• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]

প্লেট সংযোগ খুলে গেছে বড় ভূমিকম্পের আভাস

রিপোর্টারের নাম / ৫৮ জন দেখেছে
আপডেট : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫

মাটির নিচে অবস্থিত তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। ইন্ডিয়ান প্লেট, বার্মিজ প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি সব সময় বিদ্যমান। আমাদের এখানে রয়েছে আসাম ফল্ট, ডাউকি ফল্ট ও উত্তর-পূর্বে মিয়ানমারের সেগাইং ফল্টের মতো চ্যুতি। এমন সব তথ্য দিয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার দেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পে তিন প্লেটের সংযোগ বা আটকানো অবস্থাটা খুলে গেছে। এর কারণে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। শুক্রবারের ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণীই দিয়েছে।

ভূমিকম্পের কম্পন মাটির নিজস্ব কম্পাঙ্ক ও ভবনের কম্পাঙ্ক একসঙ্গে মিলে গেলে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তিনটি টেকটোনিক প্লেট- ইন্ডিয়ান প্লেট, বার্মিজ প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি সবসময় বিদ্যমান। মাটির গঠনগত কারণে এ অঞ্চলে নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ অ্যাম্পলিচিউডের ভূমিকম্প হলে ক্ষতি বেশি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫০টি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে।

এক থেকে তিন মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত টের পাওয়া যায় না। কিন্তু চার বা তার ওপরে হলে মানুষ তা অনুভব করতে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও তৈরি হয়। মাটির ওপর কম্পনের যে তীব্রতা, এটা স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল মাঝারি ধরনের। এটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। এটিকে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলেই উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবারের ভূমিকম্পের কারণে আটকে থাকা প্লেটটি আটকানো অবস্থা থেকে খুলে গেছে উল্লেখ করে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ভূমিকম্প এত বড় ঝাঁকুনি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণ হলো দেশের পূর্ব প্রান্তটা হচ্ছে বার্মা প্লেট, পশ্চিমটা হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্লেট; এই সংযোগস্থলে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০১৬ সাল থেকে বলে আসছি ৮ মাত্রা শক্তির ভূমিকম্প এখানে জমা হয়ে আছে। সেই শক্তির সামান্য অংশ বের হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্মরণকালের এত বড় ভূমিকম্প হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে বিগত কয়েক দশকে হওয়া ভূমিকম্পের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ শক্তিশালী ও সর্বোচ্চ মাত্রার।

এদিকে একটি বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো হয় শুক্রবারের ভূমিকম্প তার একটি জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় একশ’ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশে বড় ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এটি কেবল বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। তিনি বলেন, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ১০০ থেকে ১২৫ বছর পরপর এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২৫০ থেকে ৩০০ বছর পরপর আসার সম্ভাবনা থাকে।

১৯৩০ সালের পর দেশে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। ১৮৬৯ সালে ৭.৬ মাত্রার কাছাড় ভূমিকম্প, ১৮৮৫ সালে ৭.১ মাত্রার বেঙ্গল ভূমিকম্প, ১৮৯৭ সালে ৮.১ মাত্রার গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্প এবং ১৯১৮ সালে ৭.৬ মাত্রার শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের ইতিহাস এ অঞ্চলের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ