চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে টঙ্কাবতী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ২৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি পদচারী সেতু। লোহা, টিনশেড ও কাঠ দিয়ে তৈরি সেতুটির প্রস্থ প্রায় পাঁচ ফুট। গতকাল সন্ধ্যায় এই পদচারী সেতুর উদ্বোধন করা হয়।
নতুন সেতুটি আমিরাবাদ ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া ও মুহুরীপাড়াকে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে অন্তত ১০টি পাড়ার প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময়ে নদী ভরা থাকায় খরস্রোতা পারাপার করা সম্ভব হয় না। মানুষকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ঘুরে নদী পার হতে হয়। শুষ্ক মৌসুমেও হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি থাকায় পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সমস্যা কমাতে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেতু নির্মাণে কিছু বিত্তশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন।
সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে | সেতুটি উদ্বোধন করেন লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ এক হয়ে কাজ করলে উন্নয়ন থেমে থাকবে না। এমন উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আগের জনপ্রতিনিধিরা সুযোগ পেলেও এলাকায় উন্নয়ন করেননি। তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকায় একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য আমরা সরকারের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাব।’
গ্রামবাসী জানান, তারা বহু বছর ধরে এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও কেউ তা বাস্তবায়ন করেননি। তাই শেষ পর্যন্ত নিজেরাই পদচারী সেতু নির্মাণ করেন। সেতুর খরচ হয়েছে ৯ লাখ টাকা। এতে অন্তত কয়েক বছর নদী পারাপারে দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় তরুণ নাসিম আল রাকিশ বলেন, ‘আগে নদী পারাপারে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী ছিল। এখন মজবুত ফুট ব্রিজ চালুর ফলে বাসিন্দারা খুবই উপকৃত হবেন। তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে।’



