• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:

অধ্যাপক নওয়াব আলী সাহেবের সুকন্যা চন্দ্রশিলা ছন্দা || নুর এমডি চৌধুরী

রিপোর্টারের নাম / ১১১ জন দেখেছে
আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

গুণী শিক্ষক হোমিও চিকিৎসক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মানুষ গড়ার কারিগর ছিলেন অধ্যাপক নওয়াব আলী। নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ১৯৫৫ সালে নবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৭ সালে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রথম ব্যাচ হিসেবে ইন্টারমিডিয়েট পাস, ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং ১৯৬২ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি অসংখ্য কবিতা লিখেছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় স্বাধীনতা যোদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার বাড়িতে পাকবাহিনী আগুন ধরিয়ে দিলে সকল কিছুই ভস্মীভূত হয়ে যায়।

অধ্যাপক নওয়াব আলী কর্মজীবনের প্রথম দিকে ফরিদপুর রাজবাড়ি কলেজে বাংলা বিভাগে কিছুদিন শিক্ষকতা করে ১৯৬৩ সালে নবাবগঞ্জ কলেজে চাকুরি শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে নবাবগঞ্জ কলেজ জাতীয়করণ হলে ১৯৮১ সালে তিনি হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজে বদলি হন। ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি বিশেষ অনুরাগী স্বরুপ অসংখ্য কবিতা লিখে গেছেন তিনি।

নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রাক্কালে তাঁর কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসর্গ করে ‘আলোর প্রত্যাশা’ নামে কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজ তারপর ১৯৯১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে বদলি হয়ে আসেন এবং এখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর সুনাম এবং সাফল্যের সাথে শিক্ষকতা। করেছেন। মানুষ গড়ার কারিগর আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

কবিতার পাশাপাশি তিনি বেশ কটি নাটকও রচনা করেন এবং মঞ্চস্থ করেন। সেই নাটকে তিনি নিজে অভিনয় করে প্রশংসিতও হন। ভালো গান লিখতেন এবং রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন। তাঁর বাসায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় গানের আসর বসতো। রাজশাহী বেতারে ২৫ টি গান লিখে এক ছাত্রের মাধ্যমে পাঠান। কিন্তু দুঃখজনকভারে সেই গানগুলো গীতিকারের নাম ভিন্ন নামে প্রচার হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিজ বাড়িতে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, সেবা শুশ্রুষাসহ বারঘোরিয়ায় আটকে থাকা অনেক অসহায় মানুষদের আশ্রয় দিয়েছেন। হানাদারদের ১০০ জন বুদ্ধিজীবী হত্যার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কিন্তু তিনি অকুতোভয়।

গুণী এই শিক্ষক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর। তিনি ১৯৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘোরিয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। তাঁর পিতা কুড়ান আলী বিশ্বাস। তিনিও ছিলেন গুণী শিক্ষক এবং স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। গুণী এই শিক্ষকের ঘরকে আলোকিত করে জগতে আরেক গুনীর আগমন ঘটে। তিনি জন্ম দেন এক কন্যা সন্তান নাম রাখেন চন্দ্রশিলা ছন্দা। চন্দশিলা ছন্দা সে তার সাত ভাই বোনের মধ্যে পঞ্চম।

চন্দ্রশিলা ছন্দা একজন গুণী লেখিকা। জন্ম ১৬ই অক্টোবর ১৯৭০, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। পড়ালেখা স্নাতকোত্তর: আর্টস গ্রুপ। পিতা অধ্যাপক নওয়াব আলী, মাতা হামিদা আকতার বানু। বর্তমানে বসবাস মিরপুর ১৪, ঢাকা। ও শৈশব কেটেছে তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ছেলেবেলা থেকেই কবিতা, ছড়া লেখা শুরু। দেশ-বিদেশে নানান পত্রিকা, ও লিটল ম্যাগাজিনে ইংরেজি ও বাংলায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। কিশোর কবিতা গল্পের বই সহ মোট বারটি গ্রন্থ ও বেশ কয়েকটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। মুক্তমনা সাহিত্যের বলয়ে বড় হয়ে ওঠা। বাবা বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। এবং সাহিত্য সংস্কৃতি সেবীর কর্ণধার ছিলেন। তাঁর আরও তিনজন ভাই বোন সাহিত্য চর্চার সাথে জড়িত এবং তাদের প্রকাশিত গ্রন্থও আছে। সংসার জীবনে এসে কিছুসময় লেখালেখি থেকে বিরত থাকলেও এখন পুরোদমে লিখে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। লেখকের গ্রন্থসমূহ: ছি (কবিতা ২০১৪), ভালোবাসা দ্রোহে ভালোবাসা মোহে (কবিতা ২০১৫), স্পন্দনে তুমি (কবিতা, ২০১৫), ভালোবাসার বৃত্তে (গুচ্ছ গল্প ২০১৬), পরির সাথে এ মন মাতে (কিশোর কবিতা ২০১৬), দেহ ভাষ্কর্য (কবিতা ২০১৬), তিতলির ভালো কাজ (কিশোর গল্প গুচ্ছ ২০১৭), পুড়ছে দেখো জলের শরীর (কবিতা ২০১৮), যে আবেগে এঁকেছি চুমু (কবিতা ২০২১), বাংলাদেশের গল্প (কিশোর গল্পের বই) ২০২২, আমার আছে বিশাল আকাশ (কিশোর কবিতা), সবকিছু গল্প নয় (গল্প, ২০২৩)। জমা হয়ে আছে এখনো অগণিত লেখা, পাণ্ডুলিপি আকারে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি লিখেই যেতে চান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১