মাদারগঞ্জে ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত চাচা মহর আলী ও ভাতিজা স্বপন মিয়া হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে ও যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার গাজারিয়া এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই মামলার রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাখাওয়াত, সোহেল, আল-আমিন, সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা।
সাজাপ্রাপ্ত সব আসামি এবং বাদীপক্ষের সবাই জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে শাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি চাচা মহর আলী ও ভাতিজা স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে দু’জনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহত স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
মামলার বিচারকাজে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই রায়ে সন্তুষ্ট।