জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের সময়কার একজন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিবিদ। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উদার মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত এই নেতা সবসময় এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন।তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলো মূলত কেটেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুরের মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জের জনপদে। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি সাহেবের পিতা আব্দুল হাই জামালী ছিলেন একজন সৎ ইউপি চেয়ারম্যান-সমাজসেবক এবং শিক্ষানুরাগি।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি সাহেব তার বাবার শেখানো জনসেবা ও মানবিক সকল কাজে উদবুদ্ধ হয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও নদীভাঙন কবলিত এলাকার বাস্তবতার মাঝে বেড়ে ওঠার কারণেই তিনি grassroots বা মাঠপর্যায়ের মানুষের এত কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন।তারুণ্যের পুরো সময়টা তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন ও এলাকার সামাজিক উন্নয়নে উৎসর্গ করেন। নিজ দলের রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে তার উদারতার ছাপ দেখা যায়। এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী, সবার কাছেই তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।সংসদের ভেতরে ও বাইরে এলাকার উন্নয়নে তিনি সোচ্চার। সম্প্রতি দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণসহ মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জের আধুনিকায়নে তার নানামুখী পদক্ষেপ ও সংসদে তার দেওয়া বক্তব্য এলাকায় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।জাতীয় সংসদের শপথ নেওয়ার পর তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে গিয়েছিলেন, তার কিছু মুহূর্ত নিচে দেওয়া ভিডিওতে তুলে ধরা হলো।শপথ গ্রহণ পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের মাঝে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সম্পৃক্ততা ও তার কাজের ধরণ ছিল চোখে পড়ার মত।
গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার জামালপুর ৩ আসলের ভোটার আজিজের একটা কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়।আর এ ব্যপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন জামালপুর ৩ মাদারগঞ্জ মেলান্দহের এমপি জনাব মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। মায়ের দেয়া একটা কিডনি এখন আজিজের শরীরে । আজিজ নতুন করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছে । আজিজ এবং তার মা দু”জনই আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে । দেশের প্রখ্যাত মানবিক ডাক্তার কামরুল ইসলাম সাহেবের সাথে আন্তরিকতার পরশ নিয়ে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন একজন মানবিক এমপি তিনিই হলেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সাহেব।
১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেল থেকে ‘ভিপি’ (সহ-সভাপতি) পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি দেশজুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী (নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান) আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে স্নাতকোত্তর বা এমএসএস (MSS) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রীর নাম তুহিন আক্তার শিউলি।
সম্পদের দিক থেকে মোস্তাফিজুর রহমান এমপি সাবের চেয়ে উনার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেশি। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত প্রার্থীর হলফ নামায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সাহেব তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক এবং মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি। ইতোপূর্বে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এরশাদ পতন আন্দোলনে বাবুলে সাহেবের নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।
তিনি তার সৎ আদর্শ নেতৃত্ত বলে বিবিসি,ভয়েস অব আমেরিকাসহ দেশীয় গণমাধ্যমে কভার প্রচ্ছদ হয়ে আলোচনায় আসেন। তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মেলান্দহবাসি তাঁকে গণসংবর্ধনা প্রদান করেছিল। বিএনপিতে যোগদানের পর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ২০০১ সালে তিনি দেয়াল ঘড়ি মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে আ’লীগ প্রার্থী মির্জা আজমের কাছে হেরে যান।
সর্বশেষ তিনি ২০১৮ সালে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক সম্মেল করে নির্বাচন বর্জন করেন। চলতি নির্বাচনকে চূড়ান্ত ভাগ্য পরিক্ষা মনে করছেন বাবুল ভক্তরা। বাবুল পেশায় ব্যবসায়ী। বাবুলের নিজ নামে সম্পদ দেখিয়েছেন-১৪ হাজার ৫শ’ ৬২ দশমিক ৬৪ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮শ’ ৪৫ দশমিক ৮৬ টাকা। নিজের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, ডিপোজিট, ডিপিএস, ডাকসঞ্চয় ৯৫.৩৬ শতাংশ কৃষিসহ অন্যান্য সঞ্চয়ের পরিমান ২ কোটি ৪৪ লাখ ১১ হাজার ৬শ’ ৩৯ টাকা। এ ছাড়াও বাবুল সাহেবের নিজের নামে ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ৮০ ভরিসহ মোট ১৩০ ভরি স্বর্ণলংকারের হিসাব পাওয়া যায়। সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, জননেতা বাবুল সাহেব এমপি মহোদয় উনার চেয়ে ব্যবসায়ী উনার স্ত্রী শিউলির নামে বেশি সম্পদ এবং ঢাকায় দুটি ফ্লাট বাড়ি রয়েছে। স্ত্রীর নামে নগদ, এফডিআর, ব্যবসার খাতসহ অন্যান্য খাতে সর্বমোট ৪ কোটি ২৫ লাখ ৪৮হাজার ৪১ টাকা। যা বাবুল সাহেবের সম্পদের চেয়ে প্রায় দুই গুন বেশি। মেয়ের নামেও সাড়ে ১৩ লাখ টাকার আরেকটি ফ্লাট বাড়ি রয়েছে।