প্রশ্ন জাগে জুলাই আন্দোলনকে আমরা বস্তুত কি নামে অভিহিত করতে পারি কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এটাকে কি হিসেবে দেখেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে সাধারণত ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে এর ফলাফল ও গভীরতার কারণে অনেকে একে ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন।
সহজভাবে বলতে গেলে জুলাই আন্দোলনকে আমরা গণঅভ্যুত্থান বলতে পারি। জুলাই আন্দোলন এটি একটা বিশাল জনজোয়ার বা আন্দোলন যা একটি শক্তিশালী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতন এই সংজ্ঞায় পড়ে।
অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করে এটা বিপ্লবও আখ্যা দেওয়া যায়। যখন কোনো আন্দোলনের ফলে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের পুরো ব্যবস্থা বা কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটে তাহাই বিপ্লব। সেমতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেহেতু রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছে, শুধু তাই নয় দেশের জনগণের মধ্যে থেকে ৬৫% মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে হ্যা ভোট দিয়েছে তাই একে অবশ্যই ‘বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং সরকারি বিভিন্ন নথিতে একে ‘গণঅভ্যুত্থান’ বা ‘জুলাই বিপ্লব’—উভয় নামেই চেনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) এই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো দমন-পীড়নকে “মানবতাবিরোধী অপরাধ” হিসেবে অভিহিত করেছে।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলোর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধকে সেরা অপরাধে আখ্যায়িত করা হয়েছে।ট্রাইব্যুনাল মনে করে, তৎকালীন সরকার আন্দোলন দমনে উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
দ্বিতীয়ত এটাকে গণহত্যা (Genocide) বনাম ম্যাসাকার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা এই ঘটনাগুলোকে ‘ম্যাস কিলিং’ বা ‘ম্যাসাকার’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, আইনি প্রক্রিয়ার শুরুতে এগুলোকে গণহত্যার অভিযোগে মামলাভুক্ত করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি স্বরুপ সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা অধ্যাদেশে জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে আন্তর্জাতিক বিচার বিশ্লেষণকগণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা (OHCHR) এই আন্দোলনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে এবং বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণ করছে।
উল্লেখ্য যে, এই অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।



