মৎস্যজীবী ভোরবেলা সুর্যদয়ে বেরিয়ে যায়
কৃষিজীবী দুপুর মিঠে রোদে অংকুর ফলায়-
সমুদ্রের কোরালের নীচ থেকে
পাথরের কঠিন খোড়ল থেকে
মাটির চাঁইয়ের ভাজ থেকে
প্রতিদিনের রুজিরুটি টেনে তোলে …
জীবন এক আজব উভচর
অর্ধেকটি উপকূলের মাটিতে
বাকি অর্ধেক পানিতে-
মাটিতে শুধু মানুষ নয়
পানিতেও কেবলই মাছ নয়
এই সারাৎসার জীবন সবখানেই
বিচরণ করে যায় …
কুয়াশাচ্ছন্ন সমুদ্রের মতো ধূসর নয
প্রান্তরের বেশি সবজেটে নীলও নয়
জল যেখানে কদাপি তৃষ্ণার্ত হয়
বিস্ময়কর গল্পগুলি পছন্দ করে
তবে সে নিজে কিছু বলে না –
নতুন কিছু মহাসত্য
সম্ভবত নিবিড় করে শুনতে চায় …
ভাসে জোয়ারে ভাটায়
বাতাসের বেগে ছুটে চলে
শ্যামল শুভ্র মেঘে চড়ে বেড়ায়
আকাশের ওপারের অনেক কিছুও সে জানে
যখন শহরের জিনিসগুলোর কথা তাকে বলি
সে তখন শুকনো গলায় ঢোক গিলে
চোখ বন্ধ করে রাখে
দেখতে ভালো লাগার তার তো কোনো
দরকার নাই …
দিনের শেষের বিশদগুলি আমাকে পাঠায়
বয়স্ক হবার লেজার বুকে -টুকে রাখি
কোথায় অর্থ প্রদান করতে হবে
কিনে নিতে হবে মদ,পরিচ্ছদ,মতামত
ঘামের চিরচেনা সুগন্ধ আর কিছু ঘর গেরস্থালী-
কোথায় দোলাতে হবে অনর্থক সময়
ঘরের পেছনের কোণে
অন্য কোনো আঙিনায়
উল্লাস ছড়াবার কী কায়দা কানুন
সেসব গোপনীয়তা শৃংখলে থেকে যায় …
অবশেষের অবশেষে চোখ দু’চোখ-আলোকিত করে
স্থানের সামঞ্জস্য করার সাথে সাথে
ডার্ট ছুড়ে মারে লম্বা বা খাঁটো দূরত্বে-
লাল মাথাযুক্ত শেষ চিত্রটি পেয়ে যায়
বিঁধে যাওয়ার কেন্দ্র বিন্দুতে
জীবন বড্ড অসহায়…
দর্শনার্থী যাপন নাম উচ্চারণ করে
কখনও আবার ভাগ্য হাতে নিয়ে
সূর্যের আলোতে বায়ুতে জিততে পারে না
সে তখন একজন জীবন্ত মানুষ তো আর হতে পারে না –
রক্তের স্রোতে ভাসিয়ে জগতে এনেছিলো
যেন ধিক্কার দিয়ে ধুলোতে ঠেলে ফেলে দেয়
মরহুম মৃত্যু এসে জীবনকে টেনে ধরে
তার সাথে করে নিয়ে যায়
মৃতজীবী কাফন পরিয়ে দেয়-
জীবন আহা জীবন – সে তো এমনটাই ….