রবিবার (২নভেম্বর ২০২৫) দিনব্যাপী নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হলো এ সময়ের বাস্তবতার কবি মানবতার কবি শিশুতোষ কবি প্রতিভাবান কথাশিল্পী ও সাংবাদিক তাহমিনা শিল্পীর জন্মদিন অনুষ্ঠান।

গুণী এই শিল্পীর জন্ম ১৯৭৭ সালের ২নভেম্বর মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে। শৈশব ও কৈশোরের চির চেনা চির জানা পদ্মার অন্যতম শাখা কুমার নদ ও তাঁর দাদা বাড়ী গ্রামের নান্দনিক পরিবেশ সময়ের পথধরে আজও কবির হৃদয়কে আন্দোলিত করে যায়। তিনি তার লেখনীতে শৈশবের সুন্দর স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা প্রাকৃতিক প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্যকে তার কাব্যে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

পিতার নাম তৈয়ব আলী মিয়া এবং মাতার নাম মমতাজ জাহান নিলু। তিনি তিন বােনের মধ্যে সবার বড়। পেশাদার ভাবে তাহমিনা শিল্পী একজন কবি, কথাশিল্পী, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।

তাহমিনা শিল্পী একজন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি কবিতা লেখার জন্য সকলের কাছে সুপরিচিত হলেও তার লিখা ছোটগল্প, সমসাময়িক ঘটনাবলী এবং সামাজিক সচেতনতামূলক লেখা লিখেও পাঠক হৃদয়ে সারা ফেলেছেন। তিনি ‘লাল লিপস্টিক’ নামে একটি গল্পগ্রন্থসহ একাধিক বই রচনা করেছেন।

তাহমিনা শিল্পী ছোটবেলা থেকেই ছিলেন লেখালেখির প্রতি বিশেষ অনুরাগী। স্থানীয় পত্রিকা, স্কুলের বার্ষিকী অনুষ্ঠানে কবিতা লেখালেখি শুরু করলেও সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ বেতারের ‘কলকাকলি’ অনুষ্ঠানে নিয়মিত কবিতা প্রচারের মাধ্যমে লেখালেখির জগতে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

কবির প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতা গ্রন্থগুলো হলো- প্রণয়ের জলবাড়ি, কুসুম বউয়ের নাকের নোলক হারিয়েছে গহীন গাঙের জলে, মাতাল জোছনা, আঁকা পৌরাণিক প্রেম, ওত পেতে আছে। উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলোর মধ্যে হৃদয়পুরের চুপকথা, ,আলতাদিঘির লালটিপ ,আধ পাগলা জাকির হোসেন ,লাল লিপস্টিক , শালিক পাখির অভিমান। তিনি শিশুতোষ গল্প লিখেছেন তমালের সুন্দরি হাঁস, ও নীল প্রজাপতি, এবং খরগোশছানা ও বুদ্ধিমান টুনটুনি, ও নীল প্রজাপতি, অর্পণ ও কাঠবিড়ালি প্রভৃতি। তাঁর সম্পাদিত গল্প গ্রন্থ ‘বুনো বাতাসের গল্প’ বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়াও ছাব্বিশ এর বইমেলায় তাঁর আরও দুটি গ্রন্থ আসছে।

তাহমিনা শিল্পী বিভিন্ন অনলাইন জার্নাল ও জাতীয় দৈনিকে তার লেখা বেশ কিছু কবিতা গল্প ও ফিচার ছাপা হয়েছে। শিক্ষা জীবনে তিনি ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ভূগােল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাকোত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলাভিশনের সম্প্রচার ও প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত আছেন।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন, অসংখ্য পুরস্কার,। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার এর মধ্যে বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটির ভালোবাসার গল্প ইভেন্ট পুরস্কার ত্রৈমাসিক সাহিত্য দিগন্ত পুরস্কার, এন আর বি প্রতিভা প্রকাশ লেখক পুরষ্কার, ইডেন কলেজের সার্ধশত বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য বিভাগে কৃতি শিক্ষার্থী পুরস্কারসহ বেশ কিছু তিনি পেয়েছেন।আরও পেয়েছেন দু’পার বাংলায় বেশ কিছু বিশেষ সম্মাননা।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিতা। স্বামী শামসুদ্দীন আহমেদ হীরা এবং একমাত্র ছেলে শারার যুবায়ের অর্পণকে নিয়ে তিনি সুখে শান্তিতেই দিন অতিবাহিত করছেন।