৪৪তম বিসিএস থেকে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন গুনারীতলা দারোগা বাড়ির কৃতি সন্তান আবদুল্লাহ মারুফ
রিপোর্টারের নাম
/ ২০১
জন দেখেছে
আপডেট :
মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫
শেয়ার
৪৪তম বিসিএস থেকে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন আব্দুল্লাহ মারুফ। আব্দুল্লাহ মারুফ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জন আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান। বর্তমানে সে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত আছেন।
মরহুম আখের মাহমুদ মন্ডল। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানাধীন ঐতিহ্যবাহী গুনারীতলা গ্রামের দারোগা বাড়ির একজন প্রবীন বিজ্ঞ ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি! জীবনভর তিনি সমাজের তথা মানব কল্যাণে কাজ করে গেছেন! মরহুম আখের মাহমুদ মন্ডলের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জন মো: আবুল কালাম আজাদ। আবুল কালাম আজাদ ছিলেন অত্যন্ত তীঘ্নবুদ্ধিসম্পন্ন ভদ্র নম্র ও বিনয়ী মানুষ। ছেলেবেলা থেকেই মাতাপিতার প্রতি ছিলেন পরম শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত।
জনাব আবুল কালাম আজাদ সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে সর্ব প্রথম যে সেনাবাহিনী জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তিনি ছিলেন সেই মিশনের একজন সদস্য। আমেরিকা ইরাক যুদ্ধের পর যুদ্ধ বিধস্ত দেশ গঠন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উন্নয়নে সেকালে বাংলাদেশের সেনাসদস্যগণ বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন জনাব আবুল কালাম আজাদ তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের একজন গর্বিত সৈনিক।
বিয়ের পর আবুল কালাম আজাদ সাহেবের ঘরকে আলোকিত করতে প্রভুর পক্ষ থেকে আসে তিন তিনটা সন্তান। মনি, মিতু ও মারুফ। মারুফ যখন খুব ছোট নিয়তির ডাকে মনি মিতু ও মারুফ এর মমতাময়ী মা অর্থাৎ জনাব আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সহধর্মিণী ইহধাম ত্যাগ করেন।
জনাব আবুল কালাম আজাদ স্ত্রীর বিয়োগব্যথায় দিশেহারা হয়ে পড়েন আরও বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েন মাতৃহীনা তিন তিনটা সন্তানের কথা ভেবে। করিডরে ভরপুর আনন্দের মাঝে অকস্মাৎ কালোমেঘ চার চারটা জীবনকে ঘীরে ফেলে বিষন্নতায়। সুখ নামের পাখিটিও খাঁচা থেকে উড়াল দেয় আকাশে।
জনাব আবুল কালাম আজাদ সীমাহীন ধৈর্য আর প্রভুর উপর অগাধ আস্থা রেখে পাড়ি জমাতে থাকেন উথাল সমুদ্রপথ সুদীর্ঘ পথপরিক্রমা। তিলতিল করে গড়তে থাকেন সন্তানদেরকে মানুষ করার মানসে। তীব্র বাসনায় আপনার সুখকে জলাঞ্জলি দিয়ে বড় করতে থাকেন প্রিয় সন্তান মনি, মিতু আর মারুফকে।
প্রভু নীতিবানদের ঠকাননা। পরতে পরতে বাঁধাগ্রস্ত করে আল্লাহ পরীক্ষা করেন সত্যিকার অর্থে তার উপর আস্থা রেখে যারাই পথ চলতে শিখেছেন তারাই কামিয়াবি হয়েছেন।
জনাব আবুল কালাম আজাদ তিন সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার সারাজীবনের উপার্জিত টাকা এবং পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে ময়মনসিংহে ক্রয় করেন তিনতলা বাড়ি। আজও সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।
বস্তুত ত্যাগের যে মহিমা আজ তারই বাঁধভাঙ্গা আনন্দ জোয়ার সন্তান মারুফ আজ বিসিএস ক্যাডার। সন্তানের এমন প্রাপ্তিতে আনন্দিত জনাব আবুল কালাম আজাদ। এ আনন্দ আজ শুধু তার একার নয় এ আনন্দ তার পরিবার পরিজন সকলের। এ আনন্দ গ্রামবাসী তথা পুরো দেশের।