• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

তান্ডবের রাজনীতি ও অবক্ষয়

নুর এমডি চৌধুরী। সম্পাদক, বার্তা বাংলাদেশ২৪.কম / ৩৯ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

২০১৮ সাল এর নির্বাচন। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। আমি যদি তাহার শাসনামলকে তুলনা করি সে সময়কালটা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ভয়ংকর অধ্যায়।

শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক কর্তৃত্বপরায়ণতা, দমনপীড়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান, দেশের আইনি ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত ব্যবহারকরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, ব্যক্তিগত মানসিকতা বা প্রতিহিংসাপরায়ণের পাশাপাশি কাঠামোগত স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এসব দীর্ঘদিনের সঞ্চিত জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে আর তিনি হারিয়েছেন তার সব। তার একক রাজত্ব, একটা বৃহত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব, দলের নেতাকর্মীদের জীবনে এনে দিয়েছেন বিভিশিখাময় মুহুর্ত।

যে কথাটি বলছিলাম ২০১৮ সাল এর নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সব প্রতিষ্ঠানেই ছুটি মঞ্জুরের আদেশ থাকে। সে সুবাধে আমিও সেবার কয়েকদিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার যমুনা বিধৌত অঞ্চল ঐতিহাসিক মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা গ্রামে গিয়েছিলাম।

যেদিন গেলাম পরদিনই জাতীয় নির্বাচন। সকাল দশটার দিকে কাকা আনিস তালুকদার এর সাথে হাটতে হাটতে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। আমাদের বাজারটা ঐতিহাসিক বাজার। ইতিহাসের পাতায় গুনারীতলা ইউনিয়ন সমৃদ্ধ। ঝারকাটা নদীর অববাহিকায় সেই বৃটিশ নীলকরদের হাতে গড়া বাজার। বাজার ও নদী সংলগ্ন আমাদের ঐতিহ্যবাহী গুনারীতলা হাইস্কুল।

বাজারে যেতে হলে আমাদেরকে সবসময়ই হাইস্কুল মাঠ পার হয়ে যেতে হয়। তো আমি আর আনিস তালুকদার যখন স্কুলের মাঠে গিয়ে পৌঁছিলাম দেখলাম কিছু লোক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য। আর আমাদেরই এক বড় ভাই মুসলিম মাতব্বর একটা চেয়ারে বসে সিগারেট টানছে।

সালাম দিলাম। ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তিনি সালামের উত্তর দিলেন। কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন এবং এক পর্যায়ে জানতে চাইলেন, দাদা তুমি কোন দল করো। আমি দিধাদ্বন্দহীনভাবে বললাম, দাদা আমিতো ছোটবেলা থেকেই বিএনপির সমর্থক বিএনপির সাথেই আছি।

দেখলাম মুসলিম মাতব্বর বেশ মন খারাপ করলেন। এমন ভাব দেখালেন যেনো শেখ হাসিনা তাকে বিএনপি নিধনের দায়িত্ব দিয়েছেন। মেজাজ দেখিয়ে বললেন, ভাই তোমার সব কথা ভালো লাগলো কিন্তু শেষের কথাটা আমার মন মেজাজ দুটোকেই খারাপ করে দিলো। একথা আমারে কইছো কইছোই খবরদার আর কাউকে কইওনা না ভাই। আমি বাকবিতন্ডায় না জড়াইয়া স্থান ত্যাগ করে বাজারের দিকে গেলাম।

যে কথাটি বলছিলাম। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালে বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের একটি স্থায়ী সংস্কৃতি তৈরি করা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার, বছরের পর বছর হদিস না মেলার অসংখ্য ঘটনা যা পরবর্তীতে ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর নামে বিচারহীনভাবে বহু মানুষকে হত্যার, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ‘গায়েবি মামলা’ (কাল্পনিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে মামলা) দায়ের করা যার ফলে বিরোধী নেতা-কর্মীরা প্রতিনিয়ত গ্রেফতারের আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াতেন। সাইবার নিরাপত্তা আইনের কঠোর ধারা ব্যবহার করে ফেসবুক পোস্ট বা সামান্য সমালোচনার জন্যও সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে কারাবন্দি করা, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সেলফ-সেন্সরশিপ বা স্বতঃস্ফূর্ত নীরবতা বজায় রাখতে বাধ্য করা এ-সব ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

কালের ব্যবধানে আজ সেই স্থানে বিএনপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের গুনারীতলা গ্রামের কথাই যদি বলি, এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা আছেন তারা তাদের জায়গা থেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সকল কার্যক্রম নির্দিধায় করছেন। আমি মনে করি রাজনীতি এমনই হওয়া উচিত যেখানে আলোচনা থাকবে সমালোচনা থাকবে সমঝ্যোতা থাকবে থাকবে সম্পর্কের বন্ধন। আর তা হলেই দেশ তার স্থবিরতার গন্ডি পেরিয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের দেশের রাজনীতির কালচার পরিবর্তিত হোক এমন প্রত্যাশা হোক সকলের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১