচে, ড্রয়িং বা ডাইনিং-এ থাকলে মজবুত টেবিলের নিচে, কোনো আশ্রয় না পেলে দেয়ালের কোণে বসে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন! বারান্দায় যাবেন না—রেলিং ভেঙে পড়তে পারে বাথরুম নিরাপদ হতে পারে; বালতি উল্টো করে মাথার ওপর দিয়ে বসে থাকলে অনেকে বেঁচেছে! হেলমেট, বালতি, ঝুড়ি, ব্যাগ—যা খুঁজে পাবেন মাথার ওপর রাখুন।
যদি আপনি ১ম/২য় তলায় থাকেন (এটাই সবচেয়ে ভাগ্যবান): কম্পন শুরু হলেই দরজা খুলে রাখুন (দরজা জ্যাম হলে বের হতে পারবেন না) ১৫-২০ সেকেন্ডের মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নেমে রাস্তায় চলে আসুন কিন্তু রাস্তায় এসে বিল্ডিং-এর গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না – ১০০ ফুট দূরে সরে যান! ভবন ছেড়ে খোলা মাঠে চলে যান!
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে গেলে চিৎকার করবেন না—ধুলো ঢোকে, গলা শুকায়, হুইসেল থাকলে বাজান, না থাকলে দেয়ালে বা পাইপে ৩ বার টোকা দিন (আন্তর্জাতিক রেসকিউ সিগন্যাল) মোবাইল টর্চ অন রাখুন, কথা বলবেন না—ব্যাটারি বাঁচান,মুখে কাপড় চেপে ধরুন, ধুলো ঢোকা কমবে!
আজ থেকেই যা করবেন, বিছানার পাশে জুতা রাখুন, বেডের পাশে হেলমেট ও হুইসেল রাখুন, ভারী আলমারি, টিভি বা ফ্রিজের অবস্থান এমন রাখুন যাতে পড়ে গেলে আঘাত না হয়,গ্যাস সিলিন্ডার চেইন দিয়ে বেঁধে রাখুন, দরজা কখনো অটো-লক হবে না, চাবি কাছে রাখুন! ঢাকা, একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর, যেখানে ৫ থেকে ৭ তলার অ্যাপার্টমেন্টগুলো শহরের প্রধান আবাসন।
একটি লাইন মনে রাখুন: আমি ৪র্থ তলার উপরে – তাই আমি দৌড়াবো না, শুধু টেবিল বা বিছানার নিচে ঢুকবো। আমি যদি ১ম-২য় তলায় থাকি — প্রথম ২০ সেকেন্ডে বের হয়ে যাবো। প্রস্তুতি ছাড়া ঢাকায় ভূমিকম্প হলে বেঁচে থাকা ভাগ্যের উপর। প্রস্তুতি থাকলে বেঁচে থাকা ভাগ্যের হাতে।”