কোথায় খুঁজে পাই সেই আসল স্বাদের বৈশাখ?
শহর জুড়ে এখন শুধু মেকি উৎসবের জাঁক।
রঙিন মুখোশ, কৃত্রিম হাসি, আর সাজানো সব মেলা,
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চলে যান্ত্রিকতার খেলা।
ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাই এই কৃত্রিমতায় ভরা রাখঢাক,
শহর ছাড়িয়ে মনটা আজ মাটির গন্ধে হারিয়ে যাক।
চাই না কোনো বিলাসী আয়োজন, না কোনো লোকদেখানো গান,
ফিরিয়ে দাও সেই চৈত্রের শেষ আর বোশেখ-এর ভোরে কিষাণ-প্রাণ।
কোথায় সেই তপ্ত রোদে নিম ফলের তিতো ঘ্রাণ?
কালবোশেখীর ঝাপটায় সেই আম কুড়োনোর টান?
পান্তা-ইলিশ এখন শুধুই একবেলার ফ্যাশন-বিলাস,
হারিয়ে গেছে গ্রামীণ হাটের সেই চিরাচরিত হাঁসফাঁস।
খুঁজি সেই রোদে পোড়া দুপুরে উদাস করা বাউরি বাতাস,
যেখানে ঝরা পাতার শব্দে বাজে বিরহী দীর্ঘশ্বাস।
আজ কর্পোরেট মোড়কে ঢাকা পড়ে গেছে পহেলা বৈশাখ,
স্মৃতিরা ধুঁকছে ঘরের কোণে, হৃদয়ে জমছে বিষাদের খাক।
কোথায় সেই হালখাতার পাতা, লাল মলাটের মিষ্টি ঘ্রাণ?
যেখানে দেনা-পাওনা ছাপিয়ে জেগে থাকত ভালোবাসা-মান।
আজ সব হিসেব কড়ায়-গণ্ডায়, সব আয়োজন স্রেফ প্রচার,
মানুষে-মানুষে দূরত্ব বাড়ে, বাড়ে দেয়াল আর মায়ার আকাল।
এসো হে বৈশাখ, তুমি রুদ্র হয়েই আবার ফিরে আসো,
সব মিথ্যে আভিজাত্য তোমার কালনাগিনী ঝড়ে ভাসাও।
ধুয়ে যাক মনের কালি, মুছে যাক সব নাগরিক আড়াল,
তপ্ত ধুলোয় খুঁজে পাই যেন হারানো শৈশবের সেই হারাল।
ফিরে আসুক সেই চৈত্র সংক্রান্তির গাজন আর মেলা,
মাটির পুতুল আর বাতাসা নিয়ে সারাটি দুপুর খেলা।
আসল বৈশাখ আসুক ফিরে সাধারণের প্রাণের সুরে,
কৃত্রিমতার জাল ছিঁড়ে যেন প্রাণের স্পন্দন বাজে অদূরে।
(পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩)



