• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় আইনী শাসন বাস্তবায়ন জরুরি

রিপোর্টারের নাম / ১৫৪ জন দেখেছে
আপডেট : সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪

আজকাল বাবারাও সতর্ক থাকেন প্রাপ্ত বয়সী মেয়েদেরকে কখনই নিজের বাইকের পেছনে উঠাননা। যদিও উঠাতে সমাজ বা রাষ্ট্র কারোরই নিষেধ নেই কিন্তু সব বাবারাই নিজের মান সন্মান ইজ্জতের কথা ভেবে কাজটি করেননা।

কেন করেন না উত্তরটি বুঝতে এতক্ষণে কাররই হয়ত বাকী থাকার কথা নয়। তবুও বলি আজকের সমাজ, সমাজ ব্যবস্থা কিংবা পরিবার, পরিবার ব্যবস্থা এতোটাই খারাপ হয়ে উঠেছে যে সুযোগ পেলেই বদনাম রটিয়ে দিয়ে বসে।

সেদিন দেখলাম আমার মহল্লার পরিচিত বড় ভাই হাসিব পাটোয়ারী উনি উনার মেয়েকে বাইকে উঠায়ে কলেজে নিয়ে যাচ্ছেন, প্রায়ই উনি এ কাজটি করেন মেয়েকে কলেজে এভাবেই পৌঁছে দেন। বিষয়টি আমার বেশ দিনের অবগত।

অনেকদিন পরে বন্ধুর আরমানের সাথে দেখা। দু’জনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম এমন সময় মহল্লার বড়ভাই হাসিব পাটোয়ারী মেয়েকে বাইকে করে কলেজে নিয়ে যাচ্ছেন। আরমান হাসিব পাটোয়ারীকে চিনে কিন্তু দীর্ঘদিন আগের পরিচয় হঠাৎ পাটোয়ারী সম্পর্কে একটা বাজে মন্তব্য করে বসে আরমান। দোস্ দ্যাখ, দ্যাখ হাসিব পাটোয়ারী কি জবদ্দশ একখান মাল নিয়ে বাইকে যাচ্ছে।

আমি তীব্র রেগেই বলি ছিঃ এসব কি আজেবাজে বলিস। ওটা হাসিব সাহেবের বড় মেয়ে। হয়তো পরিচয় নেই তাই বলে একজন শিক্ষিত মানুষের মন্তব্য এভাবে করার আগে ভাবা উচিত। তাছাড়া এমন নোংরা মন্তব্য আমরা কেন করি বলতো। এতে আমাদের কতটুকু লাভ আছে বলতে পারিস?

আরমান চুপ হয়ে গেলো। আসলে চুপ হওয়াটা বড় কথা না আমাদের নিজেদের ভিতরে পরিবর্তন দরকার। বাজে মন্তব্য একেবারেই মনে জায়গা দেওয়া উচিত নয়।

আজ হাসিব সাহেব অর্থ অভাবে হোক কিংবা সময়ের সল্পতায় হোক কিংবা নিরাপত্তাজনিত কারণে হোক নিজের মেয়েকে পৌছে দিচ্ছে বাইকে এতে দোষের কি হলো।

তাছাড়া আজকাল এতো বখাড়ে ছেলের উপদ্রব বেড়েছে যে পরিবারে মান ইজ্জত বাঁচানোটাই দুস্কর হয়ে পড়েছে।

অভ্যাস এমন একটা চরিত্র যে চাইলেই একে বদলানো যায়না। আমি যত করেই বুঝানোর চেষ্টা করলাম কোন কাজে দিলোনা। যারা নোংরা মনবৃত্তি নিয়ে চলে তাদের সন্দেহ দূর করাটা যথেষ্ট মুশকিলের। আরমানের মাঝেও সেই প্রবৃত্তিটা দেখতে পেলাম।

বারবার কানের কাছে ঘেনঘেন দুস সত্য করে বলনা সত্যিইকি হাসিব সাহেবের মেয়ে ওটা। আমি সত্যিই বেশ বিব্রত বোধ করলাম। এমন বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাটাই শ্রেয়।

বাস্তবতা এতোটাই নির্মম হয়ে উঠেছিল যে ও মুখে যা আজেবাজে বলছিল মনে হয়েছিল ওর চোখমুখে চড় লাগিয়ে দেই। তারপর যখন সাক্ষাতে পরিচয় করিয়ে দিলাম ঠিক তখন ওর সন্দেহটা দূর হলো।

তাই বলছি সমাজ, সংসার সামাজিক, সামাজিকতার বাইরে যেহেতু আমরা কেউনা। সমাজ ব্যবস্থার দিকে রাষ্ট্রের গঠন তান্ত্রিক আইনী শাসন ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।

মনে রাখতে হবে পরিবার থেকে যেমন সমাজ সমাজ থেকে যেমন রাষ্ট্র তাই পরিবার ও সমাজের পরিবর্তন আনতে পারলেই গোটা রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। নইতো দিনে দিনে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জনজীবনে নেমে আসবে অমানিশার অন্ধকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ