মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
Homeজাতীয়আফতাব উদ্দিন চৌধুরীর অবদানে নির্মিত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক

আফতাব উদ্দিন চৌধুরীর অবদানে নির্মিত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক

ফারহানা চৌধুরী

বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে এক উজ্জ্বল নাম ছিলেন আফতাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি ও জনকল্যাণমূলক মানসিকতার এক অনন্য সমন্বয় তাঁর জীবনকে করে তুলেছিল বহুমাত্রিক ও গৌরবময়।

১৯১২ সালের ১ মার্চ, তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ধামশুরে এক বাঙালি মুসলিম জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম।

পিতা খান আবেদ উল্যাহ চৌধুরী এবং মাতা হালিমুন্নেছা চৌধুরীর একমাত্র পুত্র হিসেবে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষার আদর্শে বেড়ে ওঠেন।

শৈশব থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি ও সমাজসেবার মানসিকতা তাঁর চরিত্রে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও দায়িত্বশীল এক নেতা। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ৪র্থ জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে জনগণের দাবি ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তাঁর উদ্যোগ ও প্রস্তাবের ফলেই আইয়ুব খানের শাসনামলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক নির্মিত হয়, যা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত
উন্মোচন করে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অবদান রাখেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার স্বীকৃতি লাভ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক—রাষ্ট্রীয় স্বার্থরক্ষায় তাঁর বিচক্ষণতা ও কৌশলী ভূমিকা সমাদৃত ছিল।

শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান অনন্য। ১৯৪৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়—যা আজও এলাকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষার প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে, তিনি কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন সমাজগঠনের এক নিবেদিত প্রাণ কারিগর।

তাঁর আদর্শ ও কর্মধারা পরবর্তী প্রজন্মেও প্রভাব বিস্তার করে। তাঁর সন্তান আমান উল্লাহ চৌধুরী(দুলু মিয়া) ৩ বারের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পারিবারিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখেন।

১৯৮৫ সালের ২৪ জুলাই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তবে তাঁর কর্মময় জীবন, জনকল্যাণে অবদান এবং উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে ময়মনসিংহসহ সমগ্র বাংলাদেশের ইতিহাসে। আফতাব উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব—যাঁর জীবন আমাদের শেখায় দায়িত্ববোধ, সততা ও জনসেবার।আমাদের দাদা আমাদের গর্ব পুরে ময়মনসিংহের গর্ব। অনেক ধন্যবাদ সিপিজি।

- Advertisement -spot_img
আরও সংবাদ
- Advertisement -spot_img
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here