এওয়ার্ড প্রদান করেন ‘দেলপাড়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ (নারায়ণগঞ্জ) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব সানোয়ার হুসাইন সাহেব। যিনি একজন দক্ষ সংগঠক, মানবতার কর্মী, যিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক এবং সমাজ সেবক। সাথে অংশ গ্রহণ করেন অত্র দেলপাড়া আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
উক্ত এওয়ার্ডটি গ্রহন করেন, জনাবা নুর-উন-নাহার মেরীর পক্ষে তার ছোট ভাই মো: মতিউর রহমান হীরু, ডিরেক্টর ফাইন্যান্স, জাগো নারী ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় শাখা, ঢাকা। এবং নুর মোহাম্মদ চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, জাগো নারী ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় শাখা, ঢাকা।
উক্ত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় ভারচ্যুয়াল শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সুদুর আমেরিকা থেকে ‘জাগো নারী ফাউন্ডেশনের’ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চেয়ারপারসন জনাবা নূর-উন-নাহার মেরী।
বক্তব্যের শুরুতেই মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন যে তিনি এখনও মানুষের কল্যাণে বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত নারী সমাজের পাশে বিভিন্নভাবে দাড়িয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশ থেকে দেশের বাইরে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে জাগো নারী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
জনাব নূর উন নাহার মেরী বলেন, আজ ৮ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস ২০২৫ এর মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “অধিকার সমতা ক্ষমতায়ন নারী ও কন্যার উন্নয়ন’। এই স্লোগানটি পেতে যুগে যুগে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে নারীকে নারীর সমতারনে যারা কাজ কিরেছে গেছেন কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পনের হাজার নারী শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা কমানো এবং ভোটাধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এরপর ১৯০৯ সালে আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালন করে। তবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে, যেখানে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেতা ক্লারা জেটকিন নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১৯১১ সালে প্রথমবার অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ (ইউএনও) এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৭৭ সালে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নারী অধিকার ও সমতার লক্ষ্যে এই দিনটি পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তিনি তার বক্তব্যে নিজের আত্মদানের কথা স্মরণ করে বলেন, এমন একটা দিন ছিল যেদিন নারীরা ছিল ঘরবন্দী। তাদের লেখা পড়া করতে নেই মানুষের সম্মুখে যেতে নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি সেই ছেলেবেলা থেকেই এই বিষয়গুলো খেয়াল করেছেন। তখন থেকেই তিনি প্রতিবাদী হয়েছেন।
পাকিস্তান থাকাকালীন সময়ে তখন তিনি একটা মিশনারী স্কুলের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। তখনই তিনি রাজপথে নগ্নপদে মিছিল করেছেন। চাকুরী জীবনে বহু দেশ বিদেশে গিয়েছেন যখনই সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের নারীদের অসহায়ত্বেরকথা বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জে জাগো নারী ফাউন্ডেশন এর একটি শক্তিশালী শাখা তৈরী করে তাদের মাধ্যমে পুরো নারায়ণগঞ্জ এর পথশিশু কিশোর-কিশোরীর পড়ালেখার সুযোগ দান, নির্যাতিত নারীদের আইনী সহায়তা প্রদান নানা ভাবে মানবিক উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
উক্ত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আসনকে যিনি অলংকৃত করেছিলেন অনামিকা হক প্রিয়াংকা, স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ। যিনি একজন সমাজ সেবক, সমাজ সংস্কারক ও একজন দক্ষ সংগঠক।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ সানোয়ার হোসাইন, ভাইস চেয়ারম্যান, জাগো নারী ফাউন্ডেশন।
উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ আবদুল আলীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক নারায়ণগঞ্জ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নূর মোহাম্মদ চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, জাগো নারী ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় কমিটি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মতিউর রহমান, ডিরেক্টর ফাইন্যান্স, জাগো নারী ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কাকলী আক্তার, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সভাপতি, জ্ঞানের প্রদীপ বিদ্যানিকেতন, নারায়ণগঞ্জ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আফরোজা আক্তার, প্রধান শিক্ষক, দেলপাড়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় আলোচনা সভা ও এওয়ার্ড প্রদান। সকলের গঠনতান্ত্রিক বক্তব্য সত্যিকার অর্থে নারী দিবসটিকে প্রানবন্ত করে তুলেছিল।
নারীর মর্যাদা নারীর অধিকার পবিত্র কুরআনেও নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান যথাযথ মর্যাদার সহিত দিতে হুকুম করেছেন।
উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শতাধিক নারী পুরুষ এদের মধ্যে অধিকাংশই নারীই এবং দক্ষ সংগঠক। সমাজে বঞ্চিত অবহেলিত শোষিত মানুষদেরকে নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।
আলোচনা শেষে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে ইফতার এর প্যাকেট প্রদান করা হয়।
যথাযথ সুন্দর ভাবেই সকলে ইফতার সম্পন্ন করে যার যার মত করে অনুষ্ঠান ত্যাগ করে।