• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

জীবন যুদ্ধে হার না মানা একজন মাসুম আজিজ

রিপোর্টারের নাম / ১০৫ জন দেখেছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫

১৯৭৬ সালের ঘটনা। পালিয়ে এসে উঠেছিলেন ঢাকার আরামবাগের একটি মেসে। এর পর নানা ধরনের চড়াই-উৎরাই, আর্থিক অনটন, চাকরির প্রতি অনীহা, ছাপাখানার ব্যবসায় সুবিধা না করতে পারা- এসব বিপত্তির মধ্যে থেকেও শুধু অভিনয়ের ওপর একাগ্রতার তিনি হয়ে ওঠেন – ‘মাসুম আজিজ’।
ডাক্তার হতে চাননি। নিজের জীবন নিজে গড়তে চেয়ে সারা জীবন ল’ড়াই করেছেন।
“যখন ঢাকায় আসি, তখন প্রথমে আমি এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছিলাম। সেখান থেকে আরামবাগের একটি মেসে উঠে যাই। প্রথম মাস যাওয়ার পর আমি আর মেসের ভাড়া দিতে পারিনি বিধায় আমাকে মেস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং যে বুয়া আমাকে রান্না করে খাওয়াত, তার টাকা দিতে পারিনি বলে আমার ব্যাগটা আটকে দিয়েছিল।”
‘শুধু একটা প্যান্ট ও শার্ট নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম আমি। সারাদিন বসেছিলাম আরামবাগের রাস্তায়, না খাওয়া অবস্থায়। পরে যখন দেখলাম যে রাত্রে সেখানে থাকা অসম্ভব, তখন চলে গেলাম অন্য একটি জায়গায়, সেখানে একটি ছাদে গিয়ে ঘুমালাম। তখনও আমি ক্ষুধার্ত।’
তারপর এক হার না মানা জীবনের উত্থান। সততার – সরলতার – মানুষের ভালোবাসার। যে যু’দ্ধে তিনি হার মানেননি।
একবার এক টকশোতে অভিনেতা মাসুম আজিজকে প্রশ্ন করা হয় -“আপনি তো জীবনে অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন, এর মধ্যে কোনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে?”
তিনি বললেন, “একবার আমি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছি, অনেক দূর থেকে এক বুড়ি মা আমার সাথে দেখা করতে আসলেন, তার হাতে ছিল একটি টিফিন ক্যারিয়ার, সেটি আমাকে দিয়ে বললেন, “বাবা ; নাটকে, সিনেমায় দেখি তুমি ভালো মত খেতে পাও না, দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত কর, আমি তোমার জন্য একটু মুরগির ছালুন রেঁধে এনেছি, তুমি খাও বাবা, আমি তোমার খাওয়া দেখতে চাই”
বুড়িমার রেঁধে আনা ঐ মুরগির ছালুন ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। কিংবদন্তি মাসুম আজিজের শেষ ল’ড়াইটা ছিল ক্যা’ন্সারের সঙ্গে। বেঁচে থাকা তখন ঈশ্বরের কাছে। এ ল’ড়াইয়ে অবশ্য তিনি জয়ী হতে পারেননি। বাংলাদেশ এই কিংবদন্তিকে হারিয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২২, তবে তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টি ও কর্মের মাধ্যমে জায়গা করে নেওয়া আমাদের হৃদয়ে। পরপারে তিনি ভালো থাকুন এই কামনা করি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ