বৃষ্টি ভেজা একটা মধ্যরাত আমার ঘরে ঢুকে জানালো সে একটা নাটক লিখেছে,সহস্র সালের ক্রীতদাসদের কাহিনী।অত্যাচারের অবিকল পুনরাবৃত্তি – জন্ম জন্মান্তরের পার্বনের ইতিকথা শোনায় ইনিয়ে বিনিয়ে…
রাস্তার ছোট্ট অনির্ভরযোগ্য কোণে পরিত্যক্ত লাইব্রেরির অলস শব্দরা যেমন থরে থরে ঠায় বসে থাকে ধুলো মাখামাখি করে।
অপ্রত্যক্ষ সত্য – সে তো মিথ্যারই ছেলেবেলা,
ভাগ্য ব্যয় হতে তারা অস্বীকার করে, তুরীয় উল্লাস
বিড়ম্বনা মানে না-
বিগত রাতে পোড়ানো আবেগ ভালোবাসা
শুধু রশ্মিতে দ্যুতি ছড়িয়ে ঘোরে…
মধুচক্র মন আধুনিকোত্তর ধরার চেষ্টায় প্রতিভা আবেশে মিশিয়ে জাল ফেলে। শরীরবৃত্তীয় জলমহলে চলে
রঙিন ভালোলাগার মাছ শিকার-
অন্য একটি আলোতে ছায়ার মৃদঙ্গ বাজে,
রাতে ফোটা স্নিগ্ধ সাদা গুলাচের শ্যাওলা ধরা শাখাগুলো নেচে নেচে গল্প শুনালো।সেও কপর্দকশূন্য হয়ে ঝুরঝুর ঝরে গিয়ে বল্লো;জলের ভারই শাখাকে নিচে নামাতে পারে…
আনত ডালপালারা তিন পুরাতন সেসব জলীয় গল্প বলে
পাতায় পাতায় ভিজে কথারা দুলুনি দেয় যখন। তখন
শাখার সাথে হৃদয়ও নুইয়ে আসে সে সমস্ত কারণে ।
বিচ্ছেদের সাথে বরাবর ফুলেদের আড়ি।
ফুলে ফুল জোড়া দিয়েই বরণ মালা হয়,
সমাধির পাড় বোনা হয়,
প্রণয়ের মালা গাঁথা হয়,
বিরহীর হাত থেকে পড়ে যাওয়া ফুল থেকে আরতির মৌ মৌ নৈকট্য সরে যায় …
তৃষাকাতর শুষ্কতার যন্ত্রণা মুছে যায় প্রেমময় বসন্তের ভরা বরষায়,জমির উপরে জলের আদলে ঝরে পড়ে ভালোবাসা।
কুলকুল বয়ে যাওয়া ঢেউ প্রাণান্ত পরিণতি দাবী তোলে-
বুঝে নেয় শরীর গর্ভস্থ জলও কম চটকদার নয়,
উচ্চাভিলাষী কঠিন কাঠে রূপান্তরিত করে দেয়-
আর এক জলজ হৃদয়…