• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
চলো চলো ঢাকায় যাই, মাদারগঞ্জে রেলপথ চাইঃ নুর মোহাম্মদ নুর জেনারেল এম.এ.জি.ওসমানী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর স্কুল ছাত্রী রামিসা হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘাতকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ফাঁসির দাবীতে জাগো নারী ফাউন্ডেশন দানবীর আর পি সাহাঃ মানবতার দীপশিখা ও সেবার মহাকাব্য || রোকেয়া ইসলাম একটা ধারা || ফাহমিদানবী স্ত্রীর শখ পূরণে কুমির হয়ে গেলেন স্বামী || মোহাম্মদ আব্দুল জলিল একজন মানুষ কেন কোটি টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান হতে চায় লেখালেখি করে কয় টাকা পাওঃ মাহফুজা অনন্যা বদলে যাবার গল্প || ফাহমিদানবী

চলো চলো ঢাকায় যাই, মাদারগঞ্জে রেলপথ চাইঃ নুর মোহাম্মদ নুর

রিপোর্টারের নাম / ৩২ জন দেখেছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

মাদারগঞ্জ গুনারীতলা গ্রাম এটি ছিল এক সময়ের বিশাল বাণিজ্য বন্দর। একটি জমজমাট এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। বর্তমান জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত এই গুনারীতলা তৎকালীন সময়ে নদী ভাঙা-গড়ার খেলায় ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক কারণে ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছিল। যদি জানতে চান ব্রিটিশ আমলে গুনারীতলা বন্দরের রূপ কেমন ছিল? এটি ছিল নদীভিত্তিক প্রধান বাণিজ্য পথ। সেকালে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। নদীটির শেষ প্রান্ত গুনারীতলায় এসে শেষ হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই এটি একটি বড় ব্যবসায়িক টার্মিনাল বা প্রধান ঘাটে পরিণত হয়েছিল।

মারোয়াড়ী ও ইংরেজদের আধিপত্য। এই বন্দরে তৎকালীন সময়ে হিন্দু মারোয়ারী বণিকদের বিশাল ও জমজমাট ব্যবসা ছিল। এছাড়া পুরো গুনারীতলা অঞ্চলে ইংরেজরা নীল চাষ এবং পাটের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল।

জমিদারী জৌলুস ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।বন্দরকে কেন্দ্র করে গুনারীতলায় স্থানীয় প্রতাপশালী জমিদারদের শাসনকেন্দ্র, কাচারি ঘর, এবং বিশাল বিশাল অট্টালিকা গড়ে উঠেছিল।

কালের বিবর্তনে বন্দর বিলোপের করুণ ইতিহাস এ অঞ্চলের জনপদকে আজ বড়ই নি:স্ব করে তুলেছে। প্রমত্তা নদীর একূল ওকূল ভাঙার খেলায় এক সময় প্রবল স্রোতে পুরো গুনারীতলা হাট-বাজার, বিনোদন কেন্দ্র এবং বন্দরের সমস্ত স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সেকালে কোন কোন এলাকার মানুষ এসে মালামাল সংগ্রহ করত? নৌপথের চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দূর-দূরান্তের বণিক ও সাধারণ মানুষ এখানে আসত।

বিশেষ করে:ঢাকা: সুদূর ঢাকা থেকে বড় বড় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও পাইকাররা নৌকায় চড়ে এই বন্দরে আসতেন এবং পাইকারী দরে বিভিন্ন মালামাল ও কৃষিজাত পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যেতেন।সরিষাবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল: নিকটবর্তী তৎকালীন আরেকটি বড় বন্দর সরিষাবাড়ী এবং যমুনা নদীর অববাহিকার আশেপাশের বিভিন্ন চর ও বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে এখানে নিয়মিত আসত।

মারোয়ারী বণিকদের আগমন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মারোয়ারী ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এখানে আস্তানা গেড়েছিল, যারা এই বন্দর থেকে মালামাল সংগ্রহ করে অন্যান্য বড় বড় ব্যবসাকেন্দ্রে চালান করত। আজ এই অঞ্চলে সেকালের ধারাবাহিকতায় তার কিছুই নেই। খাখা বালুচর আর কাঠফাটা রোদ্র বিলাপে মানুষ কোনভাবে দিনাতিপাত করছে। বছরে বছরে যমুনা নদীর ভাংগন আর চলাচলের অযোগ্য রাস্তাঘাট প্রকৃত অর্থে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে যাত্রাকে পিছিয়ে রেখেছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক পরে হলেও দেশে জনবান্ধন সরকার এসেছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের মানুষরা নতুন করে আশার স্বপ্ন দেখছে। সকলের একটাই প্রাণের দাবী উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

একদিনে বগুড়া শারিয়াকান্দি হয়ে মাদারগঞ্জ জামালপুর যমুনা নদীর উপর নির্মিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু যা ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। অন্যদিকে মাদারগঞ্জবাসীর অস্তিত্বের দাবী রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ঢাকা থেকে ভুয়াপুর হয়ে ছেড়ে আসা জামালপুর এক্সপ্রেসটিকে বরধিত করে মাদারগঞ্জ উপজেলা হয়ে ইসলামপুর দেওয়ানঞ্জ পর‍্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন করে জামালপুর এক্সপ্রেস (বা নতুন কোনো ট্রেন) পরিচালনা করা হয়, তবে সরাসরি প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবে।এই রেললাইনটি স্থাপিত হলে মাদারগঞ্জ উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চল অনেক এগিয়ে যাবে।

শুধু তাই নয় এই নতুন পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে অত্র অঞ্চলের মানুষের জীবনে আসতে পারে ব্যপক পরিবর্তন:

প্রথমত. সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী মাদারগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৮৬ হাজার (২৮৫,৯৯৯ জন)। এই উপজেলার মানুষের জন্য ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোনো ট্রেন সুবিধা নেই। রেললাইন হলে এই পুরো জনগোষ্ঠী সরাসরি ঢাকার সাথে যুক্ত হতে পারবে।

দ্বিতীয়ত: ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার একাংশ। ইসলামপুর হয়ে ট্রেনটি যাতায়াত করলে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশন এবং মাদারগঞ্জের সীমান্তবর্তী মেলান্দহের বাসিন্দারাও একটি বিকল্প ও দ্রুততর রুট পাবে।

তৃতীয়ত: কেন এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (উপকারিতার ক্ষেত্রসমূহ)। মাদারগঞ্জ মূলত যমুনা নদীর তীরবর্তী এবং কিছুটা প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় বর্ষাকালে বন্যা ও ভাঙনের শিকার হয়। ট্রেন চালু হলে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত হবে শুধু তাই নয় মাদারগঞ্জ একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার উৎপাদিত সবজি, ধান এবং মাছ রাজধানী ঢাকায় কম খরচে পাঠানোর পথ সুগম হবে। এতে স্থানীয় কৃষকরা পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন।

চতুর্থত: মাদারগঞ্জের বহু শিক্ষার্থী ও রোগী ঢাকা বা ময়মনসিংহে যাতায়াত করেন। সরাসরি ট্রেন থাকলে খুব ভোরে রওনা দিয়ে কাজ শেষে রাতেই ফিরে আসা সম্ভব হবে।৩. রুটের ভৌগোলিক সুবিধাবর্তমানে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ও ভুয়াপুর (বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব) হয়ে ট্রেন তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ী দিয়ে জামালপুর সদরে যায়। যদি ভুয়াপুর থেকে যমুনার সমান্তরালে মাদারগঞ্জ হয়ে ইসলামপুর পর্যন্ত নতুন ট্র্যাক করা যায়, তবে এটি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার (দেওয়ানগঞ্জ/ইসলামপুর) এবং ঢাকার দূরত্ব ও সময় অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে

পরিশেষে বলতে চাই প্রস্তাবিত এই রেললাইনটি শুধু একটি ট্রেন চলাচলের রুটই হবে না, এটি মাদারগঞ্জের প্রায় ৩ লক্ষ অবহেলিত মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য হবে একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক করিডোর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ