শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
Homeগণমাধ্যমপাঠ প্রতিক্রিয়া : দুঃখেরা খোরপোশ চায়

পাঠ প্রতিক্রিয়া : দুঃখেরা খোরপোশ চায়

আশফাকিজ্জামান- গল্পকার ও প্রাবন্ধিক

দু:খ যখন জীবনের কাছে খোরপোশ চায়-নূর কামরুন নাহারের কবিতায় জীবন, প্রেম ও প্রতিরোধ…

কবিতা জীবন ও কল্পনার অভিব্যক্তি। নীরব শব্দগুলোর অপূর্ব বিন্যাস। সেই শব্দগুলো হতে পারে প্রেমের, বেদনার, সংগ্রামের, স্বপ্নের অথবা বেঁচে থাকার। জীবনের সত্য ও সুন্দরের উপলব্ধি রূপ নেয় কবিতায়।

একজন চিত্রশিল্পী যেমন রংতুলি দিয়ে ছবি আঁকেন তেমনি একজন কবি শব্দ দিয়ে আবেগ, ভালোবাসা ও দ্রোহের ব্যঞ্জনা তৈরি করেন। একটি সুন্দর কবিতা জীবনকে একাত্ব করে। উন্মেষ ঘটায় নতুন বোধের। নতুন ভাবনার।
এমনি করে ভালোবাসা ও আবেগ থেকে রচিত হয় কবিতা। একটি ভালো কবিতা জীবন ও সমাজের মেরুকরণে পথ দেখায়। একজন কবি সুখ-দুঃখ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেন।

কবিতার এই সত্য সুন্দরের ধারাতেই যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কথাসাহিত্যিক, গল্পকার, উপন্যাসিক ও সংগঠক নূর কামরুন নাহার। সাহিত্যাঙ্গনে তিনি এক অনন্য সৃজনশীল কর্মী। নিবেদিতপ্রাণ।

এবার অমর একুশে বইমেলায় ‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়।’ শিরোনামে প্রকাশ হয়েছে তাঁর এক অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ। দেশে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে কবিতার বই তেমন বিক্রি হয় না। পাঠক যেন কবিতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু নূর কামরুন নাহারের কবিতার বই বলছে অন্য কথা।
পাঠকের আগ্রহ, কৌতূহল ও আলোচনায় বইটি দ্রুতই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। খুব দ্রুতই হয়তো তাঁর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাবে।
এটা প্রমাণ করে যে, মানুষ এখনো কবিতা পড়ে। যদি সেই কবিতায় নিজের জীবনের প্রতিধ্বনি খুঁজে পায়।

‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়।’ বইয়ের কবিতাগুলো কবির নিজের জীবনের গভীর অনুভবের বহিঃপ্রকাশ। কবিতাগুলোয় তাঁর শৈশব, কৈশোর, প্রেম, অপমান, সংগ্রাম ও সময়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে কবিতাগুলো কেবল সাহিত্যের অলংকার না হয়ে জীবনের গভীর সত্যে রূপ নিয়েছে।

নারীর প্রতি লালশা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব:

তাঁর একটি অন্যতম কবিতার শিরোনাম ‘কোনো কোনো মানুষের মাংসে অরুচি’।
এ কবিতায় কবি সমাজের এক গভীর মনস্তত্ত্ব উন্মোচন করেছেন।
মানুষ তার ধর্ম, সংস্কার ও রুচির কারণে অনেকে অনেক মাংস খায় না। কিন্তু নারী দেহের ক্ষেত্রে যেন এই বিচার নেই ।
কবিতাটি আসলে এক তীব্র সামাজিক রূপক। এখানে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। কবি যেন বলতে চান, নারীর প্রতি লালসা ও শোষণের ক্ষেত্রে কারও নৈতিকতা থকে না।

হৃদয়হীন ভালোবাসার গল্প:

কবির আরেকটি বিশেষ কবিতা হলো ‘সব মাংসের ক্রেতা’।
এখানে কবি একটি মাংসের দোকানের দৃশ্যকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
দোকানে বিভিন্ন ধরনের মাংস ঝুলে থাকে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাংস কেনে। কিন্তু কবি যখন বলেন—তিনি কলিজা বিক্রি করতে চান, তখন কেউ তা কিনতে চায় না।
এই প্রতীকীর মধ্য দিয়ে মানুষের
ভালোবাসার দৈন্যতা দেখিয়েছেন। মানুষ শরীর চায়। কিন্তু হৃদয় চায় না। নারীকে কামনা করে। কিন্তু তাকে বোঝে না। কবিতাটি সম্পর্কের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। যেখানে শরীরের চাহিদা আছে। কিন্তু হৃদয়ের দায়বদ্ধতা নেই।

নীরবতার দহন:

বইটির আরেকটি মর্মস্পর্শী কবিতা হলো ‘বোবা কাহিনি’।
এই কবিতায় উঠে এসেছে কবির শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অপমান, অপবাদ ও নীরবতার ইতিহাস।
কবি দেখিয়েছেন—কিভাবে পরিবার, সমাজ এমনকি প্রিয় মানুষও অনেক সত্য উচ্চারণ করতে দেয় না। প্রতিবাদ করতে দেয় না। বরং মুখ বন্ধ করে থাকতে শেখায়।
এই কবিতা শুধু একজন নারীর গল্প নয়। এটি হাজারো নারীর বেদনার নীরব ইতিহাস। এটি এমন এক ইতিহাস যেখানে শারীরিক ও মানসিক চূড়ান্ত অপমানের পরও প্রতিবাদের সুযোগ নেই।

দুঃখের ভেতর জীবনদর্শন:

‘দুঃখেরা খোরপোশ চায় চায়’ মূলত এক গভীর জীবনদর্শনের কবিতার বই। এখানে দুঃখ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়। এটি সামাজিক বাস্তবতা, সম্পর্কের সংকট, ভালোবাসার অপূর্ণতা এবং মানবিকতার প্রশ্ন।
এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়, দুঃখ যেন জীবনের কাছে তার প্রাপ্য দাবি জানায়। যেন দুঃখও খোরপোশ চায়।
তাই নূর কামরুন নাহারের কবিতায় একই সঙ্গে আছে প্রেম ও প্রতিবাদ, বেদনা ও সৌন্দর্য, হারানো ও পাওয়া। তাঁর শব্দগুলো কখনো নরম আলো। কখনো তীক্ষ্ণ প্রশ্ন। কখনো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।

এই বই মনে করিয়ে দেয়, কবিতা শুধু শব্দ নয়, কবিতা হলো জীবনের গোপন সত্যের ভাষা। আর সেই সত্য উচ্চারণের সাহস যার আছে তিনিই প্রকৃত কবি।

তাই ‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়’ কবিতার বই শুধু এক কবিতার বই নয়। এটি এক নারীর জীবনদর্শন। এক সমাজের প্রতিচ্ছবি। এক কবির সাহসী উচ্চারণ।
নূরাপা আপনি লিখে যান ততদিন যতদিন বেচেঁ থাকেন।
অভিনন্দন ও শুভ কামনা।

দুঃখেরা দুঃখেরা যখন জীবনের কাছে খোরপোশ চায়-নূর কামরুন নাহারের কবিতায় জীবন, প্রেম ও প্রতিরোধ…

কবিতা জীবন ও কল্পনার অভিব্যক্তি। নীরব শব্দগুলোর অপূর্ব বিন্যাস। সেই শব্দগুলো হতে পারে প্রেমের, বেদনার, সংগ্রামের, স্বপ্নের অথবা বেঁচে থাকার। জীবনের সত্য ও সুন্দরের উপলব্ধি রূপ নেয় কবিতায়।

একজন চিত্রশিল্পী যেমন রংতুলি দিয়ে ছবি আঁকেন তেমনি একজন কবি শব্দ দিয়ে আবেগ, ভালোবাসা ও দ্রোহের ব্যঞ্জনা তৈরি করেন। একটি সুন্দর কবিতা জীবনকে একাত্ব করে। উন্মেষ ঘটায় নতুন বোধের। নতুন ভাবনার।
এমনি করে ভালোবাসা ও আবেগ থেকে রচিত হয় কবিতা। একটি ভালো কবিতা জীবন ও সমাজের মেরুকরণে পথ দেখায়। একজন কবি সুখ-দুঃখ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেন।

কবিতার এই সত্য সুন্দরের ধারাতেই যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কথাসাহিত্যিক, গল্পকার, উপন্যাসিক ও সংগঠক নূর কামরুন নাহার। সাহিত্যাঙ্গনে তিনি এক অনন্য সৃজনশীল কর্মী। নিবেদিতপ্রাণ।

এবার অমর একুশে বইমেলায় ‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়।’ শিরোনামে প্রকাশ হয়েছে তাঁর এক অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ। দেশে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে কবিতার বই তেমন বিক্রি হয় না। পাঠক যেন কবিতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু নূর কামরুন নাহারের কবিতার বই বলছে অন্য কথা।
পাঠকের আগ্রহ, কৌতূহল ও আলোচনায় বইটি দ্রুতই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। খুব দ্রুতই হয়তো তাঁর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাবে।
এটা প্রমাণ করে যে, মানুষ এখনো কবিতা পড়ে। যদি সেই কবিতায় নিজের জীবনের প্রতিধ্বনি খুঁজে পায়।

‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়।’ বইয়ের কবিতাগুলো কবির নিজের জীবনের গভীর অনুভবের বহিঃপ্রকাশ। কবিতাগুলোয় তাঁর শৈশব, কৈশোর, প্রেম, অপমান, সংগ্রাম ও সময়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে কবিতাগুলো কেবল সাহিত্যের অলংকার না হয়ে জীবনের গভীর সত্যে রূপ নিয়েছে।

নারীর প্রতি লালশা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব:

তাঁর একটি অন্যতম কবিতার শিরোনাম ‘কোনো কোনো মানুষের মাংসে অরুচি’।
এ কবিতায় কবি সমাজের এক গভীর মনস্তত্ত্ব উন্মোচন করেছেন।
মানুষ তার ধর্ম, সংস্কার ও রুচির কারণে অনেকে অনেক মাংস খায় না। কিন্তু নারী দেহের ক্ষেত্রে যেন এই বিচার নেই ।
কবিতাটি আসলে এক তীব্র সামাজিক রূপক। এখানে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। কবি যেন বলতে চান, নারীর প্রতি লালসা ও শোষণের ক্ষেত্রে কারও নৈতিকতা থকে না।

হৃদয়হীন ভালোবাসার গল্প:

কবির আরেকটি বিশেষ কবিতা হলো ‘সব মাংসের ক্রেতা’।
এখানে কবি একটি মাংসের দোকানের দৃশ্যকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
দোকানে বিভিন্ন ধরনের মাংস ঝুলে থাকে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাংস কেনে। কিন্তু কবি যখন বলেন—তিনি কলিজা বিক্রি করতে চান, তখন কেউ তা কিনতে চায় না।
এই প্রতীকীর মধ্য দিয়ে মানুষের
ভালোবাসার দৈন্যতা দেখিয়েছেন। মানুষ শরীর চায়। কিন্তু হৃদয় চায় না। নারীকে কামনা করে। কিন্তু তাকে বোঝে না। কবিতাটি সম্পর্কের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। যেখানে শরীরের চাহিদা আছে। কিন্তু হৃদয়ের দায়বদ্ধতা নেই।

নীরবতার দহন:

বইটির আরেকটি মর্মস্পর্শী কবিতা হলো ‘বোবা কাহিনি’।
এই কবিতায় উঠে এসেছে কবির শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অপমান, অপবাদ ও নীরবতার ইতিহাস।
কবি দেখিয়েছেন—কিভাবে পরিবার, সমাজ এমনকি প্রিয় মানুষও অনেক সত্য উচ্চারণ করতে দেয় না। প্রতিবাদ করতে দেয় না। বরং মুখ বন্ধ করে থাকতে শেখায়।
এই কবিতা শুধু একজন নারীর গল্প নয়। এটি হাজারো নারীর বেদনার নীরব ইতিহাস। এটি এমন এক ইতিহাস যেখানে শারীরিক ও মানসিক চূড়ান্ত অপমানের পরও প্রতিবাদের সুযোগ নেই।

দুঃখের ভেতর জীবনদর্শন:

‘দুঃখেরা খোরপোশ চায় চায়’ মূলত এক গভীর জীবনদর্শনের কবিতার বই। এখানে দুঃখ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়। এটি সামাজিক বাস্তবতা, সম্পর্কের সংকট, ভালোবাসার অপূর্ণতা এবং মানবিকতার প্রশ্ন।
এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়, দুঃখ যেন জীবনের কাছে তার প্রাপ্য দাবি জানায়। যেন দুঃখও খোরপোশ চায়।
তাই নূর কামরুন নাহারের কবিতায় একই সঙ্গে আছে প্রেম ও প্রতিবাদ, বেদনা ও সৌন্দর্য, হারানো ও পাওয়া। তাঁর শব্দগুলো কখনো নরম আলো। কখনো তীক্ষ্ণ প্রশ্ন। কখনো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।

এই বই মনে করিয়ে দেয়, কবিতা শুধু শব্দ নয়, কবিতা হলো জীবনের গোপন সত্যের ভাষা। আর সেই সত্য উচ্চারণের সাহস যার আছে তিনিই প্রকৃত কবি।

তাই ‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়’ কবিতার বই শুধু এক কবিতার বই নয়। এটি এক নারীর জীবনদর্শন। এক সমাজের প্রতিচ্ছবি। এক কবির সাহসী উচ্চারণ।
নূরাপা আপনি লিখে যান ততদিন যতদিন বেচেঁ থাকেন।
অভিনন্দন ও শুভ কামনা।। যখন জীবনের কাছে খোরপোশ চায়-নূর কামরুন নাহারের কবিতায় জীবন, প্রেম ও প্রতিরোধ…

কবিতা জীবন ও কল্পনার অভিব্যক্তি। নীরব শব্দগুলোর অপূর্ব বিন্যাস। সেই শব্দগুলো হতে পারে প্রেমের, বেদনার, সংগ্রামের, স্বপ্নের অথবা বেঁচে থাকার। জীবনের সত্য ও সুন্দরের উপলব্ধি রূপ নেয় কবিতায়।

একজন চিত্রশিল্পী যেমন রংতুলি দিয়ে ছবি আঁকেন তেমনি একজন কবি শব্দ দিয়ে আবেগ, ভালোবাসা ও দ্রোহের ব্যঞ্জনা তৈরি করেন। একটি সুন্দর কবিতা জীবনকে একাত্ব করে। উন্মেষ ঘটায় নতুন বোধের। নতুন ভাবনার।
এমনি করে ভালোবাসা ও আবেগ থেকে রচিত হয় কবিতা। একটি ভালো কবিতা জীবন ও সমাজের মেরুকরণে পথ দেখায়। একজন কবি সুখ-দুঃখ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেন।

কবিতার এই সত্য সুন্দরের ধারাতেই যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কথাসাহিত্যিক, গল্পকার, উপন্যাসিক ও সংগঠক নূর কামরুন নাহার। সাহিত্যাঙ্গনে তিনি এক অনন্য সৃজনশীল কর্মী। নিবেদিতপ্রাণ।

এবার অমর একুশে বইমেলায় ‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়।’ শিরোনামে প্রকাশ হয়েছে তাঁর এক অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ। দেশে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে কবিতার বই তেমন বিক্রি হয় না। পাঠক যেন কবিতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু নূর কামরুন নাহারের কবিতার বই বলছে অন্য কথা।
পাঠকের আগ্রহ, কৌতূহল ও আলোচনায় বইটি দ্রুতই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। খুব দ্রুতই হয়তো তাঁর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাবে।
এটা প্রমাণ করে যে, মানুষ এখনো কবিতা পড়ে। যদি সেই কবিতায় নিজের জীবনের প্রতিধ্বনি খুঁজে পায়।

‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়।’ বইয়ের কবিতাগুলো কবির নিজের জীবনের গভীর অনুভবের বহিঃপ্রকাশ। কবিতাগুলোয় তাঁর শৈশব, কৈশোর, প্রেম, অপমান, সংগ্রাম ও সময়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে কবিতাগুলো কেবল সাহিত্যের অলংকার না হয়ে জীবনের গভীর সত্যে রূপ নিয়েছে।

নারীর প্রতি লালশা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব:

তাঁর একটি অন্যতম কবিতার শিরোনাম ‘কোনো কোনো মানুষের মাংসে অরুচি’।
এ কবিতায় কবি সমাজের এক গভীর মনস্তত্ত্ব উন্মোচন করেছেন।
মানুষ তার ধর্ম, সংস্কার ও রুচির কারণে অনেকে অনেক মাংস খায় না। কিন্তু নারী দেহের ক্ষেত্রে যেন এই বিচার নেই ।
কবিতাটি আসলে এক তীব্র সামাজিক রূপক। এখানে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। কবি যেন বলতে চান, নারীর প্রতি লালসা ও শোষণের ক্ষেত্রে কারও নৈতিকতা থকে না।

হৃদয়হীন ভালোবাসার গল্প:

কবির আরেকটি বিশেষ কবিতা হলো ‘সব মাংসের ক্রেতা’।
এখানে কবি একটি মাংসের দোকানের দৃশ্যকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
দোকানে বিভিন্ন ধরনের মাংস ঝুলে থাকে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাংস কেনে। কিন্তু কবি যখন বলেন—তিনি কলিজা বিক্রি করতে চান, তখন কেউ তা কিনতে চায় না।
এই প্রতীকীর মধ্য দিয়ে মানুষের
ভালোবাসার দৈন্যতা দেখিয়েছেন। মানুষ শরীর চায়। কিন্তু হৃদয় চায় না। নারীকে কামনা করে। কিন্তু তাকে বোঝে না। কবিতাটি সম্পর্কের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। যেখানে শরীরের চাহিদা আছে। কিন্তু হৃদয়ের দায়বদ্ধতা নেই।

নীরবতার দহন:

বইটির আরেকটি মর্মস্পর্শী কবিতা হলো ‘বোবা কাহিনি’।
এই কবিতায় উঠে এসেছে কবির শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অপমান, অপবাদ ও নীরবতার ইতিহাস।
কবি দেখিয়েছেন—কিভাবে পরিবার, সমাজ এমনকি প্রিয় মানুষও অনেক সত্য উচ্চারণ করতে দেয় না। প্রতিবাদ করতে দেয় না। বরং মুখ বন্ধ করে থাকতে শেখায়।
এই কবিতা শুধু একজন নারীর গল্প নয়। এটি হাজারো নারীর বেদনার নীরব ইতিহাস। এটি এমন এক ইতিহাস যেখানে শারীরিক ও মানসিক চূড়ান্ত অপমানের পরও প্রতিবাদের সুযোগ নেই।

দুঃখের ভেতর জীবনদর্শন:

‘দুঃখেরা খোরপোশ চায় চায়’ মূলত এক গভীর জীবনদর্শনের কবিতার বই। এখানে দুঃখ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়। এটি সামাজিক বাস্তবতা, সম্পর্কের সংকট, ভালোবাসার অপূর্ণতা এবং মানবিকতার প্রশ্ন।
এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়, দুঃখ যেন জীবনের কাছে তার প্রাপ্য দাবি জানায়। যেন দুঃখও খোরপোশ চায়।
তাই নূর কামরুন নাহারের কবিতায় একই সঙ্গে আছে প্রেম ও প্রতিবাদ, বেদনা ও সৌন্দর্য, হারানো ও পাওয়া। তাঁর শব্দগুলো কখনো নরম আলো। কখনো তীক্ষ্ণ প্রশ্ন। কখনো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।

এই বই মনে করিয়ে দেয়, কবিতা শুধু শব্দ নয়, কবিতা হলো জীবনের গোপন সত্যের ভাষা। আর সেই সত্য উচ্চারণের সাহস যার আছে তিনিই প্রকৃত কবি।

তাই ‘দুঃখেরা খোরপোশ চায়’ কবিতার বই শুধু এক কবিতার বই নয়। এটি এক নারীর জীবনদর্শন। এক সমাজের প্রতিচ্ছবি। এক কবির সাহসী উচ্চারণ।
নূরাপা আপনি লিখে যান ততদিন যতদিন বেচেঁ থাকেন।
অভিনন্দন ও শুভ কামনা।।

- Advertisement -spot_img
আরও সংবাদ
- Advertisement -spot_img
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here