আমাদের সম্মুখে সম্ভ্রান্ত বাংলাদেশ
পেছনে হাজার শহীদের রক্তাক্ত বিপ্লব
ডানে বাঁয়ে দ্বিধাগ্রস্ত শঙ্কিত জনতা
সময়ের বুকে পা চেপে নতুন মীরজাফর
আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে-
আমরা এখন কোন পক্ষে যাবো!
লোলুপদের হুংকারে কম্পিত জনপদ!
অস্থির, অবিশ্বস্ত সময়ের ঝড়ে শঙ্কিত!
রাজনীতির চোখে সংশয়ের ফণা!
কেউ নেই কারো আস্থার সরোবরে
আমাদের বুঝতেই হবে-
আমরা এখন কোন পক্ষে যাবো!
এইতো আমাদের সামনে অনলবর্ষী আগামী!
সাহসী জনপদে আমরা বিস্ময় যাত্রী।
আমরাই বাংলাদেশ, আগামী এশিয়ার কণ্ঠস্বর
যারা রুদ্ধ করে আমাদের পথ,
রুখে দিতে হবে তাদের
আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে-
আমরা এখন কোন পক্ষে যাবো!
এই নদীমাতৃক ভাটিবাংলার শ্যামল কুঞ্জে
আমরা রুয়ে দিয়েছি আমাদের প্রেমের বীজ
বহমান বাংলাদেশের ছিটানো গ্রাম থেকে
ফসল আর বুনোপাতার ঘ্রাণে আমরা মুখর
আমরা আধুনিক নগরকে আমাদের গঞ্জের
আঁচল দিয়েই মুড়িয়ে রাখি
আমরা আমাদের মেঠোপথের প্রতি মুগ্ধ
আমাদের পাখির সংগীতের প্রতি অনুরাগী
আমাদের মানুষের প্রতি বিশ্বস্ত
তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে-
আমরা এখন কোন পক্ষে যাবো!
এই কোমল মাটির ঘাসেগন্ধে ঢেলেছি প্রাণ
বুকের কাছে শিশিরস্নাত ভোরের মুখ
কোনো বিশ্বাস ঘাতকের নয় এ মাটি
এ মাটিই আমরা মেখেছি হৃদয়ের সাথে
মেখে রাখি মহত্ত্বের মমতায়
ঔদার্যের ঐতিহ্যে আমরা খোলা বই
সম্মান শ্রদ্ধায় পাঠ করুক কেউ
পাঠ করলেই পাবে আমরা নিতান্ত সরল,
সৌম্য, সুবাসিত ও শান্তিপ্রিয়,
বন্ধুত্বের প্রতি বিনময়ী বিশ্বাসী
তবে-
বিশ্বাসঘাতকের প্রতি আমাদের কোনো দায় নেই
দালাল, কুলাঙ্গার, মুনাফেকের প্রতি আমরা নির্দয়!
আগ্রাসী চোখের প্রতি আমাদের ঘৃণা
আমরা নিমিষেই নিঃশেষ করি ঘাতকের হাত
তাই আমাদের ভাবতে হবে-
আমরা এখন কোন পক্ষে যাবো!
আমরা পেরিয়ে এসেছি অগুনতি বারুদনদী!
পেরিয়েছি বায়ান্ন, একাত্তর
নব্বই এবং চব্বিশের অমর দরিয়া
আমাদের বিদ্যাপীঠগুলোর সবুজ চত্বর রক্তাক্ত
রাজপথের কালোপিচ তারুণ্যখুনে লাল
আমাদের প্রজন্মের বুক বুলেটে ঝাঁঝরা
বারুদে ছাই ছাই সবুজ পল্লব
আমাদের ভাবতেই হবে-
আমরা এখন কোন পক্ষে যাবো!
এখন আমাদের ফিরতেই হবে-
একমাত্র, কেবলমাত্র, শুধুমাত্র বাংলাদেশ পন্থায়!
অতএব আমাদের থাকতেই হবে বাংলাদেশ-পক্ষে!