‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’
কোন উপন্যাস কিংবা প্রবন্ধ নয়।
নিখাঁদ কবিতা গ্রন্থ। গ্রন্থটির রচয়িতা কবি হেলাল হাফিজ আর নেই
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”
যে জ্বলে আগুন জ্বলে!” চারটি শব্দ মিলনে কবি হেলাল হাফিজ রচনা করলেন একটি নিখাঁদ কবিতা গ্রন্থ।আলোড়ন সৃষ্টি করলেন বইমেলায়। কে জানতো এই একটি নিখাঁদ কবিতা গ্রন্থের দাবদাহে যুগ যুগ পোড়ে পোড়ে শেষ হয়ে যাবে দু’টি প্রাণ।
নাম তার, হেলেন-হেলাল হাফিজ
একসময় নিজ গ্রামের পুলিশের কন্যা হেলেনকে পাগলের মত ভালোবাসতেন হেলাল হাফিজ। হেলাল হাফিজের বাবা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। তাই এ ভালোবাসাকে হেলেনের বাবা দারোগা বাবু কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তাই খুব দ্রুত হেলেনকে ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর সাথে বিয়ে দিয়ে দেন।
হেলেনকে হারিয়ে উম্মাদের মতো ছুটতে থাকেন হেলাল হাফিজ। সেই যে উম্মাদনা সেই যে একাকীত্বে চলা আজও একাকীত্বেই চলে গেলেন ইহধাম ছেড়ে।
স্কুল শিক্ষক বাবার কড়া শাসনে হেলাল হাফিজ শত উন্মাদনার মাঝেও পড়া লেখা চালিয়ে গিয়েছেন কঠিন হৃদয় বিদারকতার মধ্য দিয়ে। সময়ের পথ ধরে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কবি হেলাল হাফিজ জানতেন হেলেন ঢাকায়। বিরহের যত রাগ, যত অনুরাগ, যত প্রেম, যত বিরহ ঢেলে তিনি রচনা করলেন এক বিরহের নিখাঁদ কবিতা গ্রন্থ। নাম দিলেন “যে জ্বলে আগুন জ্বলে!”
হেলাল হাফিজের বইটি হেলেনের হাতে পড়ে একদিন। এত প্রেম এত এত মায়া এত ভালোবাসা অন্তহীন,অবিরাম ছুটে চলা স্রোতস্বিনী তটিনীর মত হেলেনের হৃদয়টাও ছুটতে থাকে বাস্তবতার কঠিন অধ্যায়কে হার মানিয়ে উল্টো দিকে।
হেলেন ভালোবাসার টানে একসময় পাগল হয়ে যায়। তার মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখে স্বামী তাকে তালাক দেয়। জানা গেছে হেলেন দীর্ঘ সময় নেত্রকোনার বাড়িতে শিকল বেড়িতে আটকা ছিলেন হেলেন।
হেলাল হাফিজও আর জীবনে বিয়ে করেননি। আজ তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে শোকের মাদক নেমে এসেছে। আমরা গভীরভাবে শোকাহত ব্যথিত মর্মাহত।