রাজনীতির বেড়াজালে আমার সোনার দেশ বন্দী। এই বন্দীদশা থেকে মুক্ত হবে দেশ ভাবাটা নিতান্তই বোকামি। এক নদী রক্ত দিয়ে একাত্তরে স্বাধীনতা এনে মুক্তিযোদ্ধারা চুয়ান্ন বছর অশ্রু ঝরাতে ঝরাতে অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করেছেন। তেমনিভাবে চব্বিশ এর মুক্তিযোদ্ধারাও অশ্রুসিক্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
কারণ রাজনীতিটা এমনই। যে নিজেকে বিলিয়ে দেয় সে কিছুই পায়না, পায় তারা যাদের মুখে বুলি আছে মিথ্যের ঝুলি আছে।
মসনদের লোভ এতোটাই আকর্ষণীয় যে ওটা পাওয়ার দেরি কেউ সহ্য করতে চায়না। আর যে হারিয়েছে গোষ্ঠীসহ উম্মাদে ক্ষেপে উঠবে এটা জগৎজুড়ে না থাকলেও আমার সোনার বাংলাদেশে আছে অবিশ্বাসের কিছু নয়।
আসলে রাজনীতি মারপেঁচে এর সত্যতা কতটুকু।
রাজনীতি তো হলো আজকাল টেক্কার উপর টেক্কা দিয়ে চলা সত্য মিথ্যের ধার না ধেরে অবিচল মিথ্যে বলা।
হৃদয় ভাংগা কষ্ট, আমাদের তরুণ ছেলেগুলো জীবন দিয়েই দেশ বাচাঁলো আর এ দেশ বাচাঁতে যে জীবন দিলো তার অবদান যেমন জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে আবার যে মাস্টারমাইন্ড প্লেনার, প্ল্যান করে করে যে জাতিকে মুক্ত করলো স্বৈরাচারের কারাগার থেকে। তার অবদানকেও জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
প্রশ্ন হলো। আমরা বাংগালী জাতি কতটা শ্রদ্ধাশীল ছিলাম আছি এবং থাকবো এই নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন জাগে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের পরিবার পরিজন মুক্তিযোদ্ধাদের হতাশার গল্পকথা আত্মচীৎকার আমরা জাতিগতভাবে সচেতন নাগরিকগণ অবগত তো আছিই।
দিন বদলের পালা এই পালায় শ্লোগানের উপর টেক্কা দিয়ে ক্ষমতায় আসবার প্রবণতা আমাদের আদি কালের বলতে গেলে নাড়ি পোতা টান। আমরা গেরেস্তকে সচেতন থাকতে বলি আবার চোরকে বলি চুরি কর। এটা রাজনীতির মাইরপ্যাচ।
আর যাদের হাতে ক্ষমতা তারা যদি হন অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বিশিষ্টজন তাহলেতো দিকবেদিক শুধু দেখবেন শুন্যতা আর শুন্যতা পূর্ণতা শুধু ধুধু মরুর প্রান্তর।
তাই বলি, চোরে শুনেনা ধর্মের কাহিনী। চোর ধরতে যেমন চোরের অধিক চতুরতার প্রয়োজন রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝতেও চতুর রাজনীতিবিদ হওয়া কিংবা সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
বস্তুত: শাসক গোষ্ঠীদের কারও কোন ক্ষতি নেই যত ক্ষতি যত ভুক্তভোগী আমরা জণগণ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।