বাংলাদেশের সমকালীন সাহিত্য অঙ্গনে কবি, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে নূর কামরুন নাহার একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি ১০ মার্চ ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়। পিতা এ.টি.এম. শরফুজ্জামান এবং মাতা মরহুম কানিজ নূরজাহান বেগম। তার শিক্ষক মা নিজের নামের প্রথম অংশ কন্যার নামের সাথে সংযুক্ত করে লেখক কন্যার নামে স্বাতন্ত্র্যতা যোগ করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সহধর্মিণী এবং দুই সন্তানের জননী। সম্প্রতি টুসী নামের মিষ্টিমেয়ের শাশুড়ী হয়েছেন, জোনাকি নামের এক কন্যা তার আনন্দ ও মানবিকতার প্রকাশ।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষে (BIWTA) জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (DPDC) ডিজিএম হিসাবে কর্মরত।
নূর কামরুন নাহারের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় স্কুলজীবন থেকেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কলাম রচনায় সক্রিয়। তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জীবনঘনিষ্ঠতা, মানবিক বোধ, সামাজিক বাস্তবতা এবং নারীজীবনের নানা দিকের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। বিশেষ করে জেন্ডার ইস্যু, নারী ক্ষমতায়ন এবং সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় অসংখ্য ফিচার ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
সাহিত্যজীবনে তিনি বিভিন্ন ধারায় উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস “জলরঙে আঁকা”। পরবর্তীতে তিনি কবিতা, গল্প ও উপন্যাসে সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কবিতার বই “জলের শরীর”, “তোমার ভাগ চাই”, “একা আলো”; গল্পগ্রন্থ “শিস দেওয়া রাত”, “মৃত্যু ও একটি সকাল”, “বৃক্ষ ও প্রেমিকের গল্প”; এবং উপন্যাস “বিকেলের চিল”। এছাড়া “নারী ক্ষমতায়ন : স্বপ্ন ও বাস্তবতা” নামে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কলামগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।
আমরা যৌথভাবে সম্পাদনা করেছি দ্বিভাষিক গ্রন্থ জলের গল্প, নারীর কলমে দক্ষিণ এশিয়ার গল্প। এছাড়াও বৃহস্পতির আড্ডা গল্পে সংখ্যা, মুক্তির গল্পে দুই প্রজন্ম।
প্রবন্ধ গ্রন্থ নারীর বিশ্ব।
মেঘনা নদী পাড়ের কন্যা
নূর কামরুন নাহারের গল্পে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নদী নদীর ভাঙন চর চরের জীবন যাত্রা মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীর প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর রচনায় একদিকে যেমন মানবিক বোধ ও সমাজচেতনা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে নারীর আত্মমর্যাদা ও সংগ্রামের শক্তিশালী উচ্চারণ।
সাহিত্য ও সমাজচিন্তার সমন্বয়ে নূর কামরুন নাহার সমকালীন বাংলা সাহিত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
জীবন জটিলতার প্রতিটি বাঁক লেখককে চিনিয়েছে বাস্তবতা, মানুষ ও সময়। সময়ের রুক্ষ কর্কশ মাজুনী তাকে প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করে ।
নূর কামরুন নাহারের সাথে কবে কখন প্রথম দেখা হয়েছে সেটা হয়তো মনে করা যায় অনায়াসে, তবে “প্রেম হয়ে যায় ” এমন বাক্যের নিয়ম মেনেই অনিয়মে আমরা কাছে এসেছি। ভালবেসেছি প্রেম হয়ে গেছে।
নান্দনিক অনিয়ম বেঁধে রেখেছে ব্যাখ্যাতীত সম্পর্কের অমলিন সূতোয়। কেউ বলে নূর কামরুন নাহার আমার বান্ধবী, কেউ বলে বোন। আসলে বোন বন্ধু মিলিয়ে সম্পর্কের গভীরতা যতদূর পৌছাতে পারে আমি আর নূর কামরুন অনুভব করছি কবিতায় গল্পে প্রবন্ধে সম্পাদনায় আনন্দে আড্ডায় ঘোরায় তর্কে ভালবাসায় সমর্পণে।
সে মাঝে মাঝে আমাকে কঠিন শাষনও করে , তর্ক হয় তবে কুতর্ক নয় বিচ্ছেদ নয়। সে আমার শেকল নয় আমিও তার শেকল নই। অকৃত্রিম অনন্য এ বাঁধন দুজনের।
কখনও কাজ কখনো প্রচন্ড অকাজ সবগুলোই মহামূল্যবান হয়ে অনিবার্য পথ নির্দেশ করছে অদৃশ্য একজন ।
তার কাছে প্রার্থনা তিনিই পরিচালিত করুন সুন্দরে শুদ্ধে স্বার্থহীন সম্পর্কে। শুভ জন্মদিন কবি ও কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার
Nurquamrun Naher