বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বিগত কিছু সময় ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নানান কূটনৈতিক দিক। শেখ হাসিনা কিছুদিন আগেই এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে নিজের এক অডিয়ো মাধ্যম বার্তায় অগ্নিগর্ভ বক্তব্য রেখে ইউনুস সরকারের দিকে আঙুল তোলেন। এই দ্বীপে জাতির সেবায় কিছু দিন আগে তাবড় কর্মকাণ্ড চালায় বাংলাদেশের সেনাও। এবার বাংলাদেশের সরকার এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে মুখ খুলল। আর ঢাকা এবার এই সেন্ট মার্টিনে মাস্টারপ্ল্যানের পথে হাঁটছে বলে বার্তা দিয়েছেন ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা।
কিছু দিন আগেই এক অডিয়ো বার্তায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ঘিরে একের পর এক ঝাঁঝালো সওয়াল করেছিলেন শেখ হাসিনা। এক অডিয়ো ক্লিপে হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপেও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম। আজকে কেউ সেন্ট মার্টিনে যেতে পারে না। ওটা কি আর বাংলাদেশে আছে? না নেই? আমি সেই জবাব চাই ইউনুসের কাছে। ড. ইউনুস বলেন.. সেন্ট মার্টিন কোথায়, কার কাছে বিক্রি করলেন?’ তাঁর দাবি ছিল, সেন্ট মার্টিনের দখল চেয়েছিল আমেরিকা। তবে তাতে রাজি হননি মুজিবকন্যা। এই নিয়েই তিনি ইউনুসের কাছে তোলেন প্রশ্ন।
এদিকে, বাংলাদেশের সেনার তরফেও কিছুদিন আগে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে এক তাবড় কর্মকাণ্ড চালানো হয়। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টি সহ একাধিক জায়গা কিছুদিন আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সেই সেন্টমার্টিনে কয়েক হাজার পরিবারকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার কাজে নামে বাংলাদেশের সেনা। বাংলাদেশের নৌবাহিনী জাহাজ ‘বানৌজা সমুদ্র জয়’ চট্টগ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছায়। চলে সেবার এই কর্মকাণ্ড। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে এক্স @BDArmyOfficial)
এবার সেন্ট মার্টিন নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং জল সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানিয়েছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের চিন্তাভাবনায় রয়েছে ইউনুস সরকার।
রিজওয়ানা বলেন,’ সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। দ্বীপটি নিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের চিন্তা চলছে। এ লক্ষ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে একটি প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন,’ সেন্ট মার্টিন নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। এই দ্বীপটিকে সুরক্ষা দিতে পারলে সব আশঙ্কা দূর হবে। দ্বীপটি রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার।’



