চিয়াংমাই, কিউজাই, কিং অব চাকাপাত, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও বারি-৪ এসব দেশি-বিদেশি আমের জাত। শিকারপুর গ্রাম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় অবস্থিত। এখানকার একজন কৃষক তার ধানি জমিতে প্রথমবারের মতো এইসব জাতের আমের চাষ করে এবং ফলনে বাজিমাত করেছেন কৃষক সুরুজ মিয়া। তার বাগান জুড়ে একন নানা জাতের রঙিন আমের মেলা।
১১০ শতক জমিতে মিশ্র ফলের চাষ। বাগানে আম চাষ ছাড়াও রয়েছে চায়না কমলা, কুল, মাল্টা, পেয়ারাসহ নানা জাতের ফল। এছাড়া তার বাড়ির উঠানের নার্সারিতে এসব ফলের চারা উৎপাদনের পর তা বিক্রির কাজো চলছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শিকারপুর গ্রামের ধানের জমির মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠের জমির কোণে ডোবার পাড়ে অল্প উচ্চতার আমের বাগান।
দখিনা বাতাসে দুলছে থোকায় থোকায় রঙিন আম। কোনো কোনো আমের ওজন এক কেজিও ছাড়িয়ে গেছে। সুরুজ মিয়া মনের আনন্দে প্রতিনিয়ত বাগান পরিষ্কার করেন এছাড়া পরিপক্ক ফল গাছ থেকে দেখে দেখে সংগ্রহ করেন। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কৃষকরা তার এই সফলতাকে বিস্ময় ভরে দেখেন আর বলেন, আহা কি রঙিন আমের পসরা গো।
এদিকে আম চাষে আগ্রহীরা তার বাড়ি থেকে রীতিমতো চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশী কৃষক সফিউল্লাহ ও মো. খোকন বলেন, এমন জাতের আমের নাম আগে শুনিনি। ধানের জমিতে তিনি ফলের চাষ করেন। জমির কোণায় ডোবা করে তার পাড়ে আম চাষ করেছেন। প্রথমে এটা দেখে আমরা হাসাহাসি করেছিলাম এখন তার সফলত দেখে নিজেরাই বিস্মিত হই।
তারা আরও বলেন, আমরাও আগামীতে এই আমের চাষ করবো। আম চাষি সুরুজ মিয়া বলেন, ইউটিওবে ভিডিও দেখে আমের চাষ শুরু করি। ধানের জমিতে ডোবার পাড়ে আমের চারা লাগিয়েছি। প্রথমে অনেকে পাগলামি বললেও ভালো ফলন দেখে তারাও এখন চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা আমার নার্সারিতে উৎপাদিত চারা নিয়ে লাগাচ্ছেন।
স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ মিয়া প্রবাসে ছিলেন। তিনি একজন উদ্যমী কৃষক। তাকে আমরা ফল চাষে আগ্রহী করে তুলি। অন্য কৃষকদের ফল চাষের কথা বললে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। আমরা তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে গেছি। তিনি কুলসহ বিভিন্ন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তার হাত ধরে শিকারপুর ফলের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আশা করছি এই গ্রামে কুলের সাথে আমসহ বিভিন্ন ফল চাষ আরও বাড়বে।