• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:

প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতা ফিরোজ আফগানির ১৬তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

রিপোর্টারের নাম / ২৯৩ জন দেখেছে
আপডেট : শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫

বাংলাদেশর চলচ্চিত্র জগতের এক সময়ের ৮০ ও ৯০ দশকের প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতা নাম তাহ-মিনুল ইসলাম ওরফে ফিরোজ আফগানির আজ ৩রা মে প্রয়াণ দিবস বার্তা বাংলাদেশ ২৪ ডটকম এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। আমেরিকাতে বসবাসরত ফিরোজ আফগানির তিন বোনের মধ্যে বড় বোন যিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একজন মানবিক সংগঠক। মাদার তেরেসা খ্যাত, কবি সাহিত্যিক অসংখ্য গুনের অধিকারী, জাগো নারী ফাউন্ডেশনের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন ও সভাপতি নুর-উন-নাহার মেরী “বার্তা বাংলাদেশ ২৪ ডটকম” এর সম্পাদককে জানান, ফিরোজ আফগানি অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। তার সাথে তার শৈশব কেটেছে পাকিস্তানের মাটিতে।
অসংখ্য গুনের অধিকারী ছিলেন ফিরোজ আফগানি। ছোট ভাই ফিরোজ আফগানির অসংখ্য স্মৃতি চারণের মধ্যে ৯০ দশকের দিকে একটা রোমান্টিক স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে কান্নাভরা কন্ঠেও এক পসলা হেসে ফেলেন। মেরী বলেন, তখন তিনি সিপিং করপোরেশন এর ডিপুটি ডিরেক্টর। একদিন ফিরোজ আফগানী তাকে এফডিসিতে নিয়ে যায় সেখানে একজন পরিচালকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। নুর উন নাহার মেরী তখনও জানেনা যে তার ইন্টারভিউ চলছে।
যথারীতি এফডিসি থেকে বেরিয়েই উৎফুল্ল কন্ঠে বোন নূর উন নাহারকে বলে,  আপু তোকে একটা নড় ধরনের সারপ্রাইজ দিবো। প্রথমদিকে মেরী আনন্দিত হলেও পরবর্তীতে  যখন সারপ্রাইজটা কি জানা হয় তাৎক্ষণিকভাবেই নুর উন নাহার মেরী সাফ সাফ জানিয়ে দেন ওসব সিনেমা টিনেমার কাজ আমাকে দিয়ে হবেনা। হাসি মাখা মুখটা আফগানির যেন বিষন্নতায় ছেয়ে যায়।
ফিরোজ আফগানি ১৯৫৬ সালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার সম্ভ্রান্ত সরকার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার নানা বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানাধিন গুনারীতলা গ্রামেরত এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম এম. এন. ইসলামের নয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন এই প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতা তাহ-মিনুল ইসলাম ফিরোজ আফগানি।
পিতা মরহুম এম.এন ইসলাম তৎকালীন পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। পিতার কর্মজীবন সুবাধে আফগানি মাত্র ১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সাথে পাকিস্তানে পাড়ি জমান। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বি.এ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তাঁর।শৈশব কাটাতে থাকে সেখানেই। কৈশর বয়স থেকে তিনি অভিনয় শিল্পের প্রতি প্রচন্ডভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বি.এ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
শৈশব ও কৈশোর বয়স থেকেই স্কুল ফাঁকি দিয়ে করাচির ফিল্ম স্টুডিওতে কিংবদন্তী নায়ক ওয়বিদ মুরাদ, মো.আলী ও দর্পন তাদের সাথে চুপিচুপি দেখা করেন তিনি।
বিশেষ করে কৌতুক অভিনেতা রংগীলার ভক্ত হিসেবে ব্যক্তিয় জীবনে তাঁকে অনুকরণ অনুসরণ করা শুরু করেন আফগানি। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশে চলে এলে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে এফডিসিতে ঘুরাঘুরি ছিল প্রিয় এই কৌতুক অভিনেতা আফগানির।
একসময় বাবা মায়ের অনুমতি ছাড়াই অভিনয় জগতের সাথে যুক্ত হয়ে যান তিনি। বাবা তার এই সিদ্ধান্ত মন থেকে মেনে নিতে পারেননি তাই ১৯৭৮ সালে আফগানিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সিকিউরিটি বিভাগের (নন কমিশন) পজিশনে চাকুরীতে যোগ দান করান।
কিন্তু চট্রগ্রামে ১ বৎসরের ট্রেনিং করতে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেন তিনি। মাকে প্রতিদিন ফোন করে বলেন, তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছে এখানে মন টিকাতে পারছেননা তিনি। এক পর্যায়ে তাঁর কোর্স ইনস্ট্রাক্টর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে বাসায় আফগানীর বাবার সাথে দেখা করেন।
ফিরোজ আফগানির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে বলেন, পিতা হয়ে আপনি আপনার ছেলের জীবন কেন নষ্ট করছেন? সে তো একজন শিল্পী হয়ে জন্মেছে। সে একটা জলন্ত প্রতিভা তাকে মুক্ত জীবনে ছেড়ে দেন তার প্রতিভা বিকাশে বাঁধা দিয়েন না। আমি চাকুরীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আপনাকে অনুরোধ করছি ছেলেকে চাকুরী থেকে ছাড়িয়ে আনুন!
তাঁর কথা মতো আফগানিকে তাঁর বাবা মুক্ত করে আনেন এবং ফ্লিম জগতে ফিরে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দাপিয়ে অভিনয় করেন ফিরোজ আফগানি। ১৯৮০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত তাঁর বিবাহ অনুষ্ঠানে চিত্র জগতের প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দ মধ্যে অভিনেতা সোহেল রানা, জসীম, ফারুক, অভিনেত্রী শাবানা সুচরিতা, অন্জনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যক্তি জীবনে আফগানি একজন বন্ধু প্রতিম, নির্লোভ, নীরহংকা ,পরোপকারী, অত্যন্ত মানবিক ও মহৎ চিন্তা চেতনার মানুষ ছিলেন। তাঁর নিজ এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত ভালোবাসার একজন মানুষ ছিলেন কৌতুক অভিনেতা ফিরোজ আফগানি।
১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মজিদ বঙ্গবাসী পরিচালিত ‘টারজান অব বেঙ্গল’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আফগানী প্রথম চলচ্চিত্রে আসেন। তাঁর অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে- বন্দিনী, মায়ামৃগ, প্রিয় বান্ধবী, জবাব, মাটির মানুষ, মোকাবেলা, ওমর শরীফ, বাহাদুর, দোস্তী, যাদুনগর, শাহজাদা, রাজমহল, নওজোয়ান, লুটেরা, যদি জানতেম, তাজ ও তলোয়ার, ঝুমকা, সুলতানা ডাকু, সিআইডি, সোনার সংসার, প্রেম কাহিনী, নিশানা, বাহাদুর নওজোয়ান, মানসী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, সুখে থাকো, সেলিম জাভেদ, ওস্তাদ সাগরেদ, নবাবজাদী, নবাব, রাজমহল, সোহাগ মিলন, বাহাদুর, সময় কথা বলে, বুলবুল-এ-বাগদাদ, হুর-এ-আরব, লাইলী মজনু, শীষনাগ, জুলি, ধনী গরিব, বিবাদ, রানী চৌধুরানী, আখেরী নিশান, আল-হেলাল, রাজনন্দিনী, ফুলের মালা, রকি, আমিই ওস্তাদ, ধর্ম আমার মা, নিয়ত, নিয়তির খেলা, দেবর ভাবী, চোর ডাকাত পুলিশ, বিরাজ বৌ, গর্জন, ধনরত্ন, কাজের বেটি রহিমা, ইত্যাদি
ফিরোজ আফগানি নিজস্ব প্রযোজনায় নির্মান করেছিলেন “আফগানী এল দেশে” ছবির স্ক্রিপ রাইটিং ছিল তাঁর নিজস্ব। ছবিটি একেবারেই শেষ পর্যায়ে থাকা অবস্হায় তিনি আমেরিকা চলে যায়। এবং সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।পরবর্তিতে মৃত্যুর পর এই ছবিটি অন্য এক প্রযোজক নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে রিলিজ করেন।
ফিরোজ আফগানি ১৯৯২ সালে “থিয়েটার এ্যান্ড স্পিস কমিউনিকেশন” বিষয়ের ওপর অভিনয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকাতে গিয়েছিলেন।অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই কৌতুক অভিনেতা ৩রা মে ২০০৯সালে তার পাকস্থলীতে ক্যান্সার ধরা পড়লে খুব অল্প দিনের মধ্যেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করেন। গুণী এই কৌতুক অভিনেতার অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশ ফ্লিম মিডিয়া জগতে চলচ্চিত্রে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আমেরিকার হিউসটনে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং আমেরিকাতেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবারের পাশাপাশি গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সেই শোকের ভয়াবহতার জলন্ত স্বাক্ষী হয়ে অনেক বছর তাঁর গর্ভধারিণী মা বয়ে চলেছিলেন। অবশেষে আমেরিকায় অবস্থান কালে তিনিও মৃত্যু বরণ করেন।
ফিরোজ আফগানীর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আমেরিকায় ফ্লোরিডার চাকুরিরত আছেন। এবং আমেরিকার ধনাঢ্য পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতেই আছেন।
ফিরোজ আফগানীর স্মরণে গঠন করা হয়েছে-“ ফিরোজ আফগানি স্মৃতি পরিষদ ”জামালপুরের ইসলামপুর থানা কমিটি প্রতি বছর তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন করে থাকেন। উক্ত সভায় খতমে কোরআন , মিলাদ ও দোয়া মহ্ফিল শেষে রাতে খাবারের আয়োজন করা হয়।
ফিরোজ আফগানির পরিবার দেশবাসীর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য মাগফেরাত কামনার জন্য অনুরোধ জানান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পরপারে তাঁকে যেন জান্নাত উ্ল ফেরদৌস নসিব করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১