আমার দেখা সমসাময়িক মাদারগঞ্জ: লান্জু ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
রিপোর্টারের নাম
/ ৩০৫
জন দেখেছে
আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
শেয়ার
ছবিগুলো ২০২০-২১ সালের, যখন ফখরুদ্দিন বুলবুল মামার বাড়িতে ছাত্রদলের অসংখ্য মিটিং অনুষ্ঠিত হতো। এসব মিটিং লান্জু ভাই ও বুলবুল মামার নির্দেশনায় এবং টুটুল ভাইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এসবের বহু ছবি রয়েছে— কয়েকশত, হয়তো তারও বেশি। এখন প্রশ্ন হলো, এই ছবিগুলো কি কাউকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে?
তাহলে, কিছু বাস্তব ঘটনা তুলে ধরি, যা আমার চোখের সামনে ঘটেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের অনুসারী নই, তবে মাদারগঞ্জবাসীর ভবিষ্যৎ সুন্দর ও ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে সবাইকে এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ জানাই।
ছাত্রদলের মিটিং ও তৎকালীন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ: ছাত্রদলের ফর্ম বিতরণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু নিরাপদ কোনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ, সব জায়গায় তৎকালীন সাংসদ মির্জা আজমের রক্তচক্ষু নজরদারি ছিল। বিপদ জেনেও লান্জু ভাই ও বুলবুল মামার নির্দেশে মামার বাড়ির উঠানে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এটি কোনো সাধারণ জায়গা ছিল না— লান্জু ভাইয়ের ছত্রচ্ছায়ায় এমন বৈঠক আগেও বহুবার হয়েছে, এবং বুলবুল মামা নিজেও বহুবার এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
আমার বড় ভাই আশিক (খুররম), গুনারীতলার মিজান স্যার, ভাতিজা আসলাম, রিফাত, সিয়ামসহ অনেকে এতে ভূমিকা রেখেছিলেন, যা আমি অস্বীকার করছি না। তবে তখন যাকে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখেছি, তিনি হলেন টুটুল ভাই। অনেক নেতা-কর্মী তখন নিজ এলাকায় পর্যন্ত বের হতে ভয় পেতেন, অথচ টুটুল ভাই ছিলেন সবসময় সামনে।
তো তখন বাড়িতে ছিলাম, যদিও ঢাকায় থাকি সেসুবাধে অনেকে আমাকে বা আমি অনেককেই চিনি না। বাড়িতে লোকজন আসায় তাদের অতিথি আপ্যায়নের দ্বায়িত্ব ছিলো।
সেই সময় মাদারগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরো ঘটনা নজরদারি করছিল। তৎকালীন ৩নং গুনারীতলা ইউপির চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আয়না কয়েকবার মিটিংয়ের সামনে দিয়ে যাতায়াত করেন, কিন্তু কিছু বলতে পারেননি। পরবর্তীতে সাংসদ মির্জা আজম বর্তমান ৩নং গুনারীতলার ইউপি চেয়ারম্যান সাজু মামাকে দিয়ে আমাকে ফোন করান। সাজু মামা তখন বললেন,
“কিসের মিটিং করো? জায়গা পাও না আর? তোমাদের জন্য এমপি আমাকে চাপ দিচ্ছেন, এবার কিন্তু সিরিয়াস অ্যাকশন নেওয়া হবে, পুলিশ যাচ্ছে!”
তবুও মামার স্নেহময় ধমক এড়িয়ে, আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই তারা লান্জু ভাইয়ের নির্দেশনায় কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছিল।
এখন এত নেতা, তখন কই ছিলেন।দেখিনিতো হেডাম দেখিয়ে কাউকে এগিয়ে আসতে। প্রশ্নবৃদ্ধ করতে আসেন এখন তো আপনারা কোন আঁচলের নীচে ছিলেন।
গ্রেফতার ও হত্যার ষড়যন্ত্র: সেদিন রাত ১১টা। আমি বাড়ির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলছিলাম। হঠাৎ ভাতিজা ইয়াছিন বলে উঠল,“কাকা, তোমার ফোন আসছে!” প্রেমিকার ফোন ভেবে বললাম, “কেটে দে!” কিন্তু ও বলল, “তোমার মামা ফোন করেছে!”
দৌড়ে গিয়ে ফোন ধরলাম। ফোন ধরতে দেরি হওয়ায় বুলবুল মামার ধমক খেলাম। তিনি বললেন,“গোয়েন্দা তথ্য এসেছে— নেতাকে আজ রাতেই গ্রেফতার বা তাকে গুম করা হতে পারে! দ্রুত নেতার কাছে যা!”
তখন দাদু(লান্জু) গভীর ঘুমে ছিলেন। শারমিন ভাবিকে জাগালাম, ঘরে গিয়ে খবর দিয়ে দাদুকে জাগিয়ে তুললাম। মামা ও দাদু ফোনে কথা বললেন। দাদুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলতে থাকল, কিন্তু সরকার-নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে আমরা ব্যর্থ হলাম।
র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দাদুকে গ্রেফতার করা হয়। সেসময় সংঘর্ষ হয়, এবং তারা সরাসরি গুলি চালায়— কোনো রাবার বুলেট নয়, আসল গুলি! ভাগ্যক্রমে বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে কয়েকজন হালকা আহত হন।
গ্রেফতারের পর দাদুকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যেদিক দিয়েই গাড়ি যাচ্ছিলো দলমত নির্বিশেষে থামাতে আসতে ছিলো।এতে পুলিশ র্যাম অবাক হয়ে বলে ‘আপনার এত জনপ্রিয়তা!’ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করে সাথে। দাদুর অনুরোধে তাদের ছেড়ে দেয়। দাতভাঙ্গা ব্রিজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা সন্দেহজনক। তাদের উদ্দেশ্য কি হত্যা বা গুম ছিল? এলাকাবাসীর তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
এখন কথা হচ্ছে, তখন মির্জা আজমের নির্দেশে দাদুকে টার্গেট করা কেন হলো? কারণ মাদারগঞ্জের “বিএনপির অন্য নাম লান্জু” সেটা সবার কাছেই সমাদ্রিত।
২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সাহেব মাদারগঞ্জে কর্মসূচি করার জন্য কোন জায়গায় পাচ্ছিলেন না। সে পরিপ্রেক্ষিতে আস্তার প্রতিদান দিতে নিজ এলাকাতেই নির্ভীকতা নিয়ে এগিয়ে যায় লান্জু দাদু।নির্বাচনের আগে কর্মীদের সাহস ও কাজের নির্দেশনা দিতে নিজের বাড়িতে করেন ভোজ আয়োজন। যা প্রখর ভাবে দাগ কাটে মির্জা সাহেবের, উঠে পড়ে লাগে তার পিছনে।তার আগেও প্রতিদ্বন্দীতার জেরে অনেকবার হত্যা চেষ্টা করেছে।
লান্জু ভাইয়ের দেশত্যাগ ও প্রত্যাবর্তন: চার মাস জেল খাটার পর জামিনের দিন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দাদুকে নতুন মামলায় আবারও গ্রেফতার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবার আমরা আর ভুল করিনি। বুলবুল মামা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় কৌশলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে লান্জু ভাইকে বিদেশে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
৫ই আগস্ট, স্বৈরাচার পতনের পর তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু দেশে ফিরে মাদারগঞ্জকে এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় দেখতে পান। উগ্রপন্থী বিএনপি গ্রুপের রোষানলে পড়েন, এবং তার সমর্থকদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হতে হয়। এতে আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম জিকোসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।
তবুও লান্জু ভাই প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো শুরু করে— যারা বিগত বছরগুলোতে মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। এদের অনেকেই আওয়ামী লীগের দোসর, হাইব্রিড নেতা, যারা এতদিন কোথাও ছিলেন না। তারা বিভিন্ন ভাবে আওয়ামীদের দোসর ছিলেন
মাদারগঞ্জের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও আমাদের করণীয়: এখন প্রশ্ন হলো, বিগত আওয়ামী শাসনে বিএনপির নেতৃত্ব ও অর্থায়ন কোথা থেকে আসত,কেউ চিন্তা করেনি সব কে চালিয়েছে সেটাও জানতে চাননা। কিন্তু এখন অনেক নেতা বের হচ্ছে ,এখন কেন এত নেতাদের চাঁদাবাজি করতে হচ্ছে? কেন বারবার মাদারগঞ্জকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে?
মাদারগঞ্জ এমনিতেই ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। এখানে বারবার অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের একজন মির্জা আজম। তিনি উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছেন। তার দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে মাদারগঞ্জের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এই অবস্থায়, দল-মত নির্বিশেষে, শুধু বিএনপির জন্য নয়— পুরো মাদারগঞ্জের জন্য একজন দক্ষ কান্ডারির প্রয়োজন। সে বিবেচনায় লান্জু ভাইয়ের বিকল্প নেই।
আরো অনেক ত্যাগী নেতা কর্মী রয়েছেন আমি তাদের অবমূল্যায়ন করছিনা। তাদের অনেক কৃতিত্ব আছে।
কিন্তু তার নেতৃত্বের গুণ, মেধা, চৌকসতা, সৃজনশীলতা, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্ব— সবকিছু মাদারগঞ্জের নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে তাকে যোগ্য করে তুলেছে।
তবে ২০১৮সালের পূর্বের অবদান যদি জানতে চান। তাহলে, আজকালের বাচ্চাদের বলতে চাই, তোমাদের আব্বু-আম্মুর কাছে থেকে তোমরা লান্জু সম্পর্কে জেনে নিও আগে তারপর মন্তব্য কইরো।
শেষ কথা: সকল রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান—অপশক্তির বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়ান। মাদারগঞ্জের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হোন!