বাংলাদেশের মানুষ ড. ইউনূসের হাত ধরে এগিয়ে যেতে চায় অনেক দূরে
রিপোর্টারের নাম
/ ১০২
জন দেখেছে
আপডেট :
রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫
শেয়ার
ড. ইউনূস চীনে যেয়ে বললেন, “Seven sisters are the landlocked region of India. They have no way to reach out to the ocean.”
এরপর তিনি ভারতকে যে থ্রেটটা দিলেন সেটা শুনলে ভারতের গলার পানি শুকিয়ে যাবে, “We are the only guardian of the ocean for all these region!”
কারণ এই পরিস্থিতি ভারতকে কখনো ফেইস করতে হত না। দাবা খেলায় ভারত চাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ তার মন্ত্রী ভারতের জন্য উৎসর্গ করে দিত। কিন্তু এখনকার খেলাটা ভিন্ন।
পুরো বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশকে চমৎকারভাবে রিপ্রেজেন্ট করেছেন। যেটার সামারি হলো, “বাংলাদেশ ছোট হতে পারে। কিন্তু আপনাকে ব্যবসা করলে বাংলাদেশেকে সাথে নিয়ে করতে হবে।”
একজন রাষ্ট্রপ্রধান তো এরকমই হওয়া উচিত। ওনার বক্তব্যে প্রফেশনালিজম থাকবে, কূটনৈতিক চাল থাকবে, প্রতিবেশী দেশ ভাবতে বাধ্য হবে, বাংলাদেশকে কীভাবে সুবিধা দিলে আমি সেই দেশের রিসোর্স ব্যবহার করে ব্যবসা করতে পারব।
আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা ১৫ বছর ধরে এমন একজনকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পেয়েছি, যিনি সুন্দর করে কথা পর্যন্ত বলতে জানতেন না। আই রিপিট, শেখ হাসিনা স্পিচ দিতে জানতেন না। ওনি খুবই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতেন।
আপনি রেন্ডমলি শেখ হাসিনার দুয়েকটা স্পিচ দেখেন, বক্তব্যের মধ্যে কাউকে না কাউকে আক্রমণ করেছেন। হয় ইউনূসকে পানিতে চুবানোর কথা বলেছেন, না হলে খালেদা জিয়াকে অল্পশিক্ষিত বলে হেয় করেছেন, দেশের মানুষকে বলেছেন, বেশি কথা বললে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সব বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকবেন।
অনেকদিন পর আমরা একজন স্মার্ট এবং কৌশলী রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছি। যিনি ক্ষতবিক্ষত একটা দেশকে মুকুট পরিয়ে গ্লোবালি লাইমলাইটে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
কিছুদিন আগে তিনি কুতুপালং-এ জাতিসংঘ মহাসচিবকে সাথে নিয়ে ১ লাখ রোহিঙ্গার সাথে ইফতার করেছেন, তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনেছেন। ইউনূস তাদের কথা দিয়েছেন, “এবারের ঈদে না হলেও পরবর্তী ঈদে তারা নিজ দেশে গিয়ে বাবা-মা, দাদা-দাদীর কবর যেয়ারত করবে।” বাংলাদেশ শেষ কবে এত মানবিক রাষ্ট্রনায়ক পেয়েছিল জানা নেই।
এই ৭ মাসে এই মানুষটার হাত ধরে বাংলাদেশ ৬২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-এর শুরুতে যেই রিজার্ভ ছিল ২০ এর নীচে, সেই রিজার্ভ এখন ২৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার।
সবকিছু বাদ দিলে এবারের পবিত্র রমজানটা এদেশের গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য স্বপ্নের মত ছিল৷ দ্রব্যমূল্যে তিনি লাগাম টেনেছেন শক্ত হাতে। এক ভিডিওতে দেখেছি, চট্টগ্রামের ডিসি ব্যবসায়ীদের ওপেন থ্রেট দিয়ে বলেছেন, “সিন্ডিকেট না ভাঙ্গলে আমরা একশনে যাবো। জেল হয়ে গেলে তখন আর কিছু করার থাকবে না।” উপর থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পেলে এই থ্রেট দেয়াটা ডিসির জন্য টাফ হয়ে যেত। গত রোজার সময়ই যেখানে আওয়ামীলীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাজার সিন্ডিকেটের দখলে। আমাদের কিছু করার নেই।”
এবারের ঈদযাত্রায় মানুষ এতটা স্বস্তি আগে কখনো পায়নি। সড়কে চালু আছে মোবাইল কোর্ট। বাড়তি ভাড়া হলেই জরিমানা।
আগামী ৫ বছরের মধ্যে এদেশের তরুণ সমাজের জন্য ড. ইউনূস আশীর্বাদ হয়ে উঠবেন, সেটা চোখ বন্ধ করে বলা যায়। ইউনূস যতদিন থাকবেন বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো এই দেশে ইনভেস্টমেন্টের আগ্রহ দেখাবে, শুধু প্রফেসর সাহেবের ভরসায়। কর্মসংস্থানের হার বেড়ে যাবে অকল্পনীয় হারে।
একটু আগে শুনলাম, বাংলাদেশ থেকে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে পাচার হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে সরকার! এর চেয়ে স্বস্তিদায়ক সংবাদ আর কী হতে পারে! লুট হয়ে যাওয়া দেশের টাকা আবার দেশের কাছে ফেরত আসছে!
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো অনেকদিন ধরে “হা” করে আছে। তারা খুবই ক্ষুধার্ত। দীর্ঘ দিনের সেই ক্ষুধা নিবারণের জন্য তারা বলছে, “বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন চায়।”
বাংলাদেশের মানুষ বলতে তারা আসলে কাদেরকে বোঝাচ্ছে? এই দেশের মানুষ নির্বাচন চায় না। এই দেশের মানুষ চায় না, একটু একটু করে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে যেতে থাকা দেশটা যখন ভেসে উঠতে শুরু করেছে, সেটা আবার তলিয়ে যাক।
তাদেরকে কেউ বলে দিক, এদেশের মানুষ প্রফেসরের হাত ধরে এগিয়ে যেতে চায় অনেকদূর!