সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক চাপকে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি এবং কৌশলগতভাবে নিজেকে কতটা প্রস্তুত রেখেছেন এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হোয়াটা অস্বাভাবিকের কিছুনা কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ভারত দেশটির উপর দাদাগিরি করে আসছে।ইনশাআল্লাহ এবার চব্বিশ এর গণ অসভোত্থানের পর থেকে ভারতের দাদাগিরি বন্ধ হয়ে গেছে সম্পূর্ণরুপে। শুধু তাই নয় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশেষ করে সীমান্তে তথাকথিত ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা এবং ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্যের বিপরীতে বাংলাদেশ কোনো ধরনের উসকানিতে এখন পর্যন্ত পা বাড়াননি। যথাযথ বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের সাথে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের সুরক্ষায় অনড় অবস্থান বজায় রাখছে।
আমরা যদি নানা আংগিকে বাংলাদেশের এই প্রস্তুতি এবং বর্তমান প্রতিক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করি তবে কি দেখবো। হ্যা আমরা প্রথমেই দেখবো বাংলাদেশ সরকারের কৌশলগত বিচক্ষণতা। বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে দিল্লিকে জানিয়ে দিয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া (Verification Channels) অনুসরণ না করে সীমান্তে কোনো নাগরিককে পুশ-ইন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এই লক্ষ্যে বিজিবি এবং বিএসএফ-এর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ বর্তমান নিয়ম ও প্রটোকলের কঠোর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক জিরো লাইনে বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে ফেলে যাওয়ার ভারতীয় কৌশলকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিহত করছে।
দ্বিতীয় কূটনৈতিক দৃঢ়তা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য বাংলাদেশ সরকার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রেরণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পুশ-ইন সংক্রান্ত সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং যৌথ নদী কমিশনের প্রতিনিধি সংবলিত একটি শক্তিশালী ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে মোকাবেলা করছে। এবং কি অনিয়মতান্ত্রিক পুশ-ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক চিঠি ও নোট পাঠিয়ে জবাবদিহিতা দাবি করেছে।
তৃতীয়ত: বিজিবির কৌশলগত ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান তৈরীতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রেখেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ বা দেশটির উগ্রপন্থীদের উসকানিমূলক আচরণের মুখে বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সাহসী এবং কৌশলগত অবস্থানে সতর্ক রয়েছে। কোনো ধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব না দেখিয়ে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল। বিজিবি ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশ-বিরোধী অপপ্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি নাগরিক সমাজ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত সচেতন কিরে রেখেছে। অপপ্রচার রুখতে তথ্যের সঠিক যাচাইকরণের ওপর বাংলাদেশ সরকার যথাযথ জোর প্রস্তুতি রেখেছেন।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ উসকানির মুখে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌমত্বের অধিকারের ভিত্তিতে ভারতের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ তার বর্তমান অবস্থান ও কূটনৈতিক প্রস্তুতিতে যথেষ্ট সুসংহত।