কিভাবে বিপদে পা দিচ্ছে বিএনপি? ড. মুহাম্মদ ইউনুস কি নির্বাচন দেবেন? তিনি কি মিথ্যা বলছেন: প্রিসিলা
রিপোর্টারের নাম
/ ৮৮
জন দেখেছে
আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫
শেয়ার
তাহলে বিএনপি কেন ভয় পাচ্ছে? আপনি কি মনে করেন বিএনপি’র কারণে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়েছে? এই ক্ষমতা তাদের ছিল? এত শক্তিশালী ছিল বিএনপি? আওয়ামীলীগের কাছে এত নির্যাতনের পরও কেন বিএনপি আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে পাশে চাইছে? কেন তাদের পুনর্বাসনে ব্যস্ত? শুধু কি টাকা? নাকি ভারতীয় চাপ ও সম্পর্ক? দেশের মানুষ কি বুঝতে পারছে বিষয়টা?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি কিছু অনুমান করতে পারছি, তা হলো
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে এক অদ্ভুত সমীকরণ—ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ড. মুহাম্মদ ইউনুস একা একটা দলের চেয়েও শক্তিশালী, এ শক্তি জনতার, এ শক্তি সততার, এ শক্তি দেশপ্রেমের।
ড. মুহাম্মদ ইউনুস মিথ্যা বলবেন না। তিনি একজন প্রথম সারির আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব; মিথ্যা বলা বা অসদাচরণ করলে তিনি বিশ্বের কাছে ছোট হয়ে দেখাবেন।
তিনি কোনো ছেঁচড়া নেতা, নমিনেশন বিক্রেতা বা নির্বাচনী বাণিজ্যে লিপ্ত ব্যক্তি নন। তাঁর পরিবারের কেউ এ দেশে রাজনীতি করবেন না। ড. ইউনুস রাজনীতি করতে আসেননি।
অন্য কোনো নেতা যদি বিশ্বের যে কোনো নেতার সাথে কথা বলতে চান, তাহলে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়; যেখানে ড. ইউনুস সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম।
ড. ইউনুস বুঝতে পারছেন, ভালো কাজের বিকল্প নেই। নির্বাচন যত পিছাবে, বেপরোয়া হয়ে যাবে রাজনৈতিক দলগুলো। করবে উন্মাদের মত আচরণ।
বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনুস ভালো কাজের মাধ্যমে যেভাবে সব রাজনৈতিক দলকে বিপদে ফেলছেন, তা লক্ষ্যণীয়। নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এমন কিছু কাজ করবেন, যা কোনো দল ক্ষমতায় থেকে পূর্বে করেনি বা ভবিষ্যতেও করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ:
• বিমান ভাড়া কমানো
• নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ
• পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা
• সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
• অপরাধ নিয়ন্ত্রণ
এই কারণে তিনি জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন।
সময় যতই যাচ্ছে ড. ইউনুসের জনপ্রিয়তা ততই বাড়ছে। যে দলই নির্বাচন দাবী জানাচ্ছে, জনগণ তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করছে এবং তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে।
যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি একাধিক ভিডিওতে বলেছিলাম , “ড. ইউনুসকে নিয়ে সরকার মহাচিন্তায়—না পারছে গিলতে, না পারছে বমি করতে।” বর্তমানে একই পরিস্থিতি বিএনপিও সৃষ্টি করছে।
ড. ইউনুস নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ইতিমধ্যে তিনি বিএনপির শত্রুতে পরিণত হয়ে গেছেন। তাই, কম সময়ে তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক স্তরের ‘টি-২০’ খেলার মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা অন্যদের জন্য মহা বিপদ ডেকে আনবে।
জনগণ ইতিমধ্যে টের পাচ্ছেন—দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, কে কী চায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ অস্থির। জনগণ এখন এমন কাউকে খুঁজছে, যিনি ক্ষমতার মোহ ছাড়া দেশের জন্য কিছু করতে পারবেন। কেউ কেউ ড. ইউনুসকে সরাতে আন্দোলনের ডাক দিলেও, অনেকেই তাঁদের অবস্থান বজায় রাখতে ড. ইউনুসের পক্ষে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুসের পক্ষে এ দলটি ছোট হবে না, এটাও অনেকটা নিশ্চিত।
ড. ইউনুস শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বের এক অমূল্য সম্পদ, যাকে অপমানের চরম ফল ভোগ করছেন পুরো শেখ পরিবার ও আওয়ামীলীগ। হাজার বছরে একবার এমন একজন নেতা জন্ম নেয়, যিনি সত্য, সততা ও সঠিক মূল্যবোধের পরিচায়ক। তাঁকে ঠেকানোর চেষ্টা নয়, বরং তাঁর দর্শন ও কাজকে স্বাগত জানানোই সময়ের দাবি।
আসুন, আমরা সবাই মিলে এই পরিবর্তনের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করি। ড. মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতালোভী নন, তাঁর বয়স প্রায় শেষ। মৃত্যুর খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে, দেশকে একটু পরিবর্তনের একমাত্র চেষ্টায়, দেশের প্রতিটা মানুষকে একটু সুখের ছোঁয়া দিতে অপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই মহান ব্যক্তি, যার চাওয়ার কিছু নেই, পাওয়ার কিছু নেই। আমরা নিজের স্বার্থের জন্য তাঁর বিরোধীতা করতে পারি, কিন্তু দেশের স্বার্থে কিছু ছাড় দেয়া বা কিছু ভালো বিষয়ে একমত হওয়াটা জরুরি। কোনো রাজনৈতিক দলই যে ক্ষমতায় গিয়ে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কাজ করে না, শুধু নামাজ, রোজা আর দেশের সেবা করে, এটা জনগণের অজানা নয়।