২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি ও উদ্বেগের এক মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এটিকে একটি ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি’র বাজেট হিসেবে আখ্যা দিলেও, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষের অবস্থান ঠিক কোথায়—তা নিচে কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথমত: সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্থির ইংগিত বহন করে। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি। সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ (৩,৭৫,০০০) টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার অধীনে তারা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
তৃতীয়ত: প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে, যা প্রায় ৩৮ লক্ষ মানুষ পাবেন।
চতুর্থত: মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চমত: বাজেটে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
উক্ত বাজেটে যেমন কিছুটা স্বস্থির আভাস থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে অস্বস্থিরও কিছু ইংগিত।
প্রথমত: সরকার মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে এর বাস্তব প্রতিফলন কতটা হবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের রীতিমতো সংশয় রয়েছে।
দ্বিতীয়ত : সব স্তরের সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ধূমপায়ীদের খরচ বাড়াবে।
তৃতীয়ত: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য TIN বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবাকে আরও জটিল করে তুলবে।
চতুর্থত: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়নসেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর মতে, বাজেটটি ব্যবসাবান্ধব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করা হলেও বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার এবং রাজস্ব ঘাটতির সংকটের মাঝে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটটি কাগজে-কলমে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কল্যাণমুখী মনে হলেও এর সুফল সাধারণ মানুষ আসলে কতটা পাবে, তা নির্ভর করছে এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।