শাহবাগ ও জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে মাহফুজ আলমের ব্যাখ্যা
রিপোর্টারের নাম
/ ১০১
জন দেখেছে
আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫
শেয়ার
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নির্বিচারে সবাইকে ‘শাহবাগী’ বলা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টে এ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, জামায়াত অতীতে যুদ্ধাপরাধের সহযোগী ছিল। কিন্তু নাহিদ ইসলাম যেভাবে বলেছেন, এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কাফফারা দিয়েছেন। আমিও বলেছি, জামায়াতের যারা বাংলাদেশপন্থি, তারা এদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখেন। জামায়াতের নতুন প্রজন্মের অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদে কেউই পাকিস্তানপন্থি নন। তাই শুধুমাত্র স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়। তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আদর্শিক লড়াই করেই জয়ী হতে হবে এবং তাদের প্রোপাগান্ডার জবাব সত্যের মাধ্যমে দিতে হবে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, শাহবাগে যারা গিয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ ‘চেতনার অন্ধতা’-তে পড়ে গিয়েছিল। তবে অনেক ছাত্র ও তরুণ ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব থেকে নয়, বরং নিছক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। তরুণদের আবেগকে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থিদের মুজিববাদী অংশ ব্যবহার করে দেশে ‘মবোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
তিনি আরও লিখেছেন, তবে শাহবাগে অংশ নেওয়া অনেক ছাত্র-তরুণ পরবর্তীতে তাদের ভুল বুঝতে পেরে মুজিববাদী বয়ানের বাইরে যেতে চেয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনেকেই আহত হয়েছেন, কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। তারা আমাদের সহযোদ্ধা, আমাদের কমরেড। এই অভ্যুত্থানে শক্তিশালী ভূমিকা রেখে তারা লীগ ও মুজিববাদের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন এবং তাদের রাজনৈতিক ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তথা কাফফারা আদায় করেছেন।
মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, আমরা এখন অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে উপনীত হয়েছি। এখানে জামায়াত বা শিবিরের কর্মীদের ‘রাজাকার’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলে বধযোগ্য করার প্রচলিত বয়ানকে আমরা সমর্থন করি না। একইভাবে, শাহবাগের ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমিও ব্যক্তিগতভাবে এই ইসলামফোবিয়ার শিকার হয়েছি। শাহবাগের সাংস্কৃতিক প্রভাব বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ‘অমানুষ’ হিসেবে চিত্রিত করেছিল।
তথ্য উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, তবে পুরনো ‘শাহবাগী’ যারা এখনো শাহবাগের মূল আদর্শ, অর্থাৎ মুজিববাদ, ভারতপন্থা ও শেখ পরিবারের প্রতি আনুগত্যকে নিজেদের নীতিগত অবস্থান বলে মনে করেন, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তারাই গুম ও গণহত্যার উস্কানি দিয়েছিল এবং সেই কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এমনকি জুলাই গণহত্যার সময়ও তারা চুপ ছিল; কেউ কেউ বরং বৈধতা তৈরিতে ব্যস্ত ছিল। এখনো বিদেশ থেকে যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষ অবলম্বন করছে, তাদের একটি বড় অংশই শাহবাগের ফ্যাসিবাদী ধারার অনুসারী। এরা জনগণের শত্রু, ন্যায়বিচারের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু এবং গণ-অভ্যুত্থানের শত্রু। তাদের বিচার শুরু হয়েছে এবং এটি সম্পন্নও হবে।
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে শাহবাগে জন্ম নেওয়া মবোক্রেসি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সব পক্ষেরই ত্যাগ করা উচিত। গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সহনাগরিকদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সংলাপ ও সংহতির দিকে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। যারা শাহবাগের ছাত্র-তরুণদের মধ্যে মুজিববাদের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাদের ‘শাহবাগী’ ট্যাগ দিয়ে আক্রমণ করা কিংবা বিভেদ সৃষ্টি করা সবার জন্য ক্ষতিকর হবে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নির্বিচারে সবাইকে ‘শাহবাগী’ বলা বন্ধ করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই থাকবেই। তবে গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও মৈত্রী বৃদ্ধি করতে হবে, শত্রু কমাতে হবে এবং চিহ্নিত শত্রুর দীর্ঘমেয়াদী পরাজয় নিশ্চিত করতে হবে।