মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করতে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন জামালপুরের ইসমাইল হোসেন। সঙ্গে ছিল মেয়ের বিয়ের জন্য জোগাড় করা ৫ লাখ টাকা ও দু’টি মোবাইল ফোন। কিন্তু গন্তব্যে আর তার পৌঁছানো হয়ে উঠেনি।
শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ডেল্টা স্পিনিং মিলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। ৯মাস আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে কিছুদিন কাশিমপুরে ছিলেন। গত চার মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন। তবে তার স্ত্রী, মেয়ে, ও ছেলে পরিবারসহ গাজীপুরে থাকতেন।
তিনি আরও জানান, ছোট মেয়ে শারমিনের বিয়ের কথা-বার্তা চূড়ান্ত করতেই তিনি ঢাকায় আসছিলেন। মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি তিনি ১১শতাংশ জমি সাড়ে ১০লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকার মধ্যে ২লাখ টাকার ঋণ শোধ ও গ্রামে ঘর তৈরি বাবদ কিছু খরচ করে অবশিষ্ট নগদ ৫লাখ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।
তার ছেলে হাসান অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।
বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির কাজ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।