জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে সাতটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এই সাত মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:

পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ,সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আইনের এই সংশোধনের ফলে, এই আসামিরা আগামী দিনে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

গত সোমবার প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে তিনি: সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন। কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন না বা এসব পদে নিয়োগ পাবেন না।

এমনকি প্রজাতন্ত্রের (সরকারের) কোনো সেবায় নিয়োগ পাওয়ারও অযোগ্য হবেন এবং সরকারি কোনো অফিসে (পাবলিক অফিস) থাকতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল কাউকে অব্যাহতি বা খালাস দিলে তার ক্ষেত্রে এসব বিষয় প্রযোজ্য হবে না।

আইনের সংশোধনী নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এই আইন সংশোধনের রেট্রোসপেক্টিভ ইফেক্ট (ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা) আছে। অর্থাৎ, গেজেট সোমবার হলেও শেখ হাসিনাসহ যাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন না। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আইনটি যখনই হোক না কেন, তা তার আগে থেকেই কার্যকর হবে।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আরও বলেন, এই আইন সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং এর সংশোধনীকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, দ্রুত তদন্তকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে আরও কোনো দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)।
