• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবীর যাপিত জীবন || নুর এমডি চৌধুরী

রিপোর্টারের নাম / ১০১ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

ফাহমিদা নবী মূলত বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় এবং নন্দিত সংগীতশিল্পী। তবে সম্প্রতি তিনি লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং ২০২৫ সালের অমর একুশে বইমেলায় তার প্রথম বই ‘ফাহমিদা নবীর ডায়েরি’ প্রকাশিত হয়েছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবীর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

জন্ম: ফাহমিদা নবী ১৯৬৪ সালের ৪জানুয়ারি (মতভেদে ১৯৬৬ সাল) দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম নুমা।

পারিবারিক পরিচয়: তিনি বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ মাহমুদুন্নবীর কন্যা। তার ছোট বোন সামিনা চৌধুরীও দেশের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এবং তার ভাই রিদওয়ান নবী পঞ্চমও সংগীতের সাথে যুক্ত।

বেড়ে ওঠা: ফাহমিদা নবীর বেড়ে ওঠা একটি সাংস্কৃতিক ও সংগীতমুখর পরিবেশে। বাবার কাছ থেকেই তিনি গানের প্রাথমিক দীক্ষা পান। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক আবহে সংগীতের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে তাকে আধুনিক, ক্ল্যাসিক্যাল, রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতের মতো বিভিন্ন ধারায় পারদর্শী করে তোলে।

ফাহমিদানবীর সংগীত জীবন শুরুঃ
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবীর সংগীত জীবনের আনুষ্ঠানিক শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। তাঁর এই সংগীতযাত্রার পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণা ও শিক্ষক ছিলেন তাঁর বাবা, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন নবী।

তাঁর সংগীত জীবনের শুরুর দিকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
পারিবারিক আবহ: তিনি ছোটবেলা থেকেই একটি সংগীতমুখর পরিবেশে বড় হয়েছেন। মাহমুদুন নবীর কন্যা হিসেবে গান ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।
প্রথম অ্যালবাম: তাঁর প্রকাশিত প্রথম একক অ্যালবামের নাম ‘তুমি তুলনাহীনা’।

প্রাথমিক ঘরানা: শুরুর দিকে তিনি আধুনিক ও ধ্রুপদী (ক্ল্যাসিক্যাল) গানে মনোযোগ দিলেও পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতেও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন।

প্লেব্যাক: চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও তিনি শুরুতেই জনপ্রিয়তা পান। ২০০৭ সালে ‘আহা!’ চলচ্চিত্রে ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ফাহমিদা নবী ১৯৮৭ সালে জয়নুল আলম-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের এই বৈবাহিক সম্পর্কটি প্রায় ২৪ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের সিকিমে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জয়নুল আলমের মৃত্যু হলে তাঁদের বিবাহিত জীবনকালের অবসান ঘটে।
তাঁদের দাম্পত্য জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য:
সন্তান: তাঁদের সংসারে আনমোল নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ: বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ফাহমিদা নবী তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম ও চড়াই-উতরাই নিয়ে কথা বলেছেন।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাহমিদা নবী বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন এবং আধুনিক বাংলা গানে এক নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন।

পুরস্কার: ২০০৭ সালে ‘আহা’ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা নারী কণ্ঠশিল্পী) অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি মেরিল-প্রথম আলোসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

অন্যান্য ভূমিকা: তিনি রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এর একজন বিচারক হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন এবং ‘কারিগরী’ নামে একটি ভয়েস ইনস্টিটিউট পরিচালনা করেন।

নতুন পরিচয়: যদিও তিনি পেশাদার কবি নন, তবে তার লেখায় গভীর জীবনবোধ ফুটে ওঠে। তার প্রকাশিত বইটিতে তিনি মূলত নিজের বিভিন্ন উপলব্ধি এবং ইতিব

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবীর বর্তমান সময় গানের ব্যস্ততা এবং পরিবারের সাথে আনন্দময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে কাটছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী তার বর্তমান সময়ের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
বিদেশের মাটিতে ঈদ উদযাপন: ফাহমিদা নবী বর্তমানে লন্ডনে তার একমাত্র মেয়ে আনমোলের সাথে সময় কাটাচ্ছেন। এবারের ঈদ তিনি মেয়ের সাথেই সেখানে উদযাপন করছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার কথা থাকলেও ভ্রমণ পরিকল্পনার পরিবর্তনের কারণে তিনি বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং মেয়ের সাথে এই একান্ত সময়টুকু দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

নতুন গানের মুক্তি: দেশের বাইরে থাকলেও সংগীত থেকে তিনি দূরে নেই। ঈদ উপলক্ষে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে “ঈদ মোবারক” শিরোনামের একটি নতুন গান প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া বছরের শুরুতেই তিনি “দুখের দলিল”, “তাই করি” এবং “আসলো না বৃষ্টি” শিরোনামের তিনটি মেলোডি ধাঁচের নতুন গান রেকর্ড করেছেন।

সংগীত চর্চা ও সৃজনশীলতা: তার দৈনন্দিন সময়ের ৯৫ শতাংশই কাটে সংগীত নিয়ে। কাজের বাইরে তিনি ধ্যান (meditation), শরীরচর্চা এবং তার প্রিয় বিড়ালের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়তা: তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি তিনি নিউ ইয়র্কের তুষারপাত এবং তার ব্যক্তিগত কিছু উপলব্ধি শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি জীবনকে নতুনভাবে চেনার এবং ইতিবাচক থাকার কথা বলেছেন।

সামগ্রিকভাবে, ফাহমিদা নবী বর্তমানে কাজ এবং পরিবার—উভয় ক্ষেত্রেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আনন্দময় সময় পার করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ