ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম মসজিদ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানীতে অবস্থিত। যা স্থানীয়ভাবে চিকাজানী প্রাচীন মসজিদ নামেই পরিচিত।
সুত্রে জানা যায় কেউ কেউ এই মসজিদটিকে আজগবি মসজিদ নামেও চিনে থাকেন। অনেকেই ধারনা করেন এই মসজিদটি মাটির নিচ থেকে অলৌকিক ভাবে গড়ে উঠছে।
এক সময় মসজিদে ফার্সি কিতাবের প্রচলন ছিল। তাই অনেকেরই ধারণা প্রাচীনকালে ফার্সি শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে মসজিদটি ব্যবহৃত হতো।
ধারণা করা হয়, ১৫০০ শতাব্দীর শেষের দিকে খাঁন জাহান আলী (রহঃ) এর অনুসারীরা এই অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেন। সে সময়ে তারা খরস্রোতা চন্দ্রা নদীর চন্দনপুরা ঘাটে বসতি স্থাপন করেন। তারা খাঁন জাহান আলী (রহঃ) মাজারের নকশার আদলে মসজিদটি স্থাপন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা উকিল আহমেদ বলেন , রাজখুরিয়া গেন্দা নামে এই অঞ্চলে একজন ভূস্বামী ছিলেন। তিনি একজন মুসলিম সাধক ফকিরের আধ্যাত্নিকতায় মুগ্ধ হয়ে সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের জন্য আশেপাশে ৩০ বিঘা জমি নিয়ে একটি মসজিদ নির্মানের সিদ্ধান্ত নেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতিচ্ছবি হচ্ছে আজকের এই মসজিদ। মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কবর রয়েছে। কবর দু’টি যথাক্রমে তার ছেলে শেখ জালাল এবং শেখ ফরিদের।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, মসজিদটি নির্মাণে বর্গাকৃতির ইট, চুন ও সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণের বয়স আনুমানিক ৫০০-৬০০ বছর। এতো দীর্ঘ বছর মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকার রহস্য আজো অজানাই রয়েছে। মসজিদের বাইরের দিকটি দেখতে বড় মনে হলেও ভিতর দিকটা একেবারেই সংকীর্ণ।
বর্তমানে মসজিদে জায়গা স্বল্পতা দেখা দেয়ায় স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তার পাশে তিন তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এটি শুধু জামালপুর নয়, গোটা ময়মনসিংহ বিভাগের প্রত্নপর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত নিঃসন্দেহে।