সেদিন ছিল বাবার ভুমি সংক্রান্ত মুকদ্দমার ফৌজদারি কাজ। খুব স্পষ্ট মনে আছে বাবা মুকদ্দমার বারান্দায় একটা খুটির কাছে আমাকে রেখে মুকদ্দমার ভিতরে গিয়েছিলেন। বলে গিয়েছিলেন, খোকা এক পা’ও এখান থেকে নড়বিনা। আমিও দিব্বি মাথা নেড়ে সাই দিয়ে বলেছিলাম হুম, নড়বোনা।
কিন্তু শিশুদের মন বলে কথা কোত্থেকে একটা বাজিকরের আগমন ঘটে। হাতে দু’টি শিকলে বাঁধা প্রাণী। একটার নাম শাপ আরেকটার নাম বেজি যাকে নেওলও বলে থাকি।
হই হই রই রই, আয় আয় গেলি কই
তোরা দেখে যা দেখে যা সাপের খেলা
এরুপ নানান রকমের সিগলীতে মানুষ মুহুর্তের মধ্যেই জড় হয়ে গেলো। মাঝে ছিলাম আমিও একদম সামনের সারিতে। ছোট বলে ঘাড় চাপা দিয়ে সামনের সারিতে বসিয়ে দিয়েছে আমায় আমাদেরকে।
এদিকে বাবা মুকদ্দমার কাজ দ্রুততার সাথে সেরে ছুটে এসেছেন বারান্দায়। এসে দেখেন আমি নেই। হায় হায় অনেক ডাকাডাকি অনেক খোজাখুজি##। আমাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। আমিও খেলার নেশায় ভুলে গেছি বাবার কথা ফৌজদারির বারান্দার কথা কোথায় আছি গ্রামে নাকি শহরে সেকথা। সব ভুলে মুগ্ধ মনে খেলা দেখছি। অবশেষে ভীড়ের মধ্যে বাবা আমার নাম ধরে চীৎকার করে ডাকতে ছিলেন।
বাবার ডাক কানে বেজে উঠলে আমিও ভীতসন্ত্রস্ত হই এবং ভীড় ঠেলে বেরিয়ে আসি। দেখি বাবার চোখ ভরা পানি থৈথৈ করছে। ঠিক আমাকে দেখার পর চোখের পানি নদীর স্রোত হয়ে যেন বইতে শুরু করলো অনর্গল । বাবা, তোমাকে ভুলিনি, তোমাকে শত পৃথিবীর অন্তরালেও ভুলা যাবেনা। পরজীবনে দেখা দিও। প্রভু হে, আমার বাবাকে তুমি নাজাত দিও। আমিন