• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

এসএসসি’তে শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশসেরা হয়েছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস

রিপোর্টারের নাম / ১৭৯ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

এসএসসিতে শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফল অর্জন করেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এর আগে ২০১৫, ২০১৭ ও ২০২২ সালে শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফল অর্জন করেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর ৩২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও মিসেস নাছিমা মোল্লা।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে দেশসেরার স্থানঅ র্জন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩১৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া তানভীর আহমেদ সামী জানান, মহামারি করোনার জন্য আমাদের সবাই অটোপাস বলে অপবাদ দিত।
এ ছাড়া গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে পড়ালেখার অনেক ব্যাঘাত ঘটেছিল। এসব কিছুর মধ্যে শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমে আজকে আমাদের দেশসেরা ফলাফলে সেই অপবাদ মুছে গেল।
বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ ৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী নাফিসা তাননিম অধীরা জানান, ‘এই ফলাফলের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশনায় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে।’
নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল করে আসছে
এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত হোক। যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।’
তিনি আরোও বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ—পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ, আমরা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা। স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এত কঠোর পরিশ্রম করেন, যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, কো-এক্টিভিটি কারিকোলামেও দেশসেরা অর্জন করে আসছি।’
উল্লেখ্য, নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা দানের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা নরসিংদীতে তার এবং তার স্ত্রী মিসেস নাসিমা বেগমের নামে যৌথভাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ১৬৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্কুলটি কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ