• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

বাংলাদেশ ও বাঙালীর জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন তথা রাজনীতি

রিপোর্টারের নাম / ৭৭ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশ বিশ্বমানচিত্রে অতি ক্ষুদ্র একটা দেশ। দরিদ্র, অখ‍্যাত, অনুন্নত এদেশের মানুষ। দেশটার কথা মনে হলে প্রথমেই যে ছবিটা ভেসে ওঠে তা হলো, ওইটুকু জায়গার ভেতর কিলবিল করা মানুষগুলো সারাক্ষণ শুধু নিজেরা নিজেরা মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বাকবিতণ্ডায় লেগেই আছে।

ছোটখাটো গঠনের অপুষ্টিতে ভোগা মানুষগুলো রাজনৈতিক যুক্তিতর্কে যেন কেউ কড়ো থেকে কমনা। চব্বিশ ঘণ্টাই থাকে উত্তেজিত। ফেসফুকের পাতা খুললেই দেখা যায় জ্ঞানী জ্ঞানী আলোচনা-কথার আক্রমন, পাল্টা আক্রমনে। এক অকথায় বলা চলে এরা যেন পচুর রাজনীতি বোঝে এমন স্বভাব।

অথচ এরা ভাবে না যে, আজকে এদের যে সন্তানেরা বইখাতার ব‍্যাগ কাঁধে নিয়ে গুটি গুটি পায়ে স্কুলে যাচ্ছে, তাদের জন্য কি ভয়ংকর এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে সামনে। অথবা এরা এর কিছুই বোঝেনা, কিংবা ডেমকেয়ার। এদেশে সম্পদ বলতে তেমন কিছুই নেই। যেটুকু ছিলো, বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বেশ আগেই। অর্থনীতি আজ ফাঁকা। শিক্ষার মান লজ্জাজনক রকমের খারাপ। বাতাস-পানি ভয়াবহ রকমের দূষিত। খাবার বিষাক্ত কেমিক্যলে। সরকারি অফিসের প্রতিটা টেবিলে দুর্নীতি আর দুর্নীতি।

রাস্তাঘাট মৃত‍্যুর ফাঁদে জর্জরিত। অসহিষ্ণু মানুষগুলোর মনে ক্ষোভের উদ্রেক যখন সীমানা ছাড়িয়ে যায় কেবল তখনই রাস্তায় গিয়ে এটা সেটা ভাঙ্গে। এটাই বাঙালীর ঐতিহ্য। দিনে দিনে এটাই কালচারে পরিনত হয়েছে। নিজেরা যে বাসে চড়ে অফিসে যায় আবার নিজেরাই সেই বাস ভাঙ্গে, পুড়ে। নিজেরা যে ট্রেনে চড়ে, সেই ট্রেনে আবার নিজেরাই আগুন ধরিয়ে বাহাবা নেয়। এটাই বাস্তবতা আমরা স্বচক্ষে দেখে আসছি।

পেটে খাবার নেই, যেটুকু খাবার আছে তাও আবার ভেজাল। অথচ মানুষগুলো বছরের পর বছর ধরে ‘রাজনীতি’ করেই যাচ্ছে ক্লান্তিহীন। যে বিধ্বংসী রাজনীতি দেশটাকে নিয়ে গেছে তলানিতে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যখন ৫০ বছর পরের পরিকল্পনা এখনই করছে, তখন এই রূপকথার দেশের রাজা-প্রজারা এখনও পড়ে আছে ৫০ বছর আগের ইতিহাস নিয়ে। কে তাদেরকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল, কে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা, কে রাজাকার, কে দেশপ্রেমিক, কে ‘র’-এর এজেন্ট, জাতীয় সংগীতে কি দেশের নাম আছে নাকি নাই, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ নাকি ৩ লাখ – এই সব ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ’ ইস‍্যু নিয়ে রাজা-প্রজারা এখনও তুমুল বাগবিতণ্ডায় ব্যস্ত। মারামারি রক্তারক্তি চলছেই, কিন্তু কোনও সমাধান এরা আজ অব্দি বের করতে পারলো না!  সবচেয়ে দুঃখজনক যেটা তা হলো, মানুষ এত দিনেও বুঝলো না যে, এই সব ইস‍্যুর সমাধান কোনওদিনই হবে না বা হতে দেয়া হবে না। রাজনীতিবিদরা এগুলো বেচেই খায়। এগুলোই তাদের রুটি-রুজি।

এই মানুষগুলোর এই উপলব্ধি কি কোনও দিন হবে যে, সবাইকে সবসময়, সবকিছু মানায় না। এত বিভাজন, নিজেদের ভেতর এত তীব্র মতবিরোধ- এইসব অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা। এগুলো এখন না। বিশ্বের অন‍্যান‍্য দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে এতবেশী মাথা ঘামায় না। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মানুষেরাও এত রাজনীতি করে না, আমাজনের জংলী মানুষেরাও রাজনীতি করে না। বিশ্বের কোনও সভ্য দেশে ছাত্র রাজনীতি নেই, পেশাভিত্তিক রাজনীতি নেই। রাস্তায় মিছিল, জনসভা, পোস্টার চোখেই পড়ে না বলতে গেলে। দেশের সম্পদ নষ্টের তো প্রশ্নই আসে না। রাজনীতি করে শুধু এই রূপকথার দেশের আধা-সভ‍্য, আধা-জংলীরা।

এরা দলাদলি কোন্দল বাদ দিয়ে কবে জাতি হিসাবে এরা একাট্টা হতে পারবে? আদৌ কি কোনদিন পারবে? অতীত বাদ দিয়ে কি এরা সামনে তাকাতে শিখবে? পেশাদার রাজনীতিবিদরা যে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বরং গত অর্ধ শতাব্দী ধরে দেশটার সর্বনাশ করেছে, এবং সুযোগ পেলে সামনেও করবে, এই সত‍্যিটা কি দেশটার হতভাগ্য মানুষগুলো কোনোদিন উপলব্ধি করতে পারবে? নিজেদের সমস্ত কোন্দল ভুলে গিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য একটা দেশ তৈরি করার তাড়না জন্মাবে বর্তমানের প্রাপ্তবয়স্ক সবার ভেতর – এটা কি আদৌ আর সম্ভব হবে?

দেশটার তো আর নাই কিছু! কি নিয়ে আর এত হাতাহাতি? দাঁত খোঁচানো বাদ দিয়ে পাছার লুঙ্গি (যেটা অলরেডি খুলে পড়ে গেছে) ঠিক করার হুঁশ কবে হবে এই দেশের মানুষগুলোর?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ