মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
Homeঅন্যান্যতারতাপাড়া মাদারগঞ্জে গ্যাসের আগুন উদ্ভাসিত, পাওয়া গেছে অপরিশোধিত তেলেরও সম্ভাব্য অস্তিত্ব

তারতাপাড়া মাদারগঞ্জে গ্যাসের আগুন উদ্ভাসিত, পাওয়া গেছে অপরিশোধিত তেলেরও সম্ভাব্য অস্তিত্ব

নুর মোহাম্মদ, সম্পাদক- বিবি২৪ডটকম

দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর অনেক জল্পনা কল্পনার মধ্যদিয়ে অবশেষে ২০১৭ সালে তারতাপাড়া এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্প শুরুর কাজের সফলতা এনে দিলো বাপেক্স।

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়ায় গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পে সফলতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ এলাকাবাসী খুবই আনন্দিত। খননকৃত কূপ থেকে প্রাথমিকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পাওয়া গেছে অপরিশোধিত তেলেরও সম্ভাব্য অস্তিত্ব।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই খননকৃত কূপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন কাজ শুরু হয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অনুযায়ী এই কূপটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, “তারতাপাড়ায় গ্যাসের উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সেই সাথে আরও আনন্দের খবর হচ্ছে—গ্যাসের পাশাপাশি আমরা তেলের নমুনাও লক্ষ্য করছি যা কিনা পরবর্তীতে নিশ্চিত করে বলা যাবে।”
স্থানীয় এলাকাবাসীগণ আনন্দের সাথে আশা করে এ আবিষ্কার এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ পাবে একটা বড় অংকের খনিজ সম্পদ।
উল্লেখ্য যে, পেট্রোবাংলার রূপকল্প-৩ প্রকল্পের আওতায় মাদারগঞ্জ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৭ সালে তারতাপাড়া এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পের কাজ শুরম্ন করা হয়। ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পে প্রায় ৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন এবং লিংক রোড নির্মাণ কাজ শেষে আজারবাইজানের গ্যাস কূপ খনন প্রতিষ্ঠান সকার (স্টেট ওয়েল কোম্পানী অব দ্যা আজারবাইজান রিপাবলিক) খনন কাজ না করেই চলে যায়। এ অবস্থায় দীর্ঘ ৭বছর পর জামালপুর-১ নামে প্রকল্পের আওতায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পের খনন কাজ শুরু করা হয়।
খনন কাজ উদ্ভোদন এর সময় বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জামালপুর-মাদারগঞ্জ এলাকায় ১৯৮৪ সালে সংগৃহীত সাইসমিক উপাত্ত থেকে সর্বপ্রথম লিড/প্রসপেক্ট এর ধারনা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০১৪-১৫ মাঠ মৌসুমে উক্ত এলাকায় দ্বিমাত্রিক সাইসমিক জরিপ এবং ২০১৫-১৬ সালে ক্লোজ-গ্রিড সাইসমিক সার্ভে সম্পন্ন করা হয়।
জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপটির গভীরতা ২৮০০ মিটার (+২০০মি)। সংগৃহীত ২ডি সাইসমিক উপাত্ত, নিকটবর্তী খনককৃত হাজিপুর-১, বগুড়া-১ ও ২ কূপের খনন ও ভূতাত্বিক উপাত্ত অনুযায়ী জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ থেকে বানিজ্যিক গ্যাস আবিষ্কৃত হলে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হবে ২৮০বিসিএফ যার মূল্য ভোক্তা পর্যায় বিবেচনায় ১৬ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা (বাপেক্সের মার্জিন বিবেচনায় ৩১৭১কোটি টাকা। কূপটি খনন করতে ১৬৭ কোটি ৪২লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের দিকে খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আলহামদুলিল্লাহ বাপেক্সেরবেধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়িত হলো। গত শুক্রবার গ্যাস উত্তোলনের সময় জানান, এ কূপ থেকে দৈনিক ১০এমএমএসসিএফ গ্যাস উত্তোলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্যাস পাওয়া গেলে আনুমানিক ২৫-৩০ বছর গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এ কূপে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে শেরপুর ও ঘাটাইল আরো ৩টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- Advertisement -spot_img
আরও সংবাদ
- Advertisement -spot_img
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here