বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
Homeগণমাধ্যমনিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার মধ্যস্থতায় তিন দলের আসন সমঝোতার বৈঠক?

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার মধ্যস্থতায় তিন দলের আসন সমঝোতার বৈঠক?

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন দেশের তিনটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় ছয়জন নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে দলগুলোকে কাছাকাছি আনতে এবং এর অংশ হিসেবে আসন সমঝোতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে এই সফরে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়েছেন।
তিন রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি সফরে রাজনৈতিক নেতাদের কী প্রয়োজন সেখানে। আবার কেউ কেউ একে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবে। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে দলীয় সরকারের সময়ও এই ধারা যেন বজায় থাকে।
তবে এসব মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ভিন্নরকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির আলোচনা হবে নিউইয়র্কে। নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজন তরুণদের দল মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। তাই আসন ভাগাভাগিতে তাদেরও রাখতে চান তিনি।
দেশের বদলে নিউইয়র্কে বসে এই আলোচনার বড় সুবিধার কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা। এতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ ডেস্কের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করবেন। তারা থাকবেন বলেই প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে কাজ করেছে দেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন কর্মসূচি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন আসন ভাগাভাগির দর-কষাকষিরই অংশ। কারণ আগামী নির্বাচনে ভোট বাড়লেও জামায়াতে ইসলামীর আসন বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সারাদেশে ২০ শতাংশ ভোট পেলেও সরাসরি নির্বাচনে তারা পেতে পারে বড়জোর ২৫টি আসন। অথচ পিআর পদ্ধতিতে এই ২০ শতাংশ ভোটেই তাদের আসন দাঁড়াবে ৬০টি।
তবে জামায়াতে ইসলামীর দাবি আরো বেশি। এই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে জনমত জরিপ করিয়েছে তারা। আর এসব জনমত জরিপ বলছে, জামায়াতের ভোট এখন গড়ে ৩০ শতাংশ। এই হিসাবে পিআর পদ্ধতিতে তাদের আসন হবে ৯০টি। আর প্রাপ্ত ভোট ২৫ শতাংশ হলেও আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫। সম্প্রতি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকেও নিজেদের দাবির পক্ষে দাঁড় করাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে আন্দোলনের নামে জামায়াতে ইসলামী জোরেশোরে মাঠে নামলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা কমে যাবে। কারণ আরেক দিকে মাঠে বাড়তে থাকবে পতিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও চোরাগোপ্তা কার্যক্রম। তেমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন পিছিয়ে গেলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি। তাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিকে চাপে ফেলতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী।
এই চাপ উতরানোর পথ জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতা। দেশে বসে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এই আলোচনার সুযোগ কমে গেছে। কারণ আওয়ামী লীগহীন মাঠে দৃশ্যত জামায়াত এখন বিএনপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই আসন সমঝোতা বা আসন ভাগাভাগির এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
সরাসরি নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও জামায়াতে ইসলামীকে অন্তত ৬০টি আসন দিতে হবে- এমনটাই আলোচনা শোনা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দিতে হবে গোটা দশেক আসন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট হবে না। তাহলে জামায়াতকে কীভাবে আসন ছাড়বে বিএনপি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার মধ্যস্থতায় সেই আলোচনাও হতে পারে। যেসব আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হবে, সেসব আসনে বিএনপি নিজেদের প্রার্থী দেবে না। তার বদলে আসনগুলো তাদের আন্দোলনের সঙ্গী গণফোরাম, এলডিপি, নাগরিক সংহতির মতো ছোট দলগুলোকে ছেড়ে দেবে। এসব দলের প্রার্থী হবে খুবই দুর্বল। কেননা নির্বাচন কমিশনের নিয়মের কারণে দলগুলোকে নিজের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে জোট করলেও তারা ধানের শীষ প্রতীক পাবে না। আর বিএনপির কর্মীরাও যে তাদের পক্ষে মাঠে নামবে না, সেটা তো অনুমেয়ই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এই ব্যাখ্যা কতটা সঠিক, প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরে এলে বোঝা যাবে।
আসন ভাগাভাগির আলোচনা সফল হলে পিআর পদ্ধতির আন্দোলন থেকে জামায়াতে ইসলামী ধীরে ধীরে সরে আসবে। এমন ধারণা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
- Advertisement -spot_img
আরও সংবাদ
- Advertisement -spot_img
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here